শেষের পথে সবচেয়ে প্রাণঘাতী নির্বাচন

0
33
প্রাণঘাতী নির্বাচন

শেষ হওয়ার পথে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী নির্বাচন। ছয় পর্বের নির্বাচনের শেষ পর্বের ভোট গ্রহণ আজ শনিবার বিকেল চারটায় শেষ হয়েছে। এখন বাকি ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা। রাতে ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নবম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শেষ হবে।

ষষ্ঠ পর্বে আজও বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় তিনজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী, ময়মনসিংহ ও নোয়াখালীতে একজন করে নিহত হয়। আজ ৬৯৮টি ইউপির নির্বাচন হলো। মোট ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত ৩ হাজার ৯৬৮টি ইউপি নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ১০৬ জন নিহত হলো। আহত হয় কয়েক হাজার মানুষ।
অবশ্য এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে চেয়ারম্যান পদে ইউপি নির্বাচন হচ্ছে। এর আগে স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্তর ইউপিতে নির্দলীয় নির্বাচন হতো।
এর আগে দেশে আটবার অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল ১৯৮৮ সালের ইউপি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে প্রতিবেদনভেদে ৮৫ থেকে ৯৫ জন মানুষ মারা গিয়েছিল। ওই সময় স্বৈরাচারী এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০৩ সালের নির্বাচনেও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ডেমোক্রেসিওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫১ দিনব্যাপী ওই নির্বাচনে ৮০ জন প্রাণ হারায়। অবশ্য কোনো কোনো প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ৭২ বলেও উল্লেখ আছে।
নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সবচেয়ে কম সহিংসতার ঘটনা ঘটে। যদিও ওই নির্বাচনে প্রতিবেদনভেদে ২৭ থেকে ৩৪ জন মারা গিয়েছিল বলে উল্লেখ আছে।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী নির্বাচনের পাশাপাশি এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ারও রেকর্ড গড়েছে। এবারের নির্বাচনে ২২০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বা হওয়ার পথে রয়েছেন। তাঁরা সবাই সরকারদলীয় প্রার্থী। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে ১০০ জন প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এ ছাড়া এই নির্বাচনে বিএনপি সব কটি ইউপিতে প্রার্থী দিতে পারেনি। ৫৫৪টি ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিলেন না।

Please follow and like us:
20

Comments

comments