কীভাবে বুঝবেন বন্ধুরা আপনার ক্ষতি করছে?

0
15

সুস্ঠু সুন্দর জীবনযাপনের জন্য সঙ্গী কিংবা বন্ধু অবশ্যই প্রয়োজন। জীবনের নানা ক্ষেত্রে, তা ঘর হোক বা অফিস, পরিবার-পরিজন, বন্ধু, যে কোনও রূপে ‘বিষাক্ত’ মানুষ আপনার জীবনে আসতে পারেন। কখনও তা জীবন সঙ্গী রূপেও আসতে পারেন। এমন মানুষ যারা প্রতি নিয়ত আপনাকে নেগেটিভ এনার্জির মধ্যে রাখতে ভালোবাসেন। যারা নিজেদের দোষ ঢাকার জন্য বড় থেকে বড় মিথ্যের আশ্রয় নিতে দ্বিধা বোধ করেন না। সকল সময়ে আপনার নানা কাজে খুঁত খুঁজে আপনাকে হীনমন্য করে তোলেন। অথচ নিজেদের কাজ বা ব্যবহারের দিকে একবারও তাকান না। যদি আপনাকে প্রতি দিন নিজের ব্যবহার পাল্টে, ইচ্ছে দমন করে, স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে ভুলে গিয়ে বার বার আঘাত পেয়েও মুখে হাসি রেখে অ্যাডজাস্ট করতে হয়, তবে বুঝবেন আপনি এক বা একাধিক বিষাক্ত মানুষের সান্নিধ্যে রয়েছেন। কী ভাবে বুঝবেন তারা বিষাক্ত? তাদের নানা ব্যবহারেই প্রকাশ পাবে। সাধারণত আপনাকে বার বার ম্যানিপুলেট করেন বা করতে চেষ্টা করবেন।

দেখে নিন কী ভাবে এর থেকে বাঁচবেন।

একাই সম্পর্কের জোয়াল টানছেন:
প্রতি দিন এটা বুঝতে পারছেন। কিন্তু আপনার সঙ্গী বুঝবেন না। তিনি হাবভাবে এটা বোঝানোর চেষ্টা করবেন, এই সম্পর্কে থেকে তিনি আপনাকে ‘ঋণী’ করছেন। তিনি এমনভাবে কথা বলবেন, এমন কাজ করবেন যা আপনাকে কষ্ট দেবে। তার পরক্ষণেই তিনি বলবেন, এটা আপনার জন্যেই করছেন। সম্পর্কের সঙ্গে সঙ্গে এ জিনিস খানিকটা অফিস পলিটিক্সে দেখতে পারেন। একটা কথা মনে রাখুন, আপনি কারও কাছে কিছু ঋণ করেননি। অযথা নিজের ওপর চাপ নেবেন না।

সব কিছুর জন্য আপনি দায়ী:
রাগ হোক বা দুঃখ। চূড়ান্ত মন খারাপ। এমন যা কিছু ‘খারাপ’ তার জন্য আপনি দায়ী। অথচ তিনি মুখ ফুটে কিছু বলবেন না। তবে প্রতি মুহূর্তে এটা বুঝিয়ে দেবেন আপনি ভয়ানক অপরাধী। বার বার যদি এ রকম পরিস্থিতিতে নিজেকে দোষারোপ করতে দেখেন, তা হলে মনে রাখুন তা সবই সেই অন্য ব্যক্তির কারণেই। বার বার নিজেকে ডিফেন্ড করবেন না বা তার কাজকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকুন।

 তারা কখনও ক্ষমা চাইবে না:
তারা নির্জলা মিথ্য বলা পছন্দ করবেন। কিন্তু কখনও ক্ষমা চাইবেন না। ফলে তর্ক করা বৃথা। যত বড় দোষই তারা করুন, নানা রকম যুক্তি দেখিয়ে, বা স্রেফ ভয় দেখিয়ে (যেমন, খুব সাবধানে আত্মহত্যার চেষ্টা. আপনাকে এটা বুঝিয়ে দেবেন তারা কোনও অন্যায় করেননি। যখন অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকবেন, সে সময় পরিষ্কার ভাবে কথা বলুন। যাই হোক সত্যিটাকে দেখুন। দরকার হলে একাই এগিয়ে যান জীবনে।

