Race Gurram (2014)- ছুটির দিনের মুভি- স্টাইলিশ স্টারের ছবি দেখুন

0
550
ছুটির দিনের মুভি- Race Gurram (2014)- স্টাইলিশ স্টারের ছবি দেখুন- probashijibon

Race Gurram (2014)- ছুটির দিনের মুভি- স্টাইলিশ স্টারের ছবি দেখুন:

প্রথমেই বলে নেই, আমি আল্লু অর্জুনের ডাই হার্ড ফ্যান এবং এটি আমার দেখা সেরা একটি সিনেমা। অরজিনাল তেলুগু নামঃ Race Gurram (2014), হিন্দি ডাবঃ Main Hoon Lucky: The Racer ।অনেকবার দেখা হয়ে গেলেও, এখনো বিরক্তি অনুভব করিনি। বরংচ ভবিষ্যতে আরো কয়েকবার দেখার আশা রাখি।

Race Gurram (2014)- ছুটির দিনের মুভি- স্টাইলিশ স্টারের ছবি দেখুন
Race Gurram (2014)- ছুটির দিনের মুভি- স্টাইলিশ স্টারের ছবি দেখুন

প্লটঃ

রাম (শাম) আর লক্ষ্মণ/লাকি (আল্লু অর্জুন) দুই ভাই। রামায়ণের মতো এখানেও রাম বড়, লক্ষ্মণ ছোট। তবে, রামায়াণের মতো এখানে দুই ভাইয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক নেই! বরঞ্চ তাদের ভেতরকার লড়াই টম এন্ড জেরিকেও হার মানায়। ছোটবেলায় রাম ক্লাসে ফার্স্ট হয়েছে, তো লাকি লাস্ট! খেলাধুলায় রাম প্রাইজ পায়, লাকির এদিকে কোনো মনোযোগই নেয়। এখন বড় হয়েও তাদের চিন্তাভাবনা, কাজ-কর্ম সব বিপরীত। রাম পুলিশ হিসেবে চাকরি নিয়েছে, সে চায় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে। অন্যদিকে লাকি চায় জীবনকে নিজের মতো করে উপভোগ কর‍তে পারে। এক কথায় একজন হচ্ছে বাইনারী পদ্ধতির 1, আরেকজন 0!

শিভা রেড্ডি (রবি কিষাণ) একজন উঠতি রাজনৈতিক নেতা। যে মন্ত্রী পদে নির্বাচনে দাঁড়ায়। কাহিনিসূত্রে তার সাথে টক্কর বাঁধে পুলিশ অফিসার রামের। শিভা রেড্ডির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে, শিভার করা অপকর্মের সাক্ষ্য কালেক্ট করে।

শিভা রেড্ডির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় রাম। তাই রামকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় শিভা রেড্ডি। রাম যখন সাক্ষ্য নিয়ে কালেক্টর অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়, তখন গাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার প্ল্যান বানায়! কিন্তু কাহিনিসূত্রে গাড়িতে যখন আক্রমণ করা হয়, তখন গাড়িতে রাম ছিলো না, ছিলো লাকি। আহত হলেও বেঁচে যায় লাকি এবং বুঝতে পারে, আক্রমণ করা হয়েছিলো তার বড় ভাই রামের উদ্দেশ্যে!

লক্ষ্মণ বরাবরই চেয়ে আসছে রামকে শিক্ষা দিতে। তাহলে এটাই কি সুযোগ?? নাকি উল্টো শিভা রেড্ডিকেই শিক্ষা দিতে চাইবে লাকি?? মন্ত্রী কি হতে পারলো শিভা রেড্ডি?? — জানতে হলে দেখুন “রেস গারাম”।

পারফেক্ট মাস এন্টারটেইনার! অ্যাকশান-কমেডি সিনেমা। কয়েকটি ফানি ক্যারেক্টারঃ

লাকি (আল্লু অর্জুন):

লাকি চরিত্রটির মাঝে অনেক মজা পাবেন! আল্লু অর্জুনের “আরিয়া” চরিত্রটির পর, এটাই সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র।

কিল বিল পান্ডে (ব্রহ্মানন্দম):

ব্রাহ্মীদার ক্যারেক্টারটি চরম ফানি! কিল বিল পান্ডে!! বেশি কথা-বার্তা পছন্দ করেন না। একটু যেনো-তেনো হলেই, ডিরেক্ট গুলি করে হত্যা!!

স্পন্দনা (শ্রুতি হাসান):

শ্রুতি হাসানের চরিত্রটিও বেশ মজার। হাসবে, গাইবে, নাচবে- সবকিছুই করবে মনে মনে। অর্থাৎ বাইরে তাকে সবসময় স্বাভাবিক দেখায়। ভয়ে আটোসাটো হয়ে গেলেও, কারো বোঝার উপায় নেই!

