আলীর সঙ্গে ‘বাংলার আলী’র স্মৃতি

0
14
আলীর সঙ্গে

তাঁকে বলা হতো বাংলার মোহাম্মদ আলী। বাংলাদেশের হয়ে কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম পদকজয়ী বক্সার আবদুল হালিম একবার কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে একই রিংয়ে নেমেছিলেন। তবে সেদিন বাংলার আলীকে নকআউট করেননি তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ আলী। পরম মমতায় নিজের বাহুবন্ধনে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন।
মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশে এসেছিলেন ১৯৭৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। তাকে ঢাকায় এনেছিল একটি বিদেশি সংস্থা। মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে সেদিন ঢাকায় আসেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ওই সময়ের বিখ্যাত মডেল ভেরোনিকা পরশে, মেয়ে লায়লা আলী, ভাই, বাবা ও মা।
চ্যাম্পিয়ন বক্সার মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে অন্যদের মতো শোকাতুর হয়ে পড়েছেন আবদুল হালিমও। বাংলাদেশে আসার ওই স্মৃতি যেন এখনো ছবির মতো ভাসে হালিমের চোখে, ‘আমি তখন টগবগে তরুণ। সারা বিশ্বের সব বক্সারের মতোই আমারও আদর্শ ছিলেন মোহাম্মদ আলী। তাঁকে দেখার পর যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল সত্যিই কি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সারের সঙ্গে কথা বলছি!’
দ্য গ্রেটেস্ট মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে হালিমের মুগ্ধতা যেন সীমাহীন, ‘তিনি একটা যুগের সৃষ্টি করেছেন। আগে বক্সিংটা মারামারির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু তিনি এটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান। উনি বক্সিংয়ের প্রবাদপুরুষ। বক্সিংয়ের লেফট ক্রস, রাইট ক্রস শিখেছি তার কাছে। কেউ গার্ড করে রাখলে ঘুষি দেওয়া যায় না। কিন্তু হাত বন্ধ করে সেকেন্ডের মধ্যে উনি ঘুষি দিতেন। এটাকে ক্রস ঘুষি বলে। ক্রস, ডজ—এসব উনার কাছ থেকেই আয়ত্ত করে নিই। পরে ওভাবে বহুজনকে নকআউট করেছি।’
ছবি তোলার সেই মাহেন্দ্রক্ষণের বর্ণনা দিলেন হালিম, ‘উনার সঙ্গে আমার বক্সিং করার কথা ছিল। কিন্তু উনি বললেন আমি তো বড় কারোর সঙ্গে করব না। ছোট কাউকে দেন। শুধু মজা করব। এরপর সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে চাইলে মুখের কাছে ঘুষি নিয়ে সবাইকে বললেন, এবার ছবি তোলেন আপনারা।’

Please follow and like us:
20

Comments

comments