ছেলে-মেয়েরা অনেক লাজুক ছিল, এমন একটা দেশ ছিল

0
6
ছেলে মেয়েরা অনেক লাজুক
একটা দেশ ছিল। সে দেশে একসময় স্কুল-কলেজে নৈতিকতা শেখানো হতো। ছেলে-মেয়েরা অনেক লাজুক ছিল। লজ্জা তাদের কাছে “ঈমানের অঙ্গ” ছিল।
.
একদিন এক সে দেশে পশ্চিম থেকে নতুন সংস্কৃতি নিয়ে আসা হলো। ছেলেমেয়ের ফ্রী-মিক্সিং সহজ হয়ে গেলো। বলা হলো “আই কন্টাক্ট করা বাধ্যতামূলক”, “লজ্জায় ক্ষয়”। দিন যেতে থাকলো। একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া সহজ হয়ে গেলো। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এলো ডিজুস। বললো গার্লফ্রেন্ড জুটাও। আছে “দুনিয়ার সুখ”। কথা বলো দিন-রাত “ফ্রি”। আর ঠেকায় কে?
.
এয়ারটেল এসে জানালো তারা “ভালোবাসার টানে পাশে আনে”। বাংলালিংক দেখলো তাদের “দিন বদলের গল্প” আর কেউ শুনছে না। সুড়সুড়ি না দিতে পারলে মার্কেটে টেকা দায়। তারাও আনলো বাংলালালিংক “দেশ”। নাচানাচি শুরু হলো দেদারসে। কিছুদিন পর আরো বিভিন্ন বিতিকিচ্ছা। এরপর আরো অনেক কিছু এলো।
.
“অশ্লীলতা”কে ডালভাত বানাতে মরিয়া “প্রথম আলো”, “ডেইলি স্টার” থেকে শুরু করে সব পত্রিকা। ডঃ মেহতাব খানম পরামর্শ দিলেন, “শারীরিক সম্পর্ক দোষের কিছু না”। ডেইলি স্টারে বের হতে লাগলো শো-বিজ। অশ্লীলতায় সয়লাব হয়ে গেলো। প্রথম আলো “কারিনা রুটি বানাতে পারে” কিনা এই খবর রাখে। রাখে তাদের বাসায় কে কখন আসে সে কথা। এভাবেই সেলিব্রিটি-স্টার তৈরি করলো। ছেলে-মেয়েদের শেখালো তাদের মতো হও। আরেক মীরজাফর কলাম লিখে বাচ্চাদের পরামর্শ দিলো ধর্ম না শিখে প্রেম শিখতে। পাঠ্যবইয়ে ইসলামকে বানানো হলো ভিলেন।
.
ছেলে-মেয়েরা হিন্দি মুভি-সিরিয়াল থেকে শিখলো প্রেম কতটা মহৎ। এবার এর সাথে যুক্ত হলো কলকাতার যৌনতাভিত্তিক সিনেমা। সব সহজ হয়ে গেল। পরিবর্তন মাইন্ডসেটের। মোবাইলে মোবাইলে, সাইটে সাইটে অশ্লীলতার জয়জয়কার হয়ে গেল। চেতনা ব্যবসায়ীরা সফল।
.
একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকলো। ইভ টিজিং বেড়ে গেল। বেড়ে গেলো ধর্ষণ। কেউ বললো পর্দার প্রয়োজনীয়তা। কেউ বললো দৃষ্টি সংযত রাখার কথা। কুর’আনে এই সমাধান আছে জেনেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সবাই যার যার মতো চলতে থাকলো। শুরু করলো পালটা ডিস্কোর্স। পোশাক দায়ী নাকি মানসিকতা দায়ী। অথচ পাগলেও বুঝবে দুটোই দায়ী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্দা করাই কাল হয়ে দাঁড়ালো। লম্পট মানসিকতার শিক্ষকরা একের পর এক ঘটনা ঘটাতেই লাগলো।
.
খুব বেশি খুন থেকে শুরু করে রেইপ কেস বেড়ে গেলো। বেড়ে গেলো ব্যভিচার। এই দেশে ব্যভিচার আইনসিদ্ধ। ইচ্ছাকৃত হলে “নো প্রবলেম”। যে কয়টা রেইপ হয়েছে তার বিচারেও শুভঙ্কর বাবুর ফাঁকি।
.
ইয়ং জেনারেশন খুব অনুপ্রেরণা পেল। তারা দেখলো যারা আসলেই জীবনের মানে বুঝেছে এই দেশ তাদের মূল্য দেয় না মোটেই। এদেশে স্টার হলো পতিতারা। সহজ কথা। আবারো বলছি। পতিতারা। হলিউড-বলিউডের তথাকথিত সেলিব্রিটিদের পূজা করতে শিখিয়েছে এই মিডিয়া। স্বভাবতই ছেলে-মেয়েরা তাদের মতোই হতে চাইলো। ভুলে গেল লাজ-লজ্জা সব।
.
১) এর মাঝে ভিডিও ভাইরাল হয়। এক ছেলে আরেক মেয়ে সম্পর্কে “খেয়ে ছেড়ে” দেওয়ার কথা বলে।
২) ভিডিও ভাইরাল হয়। কলেজ ড্রেসে ফিল্মি কায়দায় প্রপোজ করে, (বলতেও পারছিনা), ভিডিও করে।
৩) ভিডিও ভাইরাল হয়। স্কুল ড্রেসে ফিল্মি কায়দায় প্রপোজ করে, (বলতেও পারছিনা), (বলতেও পারছিনা), ভিডিও করে।
.
আরেকদল বলতে লাগলো, “তো হয়েছে টা কী? নিজেদের সম্মতিতেই তো?” অথচ যা ছিল “বিয়ে” এখন তার জায়গায় “সম্মতি” নিয়ে আসা হয়েছে। কুর’আনে যাকে বলা হয়েছে ব্যভিচার। এই গুনাহর মাত্রাটা হত্যার পরেই।
.
আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা জেনার কাছেও যেওনা”। ব্যভিচারী নারী ও পুরুষকে শাস্তি দিতে আমাদের যেনো দয়ানুভুতি সৃষ্টি না হয় সে ব্যপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মহান রাব্বুল ‘আলামীন।
.
ন্যুনতম লজ্জাটাও উঠে যাচ্ছে। অবস্থা কতটা শোচনীয় কল্পনা করা যাচ্ছে না। কোনটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভাবছি আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।
.
হ্যাঁ! এই কথাগুলো লিখেছি কারণ আমরা এ প্রজন্মের লোক। এ প্রজন্মকে এমন বিকৃত দেখতে চাইনা। চাইনা। আমরা এমন দেশ চাইনা। আমরা পরিবর্তন চাই। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। ইয়া আল্লাহ, আমাদের হেফাজত করুন। আর দেশটাকে অশ্লীলতার আধার বানাতে প্রচেষ্টারত গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিন। আমীন
–collected
Please follow and like us:
20

Comments

comments