দেহের ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু মুল্যবান টিপস

0
22

আমাদের মাঝে যারা অনেক বেশি ভারী শরীরের অধিকারি তারা প্রায়ই চায় আমাদের শরীরের ওজন কমাতে। আর এর জন্য আমরা যে কোন কিছুই ছাড় দিতে রাজী থাকি। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা ওজন কমাতে গিয়ে না বুঝে নিজের শরীরের মারাত্নক কিছু ক্ষতি করে ফেলি আমাদের নিজেদের অজান্তে।

দেহের+ওজন+কমানোর+জন্য+প্রয়োজনীয়+কিছু+মুল্যবান+টিপস+প্রবাসীজীবন

 

আজকে আমি নিয়ে এলাম তাদের জন্য যারা দেহের বারতি ওজন কমাতে চান শরীরের কোন ক্ষতি ছারাই। এমন কিছু টিপস নিচে দেয়া হলোঃ

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারঃ

ফাইবার আছে এমন খাবার খান। ফাইবার পানি শুষে নিয়ে আপনাকে তৃপ্ত করে তোলে। হজম শক্তি বাড়ায় ফাইবার। শক্তি সঞ্চয় করে। মটরশুটি জাতীয় খাবারে ফাইবার রয়েছে যা আপনার শরীরের ওজন হ্রাসে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। ওজন কমাতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের তুলনা নেই। আপনার খাদ্যের তালিকায় তাই আজ থেকেই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখুন

দুপুরের ঘুম পরে নয়, আগেঃ

দুপুরে ঘুমানোটা অনেকেরই মারাত্মক একটি বদ অভ্যাস। বিশেষ গৃহিণীরা যারা ঘরে থাকেন, তাঁরা তো অনেকেই লাঞ্চের পর বিকাল পর্যন্ত একটু ঘুমিয়ে নেন। এই কাজটি কখনোই করবেন না। দুপুরের ঘুম আপনার হজম শক্তিকে বাধাগ্রস্থ করে এবং ওজন বৃদ্ধিতে মারাত্মক ভূমিকা রাখে। একান্তই ঘুমাতে হলে লাঞ্চ করার আগে ঘুমিয়ে নিন, এতে কোন অসুবিধা নেই।

 

চা/ কফি পান বিকালেই হোক, লাঞ্চের পর নয়ঃ

ঘুমের ব্যাঘাত হবে ভেবে রাতের বেলা চা/কফি পান করেন কেউই, কিন্তু দুপুরে লাঞ্চের পর চা-কফি পানের অভ্যাস অনেকেরই আছে। বিশেষ করে যারা অফিসে থাকেন, তাদের তো লাঞ্চের পর চা-কফি ছাড়া চলেই না। ওজন কমাতে চাইলে এই অভ্যাসটি ত্যাগ করতে হবে। চায়ের পাতা এসিডিক, যা হজমকে বাধাগ্রস্থ করে। দুপুরে বলাই বাহুল মাছ/মাংস/ডাল ইত্যাদি প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া হয়, চা খাওয়ার ফলে এই প্রোটিন সহজে হজম হয় না। এছাড়া খাবার থেকে আয়রন শোষণেও বাঁধা দেয় চা। এছাড়া চায়ের দুধ-চিনির বাড়তি ক্যালোরি তো আছেই।

লাঞ্চের পর কায়িক পরিশ্রমের আছে নিয়মঃ

অনেকেই দুপুরের পর হাঁটতে যান বা ব্যায়াম করেন, যেহেতু রাতে সেটা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান, তাঁরা তো অবশ্যই করেন এটা। অফিসে থাকলেও অনেকে দুপুরে খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করেন এই ভেবে যে এতে বাড়তি ক্যালোরি ঝরিয়ে ফেলা যাবে। অথচ ফলাফল কিন্তু হয় উল্টো! হ্যাঁ, খাওয়ার পর হাঁটা ভালো, এটা খাবার হজম করতে এবং ওজন কমাতে খুব সহায়ক। কিন্তু হাঁটা আপনাকে হাঁটতে হবে খাওয়ার অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর। খুব জোরে হাঁটা চলবে না, কেবল হালকা পায়চারী। এবং অবশ্যই কোন ভারী ব্যায়াম বা পরিশ্রম করবেন না। এতে হজমে সমস্যা, বুক জ্বালা পোড়া, এসিডিটি ইত্যাদি নানান সমস্যা দেখা দেবে।

পানি পান করুনঃ

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুণ। প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার ফলে পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকে। এছাড়াও পানি পানের ফলে ফ্যাট দূর হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। তবে খাবার খাওয়ার সাথে সাথে পানি পান করবেন না। ৩০ মিনিট পর পান করা উচিত।

খাদ্য তালিকায় যোগ করুন প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন নাস্তায়। বায়োফোর্টিস ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ও ইউনিভার্সিটি অফ মিজউরি ডিপার্টমেন্ট অফ এক্সসারসাইজ ফিজিওলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনের গবেষকগণ বলেন, ‘অন্যান্য খাবারের তুলনায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারে ক্যালরি অনেক কম থাকে কিন্তু নিউট্রিশনাল ভ্যালু অনেক বেশি, তাই এটি একই সাথে ওজন কমাতে ও দেহ সুস্থ রাখতে কাজ করে’। তারা আরও বলেন প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অনেকটা সময় পেট ভর্তি রাখে ও ক্ষুধার উদ্রেক কমায় এতে আজেবাজে খাবারের চাহিদা কমে যায়। এতে করেও দেহের মেদ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

 

এছারা বেশি বেশি গ্রিন টি পান করুন। আমাদের অধিকাংশেরই পেটে মেদ জমা হয়। গ্রিন টি পেটে মেদ জমানো প্রতিরোধে সহায়ক। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা দিনে ৪ থেকে ৫ কাপ গ্রিন টি খায় তাদের ১২ সপ্তাহের মধ্যে ২ পাউন্ডেরও বেশি ওজন কমে। গ্রিন টিয়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে যারফলে দ্রুত ওজন কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও গ্রিন টির ক্যাটেচিন মেদ দূর করে। দিনে ৩-৪ কাপ গ্রিন টি পান করতে পারেন। সালাদ আর সবজি জাতীয় খাদ্য আপনার ওজন কমাতে সাহায্যে করবে। ওজন কমানোর জন্য স্বাস্থ্য গবেষকরা সালাদের এবং সবজি পরামর্শ করে থাকেন।

 

আশা করছি ওজন কমাতে আপনাদের এই টিপস গুলো সব কাজে দিবে। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

Please follow and like us:
20

Comments

comments