আপনার কোনও ‘ভালো’ দেখবে না:
কাজে পদোন্নতি হলে তারা বলবেন, যা কাজ করতে হবে তার তুলনায় বেতন কম। সি বিচে ছুটি কাটাতে গেলে তারা বলবেন, প্রচণ্ড গরম। বিশ্বের অধিপতি হলেও তারা সেখানে কোনও খুঁত বার করবেনই। এমন মানুষদের সাধারণত পাড়া-প্রতিবেশী এবং অফিসেই বেশি দেখতে পাবেন। পাত্তা দেবেন না। এটা হিংসে ছাড়া আর কিছু নয়।

 কথা শেষ না করেই উধাও:
বিশেষত স্টেডি গার্লফেন্ডদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি দেখা যায়। কোনও একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রথমে মনোমালিন্য, তার পর ঝগড়া। তার পর থেকে ফোনে বা চ্যাটে সেটা নিয়ে গরমা গরম মন্তব্য করে পালিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেটা আপনার মাথায় ক্রমাগত ঘুরতে থাকবে। কখনও সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দেবেন না আপনাকে। সমস্যা মেটানোর বদলে উল্টে তা বেড়ে যাবে। পরিস্থিতির কথা না ভেবে সমস্যা মিটিয়ে ফেলুন। জানবেন, তাতে যা হবে সেটাই মঙ্গল।

 অপ্রাসঙ্গিক কথা বলবে:
যখনই তার কোনও ভুল আপনি ধরিয়ে দিতে যাবেন, বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করবেন, সে সময় তিনি ৬ মাস আগে আপনি কোন কথা প্রসঙ্গে কী কথা বলেছিলেন, তার একটা তালিকা তুলে ধরবেন। আপনি সেই কথা নিয়েই ফের ব্যস্ত হয়ে পড়বেন বর্তমান সমস্যা ভুলে। আপনাকে বার বার এটাই বোঝানোর চেষ্টা তিনি করবেন, যে আপনি তার জীবনে কতটা খারাপ করেছেন।

১০. কথার মূল্য ছেড়ে কথা বলার ধরন দেখবেন:
আপনি কোনও বিষয়ের ব্যাখ্যা চাইলেই আপনার কথা বলার ধরন, কতটা জোরে বলেন, কতটা মুখ বাঁকান, কী ভাষা প্রয়োগ করেন তা দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেবেন। এ সমস্ত কথায় কান দেবেন না। না বলা কথা শেষ করতেই বেশি মনোযোগ দিন।

 বাড়িয়ে বলার প্রবণতা:
‘তুমি কখনও কথা শোনো না’ বা ‘তুমি সব সময় নিজের ইচ্ছের কাজ করো’ ইত্যাদি এঁদের মুখে লেগে থাকবে। আপনি হয়তো তেমন কিছু বলেননি বা করেননি, তাও এগুলি আপনাকে প্রায় শুনতে হবে। জাস্ট ঝগড়া না করে এড়িয়ে যান। কারণ যুক্তিহীন কথায় জেতা যায় না। আর আপনার জেতার প্রয়োজনও নেই।

 অতিমাত্রায় সমালোচক:
ভুল মানুষ মাত্রেই করেন। আপনিও করবেন সেটাই স্বাভাবিক। বিষাক্ত মানুষেরা শুধু আপনার সেই একটি বা দু’টি ভুল নিয়েই আজীবন কথা বলে যাবেন। এটা পদে পদে আপনাকে অনুবব করানোর চেষাট করবেন, আপনি তাদের থেকে অনেকটাই কম, কারণ আপনি ভুল করেছেন।

facebook

Please follow and like us:
20

Comments

comments