চাঁদাবাজি আগের চেয়ে অনেক কমেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
18
চাঁদাবাজি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, চাঁদাবাজি আগের চেয়ে অনেক কমেছে। কিন্তু এটা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কাজ করছি। পরিবহন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি বন্ধে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।’
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ডিসিসিআই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক জিয়া রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি হুমায়ুন কবির। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হোসেন খালেদের সঞ্চালনায় সভায় ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মজিবর রহমান, দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) পরিচালক আবু মোতালেব, চিনি ব্যবসায়ী আবুল হাশেম, ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী গোলাম মওলা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়কে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেখানেই চাঁদাবাজি হবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক চাঁদা বন্ধের বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের নিজ উদ্যোগে নিজেদের এলাকায় ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এতে অপরাধ কমে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলে পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্ত করা যায়।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, রমজান উপলক্ষে তিন পর্বে (ফেজ) নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শপিং মল–কেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যেসব মার্কেটে নারী ক্রেতাদের আগমন বেশি হয়, সেসব মার্কেটে নারী পুলিশ থাকবেন। জাল নোট শনাক্তে যন্ত্র বসানো হবে। প্রতিটি বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ‘কন্ট্রোল রুম’ থাকবে। নগদ টাকা পরিবহনে পুলিশ সব সময় সহায়তা করবে।
সভায় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের অপতৎপরতা ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আসছে পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে নয়।
মূল প্রবন্ধে জিয়া রহমান দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি আমদানির ক্ষেত্রে টিসিবিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা, মজুতদার ও অসাধু ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষণিক লাইসেন্স বাতিল করাসহ ১০টি সুপারিশ করেন।
ব্যবসায়ী গোলাম মওলা ও আবুল হাশেম দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা নির্ধারণের পাশাপাশি মুষ্টিমেয় যে কয়টি প্রতিষ্ঠান ভোজ্যতেল ও চিনি সরবরাহ করে, সেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে চাহিদা অনুযায়ী যেন যথাসময়ে তেল-চিনি পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় তাঁরা যানজটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়লে দ্রব্যমূল্য বাড়ে বলেও জানান।
ব্যবসায়ী আবু মোতালেব বলেন, ১ শতাংশ ব্যবসায়ী অসাধু, বাকি ৯৯ শতাংশ ব্যবসায়ী সৎ। অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ব্যবসা করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশের অপতৎপরতা ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে দাম বাড়বে।

Please follow and like us:
20

Comments

comments