প্রবাসীদের টাকার সিংহভাগই যায় পরিবারের আনন্দের ভোগ বিলাসে

0
3
probashi+shromik+probashi+jibon

প্রবাসী সংবাদঃ

প্রবাসী আয়ের প্রায় সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হচ্ছে ব্যক্তি খাতে বা ভোগবিলাসে। মূলত বাড়ি ঘর নির্মাণ, সংস্কার, জমি কেনা ও ভোগ্যপণ্য কিনতেই সিংহ ভাগ অর্থ ব্যয় করা হয়। বিদেশ থেকে বিশাল অংকের অর্থ দেশে এলেও শিল্প বা উৎপাদন খাতে খুব একটা বিনিয়োগ হচ্ছে না।

ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘প্রবাস আয়ের বিনিয়োগ সম্পর্কিত জরিপ ২০১৬’ এর প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়।

জরিপ থেকে দেখা যায় যে ২০১৫ সালে প্রবাসী আয়ের ৭৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে বাড়িঘর বা ফ্ল্যাট নির্মাণ ও সংস্কার খাতে। অন্যান্য খাতে ১ থেকে ৭ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে।

প্রবাসী+শ্রমিক+probashijibon

প্রবাসী আয় গ্রহণকারী ৫৩ শতাংশ পরিবার এই অর্থ কোথায়ও বিনিয়োগ করে না। বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করছে মাত্র ৪৭ দশমিক ২২ শতাংশ প্রবাস আয় গ্রহণকারী পরিবার। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই সর্বোচ্চ ( ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ) বিনিয়োগ করে। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ (৫১ দশমিক ৭৩ শতাংশ) এবং সর্বনিম্ন বিনিয়োগ (৩৮ দশমিক ২০ শতাংশ) রাজশাহী বিভাগে।

এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে প্রবাসীর আয়ের মধ্যে ৭৬ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ, পরের অবস্থানে বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রামের নাম রয়েছে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রংপুর বিভাগ সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

এছাড়া ২০১৫ সালে প্রবাসীদের বাংলাদেশের পরিবারগুলো গড়ে ৩ লাখ ২ হাজার ১৮৩ টাকা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে নগদ গ্রহণ করেছে গড়ে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৪৯৩ টাকা এবং দ্রব্যমূল্য হিসেবে গড়ে ১২ হাজার ৬৯০ টাকা। প্রাপ্ত গড় প্রবাস আয়ের হিসাবে বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রথম, যার পরের অবস্থানেই রয়েছে সিলেট বিভাগ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন গড় প্রবাস আয় খুলনা বিভাগে।

প্রতিবেদন আরো উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে গৃহীত মোট প্রবাস আয়ের ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবাস আয় গ্রহণকারী পরিবার জাতীয়ভাবে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে। এই বিনিয়োগের হার ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এর পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে বরিশাল ২৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ, খুলনা ২৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম ২৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, সিলেট ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ, রাজশাহী ২২ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ রংপুর বিভাগে।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কেএম মোজাম্মেল হক, পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক আব্দুল ওয়াজেদ প্রমুখ।

 

খবরটি কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা থেকে সংগ্রহীত। এই প্রতিবেদন থেকে খুব সহজেই বোঝা যায় প্রবাসীরা যে অর্থ উপার্জন করে তা দিয়ে আমাদের দেশের মানুষ খুব সহজ সুন্দর স্বাভাবিক জীবন পার করছেন। যদিও প্রবাসীরা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের অর্থই দেশে পাঠিয়ে থাকেন। এতে করে দেশের রেমিট্যান্স ও অনেক বেড়ে যাচ্ছে যা দেশের জন্য অনেক বেশি কল্যাণকর।

সকল প্রবাসীদের প্রতি রইলো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

Please follow and like us:
20

Comments

comments