ডিপ্রেশন থেকে বাচাঁর উপায়

0
22

‘ডিপ্রেশন’ বা হতাশাকে সামান্য মানসিক জটিলতা হিসেবে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। এটি ওবেসিটি বা স্থূলতা, এমনকি উচ্চ রক্তচাপের মতোই মারাত্মক। এতটাই মারাত্মক যে, মোট হার্ট অ্যাটাকের ১৫ শতাংশই ঘটে হতাশার কারণে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে।

টানা ১০ বছর ধরে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া, যাকে আমরা হার্ট অ্যাটাক বলে জানি, বিশ্ব জুড়ে তার মোট সংখ্যার বাকি ২১.৪ শতাংশ স্থূলতা এবং আরও ৮.৪ শতাংশের বেশি উচ্চ রক্তচাপের কারণে হয়ে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, পৃথিবীতে ৩৫ কোটির মতো মানুষ হতাশা নামক মানসিক সমস্যার শিকার। তাই নতুন এই গবেষণাটির ফলাফলকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণাটির প্রধান টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ-এর অধ্যাপক কার্ল-হেনিজ ল্যাডউইগ বলেন, হতাশা যে বিভিন্ন ধরণের হৃদরোগের পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে সে ব্যাপারে আর কোনো সন্দেহ নেই।

“এখন প্রশ্ন হলো, হৃদরোগের রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে হতাশার সঙ্গে তামাক গ্রহণ ও ধূমপান, উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল, স্থূলতা বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রিস্ক ফ্যাক্টরের সম্পর্ক কী? এগুলো প্রত্যেকে কতটা ভূমিকা রাখে?” বলেন ল্যাডউইগ।

এই প্রশ্নের জবাব পাওয়ার জন্য ১০ বছর ধরে ড. ল্যাডউইগের গবেষণা দল ৩ হাজার ৪২৮ জন পুরুষ রোগীর স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করেন। রোগীদের বয়স ছিল ৪৫ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। বিশ্লেষণে হৃদপিণ্ডের ওপর হতাশার প্রভাব যাচাই করা হয় এবং তার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান ও স্থূলতার প্রভাবের তুলনা করা হয়।

গবেষণা চলাকালে ৫৫৭ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ২৬৯ জনের মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। এদের ১৫ শতাংশের হৃদরোগে মৃত্যুর মূল কারণই হলো হতাশা। এই গবেষণা থেকে প্রফেসর ল্যাডউইগ ও তার দল সিদ্ধান্তে আসেন, হৃদরোগের জন্য জন্মগত নয়, এমন প্রধান রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকিগুলোর মধ্যে মধ্যম পর্যায়ে রয়েছে।

তাই অতিমাত্রায় হতাশায় ভুগছেন, এমন ব্যক্তিদের মানসিক চিকিৎসার পাশাপাশি দ্রুত শারীরিক পরীক্ষাও করা উচিত বলে পরামর্শ দেয়া হয়েছে গবেষণাপত্রটিতে।

Please follow and like us:
20

Comments

comments