নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক- সন্দেহের পরও বাংলাদেশের অর্থ ছাড়

0
22
নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ ছাড়ের অনুরোধ পেয়ে প্রথমে সন্দেহ হয়েছিল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের। অবশ্য এর কয়েক ঘণ্টা পরই তারা অর্থ ছাড়ের অনুরোধের বিপরীতে রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পরিমাণ অর্থ ছাড় করে। এ ঘটনার বিষয়টি জানেন এমন দুজনকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স আজ শনিবার এ খবর জানিয়েছে।

ওই খবরে বলা হয়, যে চারটি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ ছাড় করা হয়, সেই বার্তাগুলোই সন্দেহের কারণে আগে গ্রহণ করেনি নিউইয়র্ক ফেড।

গত ফেব্রুয়ারির যেদিন এই অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে, সেদিন বিভিন্ন বিদেশি অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো ৩৫টি সুইফট মেসেজ প্রত্যাখ্যান করেছিল নিউইয়র্ক ফেড। নিউইয়র্ক ফেডের একজন কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, অর্থ ছাড়ের সুইফট বার্তাগুলো যথাযথ না হওয়ায় মার্কিন ব্যাংকটি প্রথমে অর্থ ছাড় করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সুইফট ভেঙে হ্যাকারদের পাঠানো অনুরোধ নিউইয়র্ক ফেড প্রত্যাখ্যান করে। পরে হ্যাকাররা অর্থ ছাড়ের জন্য আবার সেই ৩৫টি অনুরোধ পাঠায়। হ্যাকারদের দ্বিতীয় চেষ্টায় সুইফট বার্তা যথাযথ হয় বলে নিউইয়র্ক ফেড কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

দ্বিতীয়বার মার্কিন ব্যাংকটি ৩০টি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে; তবে পাঁচটি অনুরোধ গ্রহণ করে। এই পাঁচটি অনুরোধে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থ ছাড়ের কথা বলা হয়। তবে ভুল বানানের কারণে ওই পাঁচটির মধ্যে দুই কোটি ডলারের একটি অনুরোধ আটকে দেয় নিউইয়র্ক ফেড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, নিউইয়র্ক ফেডের উচিত ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় পাওয়া অনুরোধগুলো প্রত্যাখ্যান করা। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ওই অর্থ স্থানান্তরের বার্তা গিয়েছিল, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিরল। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তারা বলছে যে সন্দেহ হওয়ায় প্রথমে ৩৫টি সুইফট বার্তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। তাহলে পরে আবার একই বার্তা পেয়ে কেন তারা পাঁচটি অনুরোধের বিপরীতে অর্থ ছাড় করেছিল?’

Please follow and like us:
20

Comments

comments