একটি স্বপ্ন এবং তার অনুভূতির গল্প

0
7
একটি স্বপ্ন এবং তার অনুভূতির গল্প
একটি স্বপ্ন এবং তার অনুভূতির গল্প
 একটি স্বপ্ন এবং তার অনুভূতির গল্প

লোকটা আমার পাশ কেটে যেয়ে সোনিয়ার পাশে যেয়ে বসলো। সোনিয়ার মৃত শরীর জীবিত হয়ে গেল। লোকটা তার ব্যাগ থেকে বড় একটা হাতুড়ি বের করে সোনিয়ার মাথায় বারি দিয়ে মাথাটা থেঁৎলে দিল। সোনিয়া চিৎকার করছে ওর মাথা থেকে রক্ত ঝরছে আর লোকটা হাতুরি দিয়ে একটার পর একটা বারি দিতেই থাকছে। মাথা, হাত, পা , শরীর সব থেঁৎলে দিচ্ছে। সোনিয়া চিৎকার করছে।
—————
হঠাৎ করে বিল্ডিংটা ধসে পড়লো। মুহূর্তের মধ্যেই যেন ঠাণ্ডা পরিবেশটা পালটে গেল প্রবল চিৎকার আর আর্তনাদে। আমার ডান পাশের লোকটা ভাই আমারে একটু টান দেন আমি নিঃশ্বাস নিতে পারতেছিনা বলে কেদে কেদে হাতটা বারবার আগায়ে দিচ্ছিল। আমি হাত নারাতে পারছিলাম না। মাথা ছাড়া শরীরের পুরটা অংশই আটকে আছে আমার। পায়ের উপর এক জনের মৃত শরীর তার উপরে ছাদের কিছু অংশ পরে আছে। বাম পাঁশে বীভৎস চেহারার একটা মানুষ। চেহারটা থেঁতলে গেছে। পরিচিত মুখ তবুও চিনতে কষ্ট হচ্ছে। কানের দুল দেখে চিনতে পারলাম এটা সোনিয়া । নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে চলতো সব সময়। নিজেকে অন্যের কাছে সুন্দর তুলে ধরাই ছিল ওর সব চাইতে পছন্দের কাজ। সুন্দর মায়া ভরা মুখটা বীভৎস হয়ে গেছে। চেহারায় বিন্দু মাত্র মেকআপ এর চিহ্ন নেই। থেঁৎলে যাওয়া চেহারায় আছে শুধু রক্তের দাগ। একটা চোখ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। অন্য চোখটা চেহারা উপরে পরে থাকা ছাদের অংশে ঢেকে গেছে।
মৃত্যুকে খুব কাছে থেকে দেখলেই হয়তবা এত ভয় হয়। পাঁশে থাকা মৃত শরীর গুলোকে আজ ভয় পাচ্ছিনা।
আজ ভয় পাচ্ছি আমি মারা যাচ্ছি এটা ভেবে। সকালে ঘুম থেকে উঠেও আমি ভাবিনি এটাই আমার শেষ ঘুম। ডান পাশের লোকটিকে দেখছি। নিঃশ্বাস নিতে না পেরে মারা যাচ্ছে। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি কিভাবে একজন মারা যায়। খুব কষ্ট পেতে পেতে শেষ নিঃশ্বাস ছাড়লেন।
দেখতে দেখতে অনেক সময় চলে গেল। চিৎকার করবার ক্ষমতাও আসতে আসতে হারিয়ে ফেলছি। গলা শুকিয়ে আসছে। রক্তের গন্ধে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে শুরু করল।
জীবিত মানুষ বলতে এখানে আমি একা। আর কেও নেই।
হঠাৎ একজন মানুষ আমার দিকে হেঁটে আসলেন। আমি জানিনা কিভাবে তিনি এখানে আসলেন। আমি তাকে বাচাবার জন্যে আকুতিও করতে পারছিনা। আমি কথা বলতে পারছিনা। তার দিকে তাকিয়ে আছি অসহায় চোখে।
লোকটা আমার পাশ কেটে যেয়ে সোনিয়ার পাশে যেয়ে বসলো। সোনিয়ার মৃত শরীর জীবিত হয়ে গেল। লোকটা তার ব্যাগ থেকে বড় একটা হাতুড়ি বের করে সোনিয়ার মাথায় বারি দিয়ে মাথাটা থেঁৎলে দিল। সোনিয়া চিৎকার করছে ওর মাথা থেকে রক্ত ঝরছে আর লোকটা হাতুরি দিয়ে একটার পর একটা বারি দিতেই থাকছে। মাথা, হাত, পা , শরীর সব থেঁৎলে দিচ্ছে। সোনিয়া চিৎকার করছে।
আমি আর মৃত্যুকে এখন ভয় পাচ্ছিনা। এখন আমি বেচে থাকতে ভয় পাচ্ছি। চোখের সামনে কি দেখছি এসব?