এছাড়া প্রকাশ রাজ, রঘু বাবু (ডাকাত), কৃষ্ণা মুরালি (হোম মিনিস্টার, লাকির শুভাকাঙ্খী), আলী (ডাক্তার)– এসব অভিনেতাদের চরিত্রগুলোতেও দারুণ মজা পেয়েছি!!

অভিনয়ঃ

আল্লু অর্জুনের যথারীতি দারুণ অভিনয় করেছে। লুক, এক্সপ্রেশন, ডায়লগ ডেলিভারি- সবই দারুণ ছিলো! অ্যাকশন, কমেডি- সকল সিনেই দারুণ করেছে আল্লু অর্জুন। অসম্ভব ভালো ছিলো রবি কিষাণের অভিনয়! প্রকাশ রাজের ক্যারেক্টারটি খুব বেশি গুরুত্ব বহন করেনা। তারপরেও, সে যেটুকুই ছিলো, নিখুঁত অ্যাক্টিং!! শ্রুতিও ভালো ছিলো। এই মুভি দেখে শ্রুতি হাসানের প্রতি ক্রাশ খেয়েছিলাম! তবে, সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে ব্রহ্মানন্দম। মুভির শেষ ভাগ শুধুই ব্রহ্মানন্দম শো!!

ডিরেকশনঃ

মুভির স্টোরি ছিলো ভাক্কান্থাম ভামসির। ডিরেক্টর ছিলো সুরেন্দর রেড্ডির। আমার কাছে মেকিং ঠিকঠাকই লেগেছে, অর্থাৎ ভালোভাবেই মুভিটি ডিরেক্ট করেছে বলেই আমি মনে করি। সুরেন্দরের অন্যান্য মুভির ভেতর কিক, ওসারাভেল্লি, আথিড়ি খুবই ফেভারিট।

মিউজিকঃ

আমার অন্যতম প্রিয় মিউজিক অ্যালবাম। সবগুলো গানই ফেভারিট। তার মধ্যে ‘সুইটি’ ও ‘সিনেমা ছুপিস্থা মামা’- গান ২টা অন্নেক বেশি ফেভারিট। ‘ডাউন ডাউন ডাপ্পা’ গানটিতে আল্লু অর্জুনের অসাধারণ ড্যান্স ছিলো। মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও দারুণ ছিলো!! বলতে ভুলে গেছি… মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে ছিলো এস থামান। অনেক জনপ্রিয় এবং আমারও প্রিয় একজন।

মুভির রানটাইম কিঞ্চিৎ বেশি! তবে, বোর হওয়ার সুযোগ নেই। গল্পটা আরো একটু ভালো হতে পারতো কি জানিনা  তবে যাই ছিলো, চরম এন্টারটেইনিং ছিলো। আল্লু অর্জুন পুরো মুভিতে অস্থির অভিনয় করেছে!! আমার দেখা ১ম আল্লু অর্জুনের মুভি ছিলো এটি। আর প্রথম দেখায়ই অনেক ভালো লেগে যায়!

যাই হোক যারা মুভিটি দেখেননি, তারা প্লিজ দেখে নিন। মন-মেজাজ চাঙ্গা করতে, এরকম এন্টারটেইনিং মুভির বিকল্প নেই!! সময় নষ্ট হবে না। প্রচুর মজা পাবেন বলেই আমার বিশ্বাস। যারা নতুন নতুন তেলুগু মুভি দেখছেন, তারা আল্লু অর্জুনের ভক্ত হওয়ার পথে একধাপ এগিয়ে যেতে পারেন, এটি দেখে।

IMDb রেটঃ ৭.৪ / ১০
ব্যক্তিগত রেটঃ ৯.৫ /১০

দেখে নিন এখনি সুপার ডুপার বাম্পার এই মুভিটি এক্ষুনি-

ইউটিউব লিংকঃ
ইংরেজী সাবসহ তেলুগু- https://youtube.com/playlist…
হিন্দি ডাব- https://youtube.com/watch?v=J9X1qzjGgUE

 

ফ্যাক্টঃ
মুভিটির আয় ১০০ কোটিরও বেশি! ঐ বছরের সর্বোচ্চ আয় করা তেলুগু সিনেমা।

২০১৫ এর সাউথ ফিল্মফেয়ারে এটি সর্বোচ্চ ৩টি পুরস্কার পায়। সেরা অভিনেতা (আল্লু অর্জুন), সেরা অভিনেত্রী (শ্রুতি হাসান), সেরা গায়ক (সিমহা)। ফিল্মফেয়ার ছাড়াও অন্যান্য অ্যাওয়ার্ডগুলোতেও এটির আধিপত্য দেখা যায়।

Please follow and like us:
20

Comments

comments