নিজেকে সংযত হওয়ার অভিজ্ঞতা পীড়িত কিছু উপদেশ শোনালাম।

0
17
নিজেকে সংযত হওয়ার অভিজ্ঞতা পীড়িত কিছু উপদেশ শোনালাম।

ট্রেন এসে থামল কাটিহার ষ্টেশনে। ট্রেনের জানালা দিয়ে যতদূর দেখা যায় শুধু মানুষের তাড়াহুড়ো। পুরো ট্রেনে আমি একাই শুধু স্থির। তাড়া নেই। আমার পাশে যে দম্পতি এতক্ষণ বসা ছিলেন তারাও নেমে পড়লেন। বিকেলের মায়া, কাটিহারের ধূলো-বালু থেকে নিয়ে ট্রেনের স্লিপার এবং আশেপাশের পরিবেশে একধরণের কষ্ট বিলিয়ে দিচ্ছে। কষ্টটা বড় অদ্ভূত। প্রেমিকার সাথে প্রথমবার দেখা করে ফিরে আসবার সময়ের কষ্টের মতো।
দোকানগুলোতে ঝুলছিলো চানাচুর, পাউরুটি এবং পটেটোর প্যাকেট। ক্রেতাদের আগ্রহ নেই বললেই চলে, শুধু দু’ চারজন ক্ষুধার্ত মানুষকে দেখলাম পাউরুটির দিকে অঙুলি নির্দেশ করছিলো। দোকানির চোখে আনন্দের ঝিলিক। প্রত্যাশার পায়রা উড়তে দেখলে চোখেমুখে যে আনন্দ ছড়ায়…।
.
ট্রেন আবার চলতে শুরু করলো। দেখলাম একজন মহিলা উঠেছেন ওই কামরায়। একজন মানুষ কতোটা সুন্দর হতে পারে চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয়না।সে দৃপ্ত ভঙিমায় চোখ তুলে তাকালো। কিছুক্ষণ অপলক চেয়ে থাকবার ইচ্ছাটা দমাতে পারলাম না। চেয়ে থাকলাম। নারী লজ্জায় রাঙা হলেন। সম্ভবত কিছু বলতে চেয়েও থেমে গেলেন।
নিজেকে সংযত হওয়ার অভিজ্ঞতা পীড়িত কিছু উপদেশ শোনালাম।
.
মনে পড়ছিলো, সময়ের তালে নিজেকে নির্মাণের প্রানান্তকর প্রচেষ্টার কথা। হয়তোবা আমার অগোচরে কেউ একজন মনে করে দিচ্ছিল। সম্ভবত লজ্জায় বিচলিত নারীর চোখগুলো। অথবা ভেতরে বেড়ে ওঠা অনুভব। যাই হোক, সম্ভাষণের পুরোনো সংকট আবারও মাথাচাড়া দেয়ায় কিছু বলা হয়নি তাকে। অথচ, বলতে ইচ্ছে করছিলো, “আপনি খুব সুন্দর”।
সুন্দরের প্রশংসায় যে শব্দগুলো দরকার ছিলো আমি জমাতে ব্যর্থ হচ্ছিলাম বলে নীরবতাকেই বেছে নিলাম।
.
চোখ ফিরিয়ে নিলাম বাইরের বাদামি আলোয়। ট্রেন এগিয়ে যাচ্ছে সাপের গতিতে। জীবনের অধিকাংশ সুন্দর মুহূর্তগুলো এতটা গতিময় হয় বলে আজ জানতে পারলাম। কামনা করছিলাম বৃষ্টি হোক। বৃষ্টি হয়নি। কামনায় বৃষ্টি নামে না। বৃষ্টি নিজের ইচ্ছে অনুসরণ করে। অপরিচিত সুন্দরী নারী চুল খুলে দিলেন। চপল কিশোরীর উদ্যাম নৃত্যের মতো করে চুলগুলো উড়ছিল।
.
মালদহ ষ্টেশন পৌঁছাতে মিনিটখানেক বাকি। আমাদের গল্পের সুন্দরী নারী দাঁড়ালেন, নেমে পড়বার চঞ্চল অভিব্যক্তি চোখজুড়ে! অভিভূত হয়ে গেলাম। বুকের মাঝখানে একটা কোমল-কঠিন অনুভব।
বললেন – চলে যাচ্ছি।
আমি বললাম – আচ্ছা।
আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। ভাবছিলাম এই নারী চলে যাচ্ছি না বললে বরং ভালই হোত।
– আর শুনুন।
– হ্যাঁ বলুন।
– কোন নারীর দিকে এভাবে তাকাতে হয় না।
– কেনো ?
– ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।
এরপর তিনি নেমে গেলেন।
বাতাসজুড়ে নেমে এলো ছন্দের তাল। এতটা আশা করিনি। প্রত্যাশা অতিক্রম করবার সুখ এমন হয় জানতে পেরে কষ্টটা বেড়ে গেলো।

Please follow and like us:
20

Comments

comments