রক্তের গন্ধ চলে গেছে। খুব সহজেই নিঃশ্বাস নিতে পারছি আমি। কোথা থেকে যেন বাতাস আসছে আমার শরীরে । সে বাতাস থেকে শান্তির নিশ্বাস নিতে পারছি।
ডান পাশের লোকটার মৃত শরীর নিঃশ্বাস নেয়া শুরু করলো। একটা বিষধর সাপ এসে তাকে কামড় দিল।
সাথে সাথে লোকটা চিৎকার করা শুরু করলেন। তার সমস্ত শরীর কি যে যন্ত্রণা পাচ্ছিলো তা আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম। যন্ত্রনায় তার চোখ বড় বড় হয়ে যাচ্ছিল। তার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিলো। সাপের বিষ তার শরীরের কার্যকারিতা বন্ধ করে দিচ্ছিল।
বামে সোনিয়াকে একজন হাতুড়ি দিয়ে থেঁৎলে দিচ্ছে। ডানে লোকটা সাপের কামড়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে। আমি বেচে থাকতে ভয় পাচ্ছি। আমি আজ বেচে থাকতে ভয় পাচ্ছি মা… সত্যি ভয় পাচ্ছি।
সাদা কাপড় পড়া একটা লোক এসে আমার পাঁশে বসলেন। আমি তখন দোয়া পড়ছিলাম। আশা করছিলাম যেন এখনি মরে যাই।
লোকটা আমাকে দেখে হাসলেন…
আমাকে বললেনঃ শক্তিমান মেহেদি সাহেব উঠে দাঁড়ান। কথা বলেন আমার সাথে। অনেক দিনের কথা জমে আছে আপনার সাথে।
আমি কথা বলতে পারছিলাম না।
তিনি বললেনঃ উঠে দাঁড়ান। শুয়ে আছেন কেন? আপনার তো অনেক শক্তি । আপনার অনেক ক্ষমতা। উঠে দাঁড়ান। মাটিতে শুয়ে আছেন কেন? এভাবে নোংরা যায়গায় শুয়ে থাকবেন আপনি তা কি আপনার সাথে যায় ?
আমি কিভাবে যেন কথা বলে উঠলামঃ আমি উঠতে পারছিনা।
লোকটিঃ কেন ? আপনার এত শক্তি। এত ক্ষমতা। এত টাকা। এত জনবল আপনার আর আপনি এমন কথা বললে কিছু হল এটা? এত ক্ষমতা আধিপত্য আপনার আর আপনার উঠে দাঁড়াবার ক্ষমতা নেই?
আমিঃ আপনি কে ভাই ?
লোকটিঃ আমাকেতো আপনি চিনবেন না। আমি সেইখানের লোক যেখানে আপনাদের মত মানুষের কোন ক্ষমতা থাকেনা।
আমিঃ ঐ লোকটা সোনিয়াকে মারছে কেন?
লোকটিঃ ওহ। উনি হচ্ছেন সেই মহিলা যিনি নিজের রুপলাবণ্য অন্যকে দেখিয়ে চলতেন। লোক চক্ষুর অন্তরালে ব্যভিচার করতেন। আর নিজেকে আধুনিক নারী হিসেবে দাবী করিতেন। তাই তার চেহারা থেঁৎলে দেয়া হচ্ছে। তার হাত পা থেঁৎলে দেয়া হচ্ছে। তার চুল টেনে উপড়ে ফেলা হচ্ছে। আর আপনার ডান পাঁশের লোকটি ছিলেন সুদখোর ঘুষখোর। অন্য নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা ছিল তার শখের কাজ। রাস্তায় মেয়েদের বাজে মন্তব্য করতেন। নিজের চোখকে হেফাজত করতেন না।
আর আপনি ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। নিজের প্রয়োজনে অন্যের সাথে সুসম্পর্ক করতেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেনও বেশ। প্রেম করতেন একজনের সাথে সে নারীর সাথে অশ্লীলতাও কিন্তু কম করেননি। মা বাবার সাথেও দুর্ব্যবহার করতেন। আপনার সাথে কেমন আচরণ করা উচিৎ তা ভাবছি…………
লোকটা তার পেছন থেকে একটা হাতুরি বের করে আমাকে প্রহার করতে নিলেন…
আমার সমস্থ শরীর ভয়ে কেঁপে উঠল। কানে বেজে উঠল আযানের শব্দ।
ঘুম ভেঙ্গে গেল আমার।
কেঁদে ফেললাম আমি সাথে সাথেই…….(( সংগ্রহীত-))

Please follow and like us:
20

Comments

comments