সুন্দরী যুবতীর নগ্ন সেলফি তোলার করুণ পরিণতি -ভিডিওতে দেখুন

0
15
 স্নানঘরে দাঁড়িয়েছিল মেয়েটি! বিবসনা! ইচ্ছে হল একটা সেলফি তোলার৷ তারপর তা হোয়াটসঅ্যাপে সেটি পাঠায় তার বন্ধুর কাছে৷ কিন্তু না!  কোথাও যেন একটা ভুল হয়েছে৷ নগ্ন ছবিটি  চলে গিয়েছে অন্য ঠিকানায়৷ সেখান থেকে রাজ্যময়! সবার মোবাইলে মোবাইলে!

ভারতের একদল যুবকের  তৈরি জনসচেতনতামূলক একটি ভিডিও-র কাহিনি৷ বাস্তবেও এমন ঘটনা ঘটছে হামেশাই৷ প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় এখন মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন৷ এর সুফল অনেক৷ মানুষ এখন অনেক কিছু সহজেই জানছে, বুঝতে পারছে৷ জীবন এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ৷ খুবই ভালো ব্যাপার৷

তবে, প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও রয়েছে৷ তার একটি নগ্ন সেলফি৷ নগ্নতার প্রতি মানুষে আকর্ষণ দুর্নিবান৷ আর স্মার্টফোন সেই আকর্ষণে যোগ করছে বাড়তি মাত্রা৷ ছেলেবন্ধু একটু জোড়াজুড়ি করলেই তাই এই প্রজন্মের অনেক মেয়ে নিজেই তুলছে নিজের নগ্ন ছবি৷ এরপর পরম বিশ্বাসে তা হোয়াটসঅ্যাপ করছে বন্ধুর কাছে৷ সেই বন্ধুটি হয়ত বিশ্বস্তও৷ কিন্তু সামান্য একটা টাইপের ফলে ছবিটা পাঠিয়ে দিতে পারে ভুল গন্তব্যে৷ আর সেখান থেকে লাখ লাখ কপি হয়ে তা ইন্টারনেটের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র৷

নগ্নতাকে পুঁজি করে তৈরি হচ্ছে অ্যাপ
ইতিমধ্যে অনেক অ্যাপ তৈরি হয়েছে, হচ্ছে শুধু নগ্নতাকে পুঁজি করে৷ স্ন্যাপচ্যাটের কথাই ধরুন৷ প্রেমিক, প্রেমিকা কিংবা দম্পতি যারা একে অপরকে নগ্ন ছবি, ভিডিও পাঠাতে পছন্দ করেন, তাদের এক প্রিয় অ্যাপ এটি৷ অ্যাপটিতে কোন ছবি বা ভিডিও দেখার পর সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়৷ অনেকে তাই বিশ্বাসের সঙ্গে সেই অ্যাপে ছবি, ভিডিও আদান-প্রদান করে৷

বাস্তবটা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাট মোটেই নিরাপদ নয়৷ কেননা, স্মার্টফোনে স্ক্রিনশট নেওয়ার একটা অপশন আছে৷ সেটা ব্যবহার করে স্ন্যাপচ্যাটে পাঠানো ছবি বা ভিডিও-র স্ত্রিনশট নেওয়া মুহূর্তের ব্যাপার৷ আর ডিজিটাল দুনিয়ায় কোন কিছু ছড়িয়ে যাওয়া রোখা কার্যত অসম্ভব৷

তার মানে এই নয় যে, নগ্ন ছবি যারা স্বপ্রনোদিত হয়ে তোলেন সব দায় তাদের৷ সমস্যা হচ্ছে, সেসব ছবি বেহাত হওয়ার শঙ্কা অনেক৷ আর বর্তমান সমাজে নগ্নতা তো বহুদূরের ব্যাপার, একটু ঘনিষ্ঠ ছবিও বেহাত হলে বিপদে পড়েন অনেকে৷ এই তো, কিছুদিন আগেই হালের জনপ্রিয় নায়িকা রাধিকা আপ্তের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে৷ তা নিয়ে নায়িকাকে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে৷ বরং ইন্টারনেটে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে৷

প্রয়োজন সচেতনতা, আইনের প্রয়োগ
ভারতের বহু মডেলের আপত্তিকর ছবি-সেক্স ভিডিও  ঘুরে বেড়াচ্ছে ইন্টারনেটে৷ ছেলেবন্ধুকে হয়ত অনেক বিশ্বাস করেছিলেন তারা৷ তাই ভিডিও করার সময় ছিলেন বেশ সক্রিয়৷ কিন্তু সেই বিশ্বাস নষ্ট হতে বেশি সময় লাগেনি৷ ফলাফল ইন্টারনেটেই দেখা যাচ্ছে৷ স্মার্টফোনে ছবি তোলা বা ভিডিও করার ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা  রক্ষা করতে পারে বড় বিপদ থেকে, আর সেটা নারী ও পুরুষ – উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য৷

পাশাপাশি দরকার সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ৷ ভারতে শক্তিশালী আইন আছে৷ সেই আইনের আওতায় অভিযোগও জমা হচ্ছে প্রচুর৷ ফলে এক্ষেত্রে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ আছে৷ তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আইনে নতুন ধারা বা নতুন আইন প্রণয়নের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে৷ সম্প্রতি জার্মানিতে যেমনটা হয়েছে কিছুদিন আগে৷ সেখানকার এক আদালত জানিয়েছে, প্রাক্তন সঙ্গীর নগ্ন বা ঘনিষ্ঠ ছবি মুছে ফেলতে হবে৷ অর্থাৎ কোনও দম্পতির যদি ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় বা কোন প্রেমিক-প্রেমিকা যদি আলাদা হয়ে যায়, তাহলে একজন চাইলে অন্যজনকে তাদের ছবি সব জায়গা থেকে মুছে ফেলতে হবে৷

প্রযুক্তি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের পরিধিও বাড়বে, এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই৷ তবে নিজেকে সেই অপরাধের ভুক্তভোগী করতে না চাইলে সবসময় সচেতন থাকতে হবে৷ নগ্ন ছবি হোক কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হ্যাকারের হানা – সচেতন হলে অনেকটাই মোকাবিলা সম্ভব৷ আমেরিকার  ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের থাকা অ্যাকাউন্ট থেকে কিছুদিন আগে চুরি হয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকা৷ প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, সেটি ফেডারেল রিজার্ভের গাফিলতিতে হয়েছে৷ কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাংকে সব নিয়মকানুন মেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের, মানে যার অ্যাকাউন্ট তার নামে, তার বেশেই টাকা ‘ট্রান্সফার’ করতে বলা হয়েছিল৷ ফলে অ্যামেরিকার ব্যাংকটি টাকা দিতে অস্বীকার করতে পারেনি৷ তাহলে দায়টা এখানে কার? সচেতনতায় ঘাটতি কার ছিল?

Please follow and like us:
20

Comments

comments