কেন আপনার সর্দি লাগে? আসুন দেখি বিজ্ঞান কি বলে-

0
7

“সর্দি” অন্যতম বিরক্তিকর একটি অসুখ। সর্দি লাগেনি এমন মানুষ মনে হয়না পৃথিবীতে একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে। আমরা সাধারণত যে সকল রোগে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হই তার মদ্ধে সর্দির ভাইরাস অন্যতম। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বছরে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ বার এবং একটি শিশু বছরে ৬ থেকে ১২ পর্যন্ত সর্দি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। আর শীতকাল আসলে তো কথাই নেই। এসময় রোগটির প্রকোপ অনেক অংশে বেড়ে যায়।

সর্দির লক্ষণ কি?:

শুরুতে আপনার শরীর ম্যাচ ম্যাচ করবে। কোনকিছু করতে একদম ভালো লাগবে না। এরপর গলাব্যথা, নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, সময় সময়  জ্বর জ্বর ভাবও মনে হতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষে মাথা ব্যথা, মাংসপেশীতে ব্যথা, রুচি কমে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

স্থায়িত্বকালঃ

সাধারণত এটি সাত থেকে দশ দিনের মদ্ধে ঠিক হয়ে যায়। তবে অনেক সময় এমন হয় যে তিন সপ্তাহের মতও থাকে বা ১ মাস। তবে খুব বেশীদিন থাকলে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিৎ।

সর্দি যেভাবে সংক্রমণ হয়ঃ

সর্দির ভাইরাস কণিকাগুলো দূষিত আঙ্গুল বা দূষিত বাতাস থেকে আমাদের নাকের ভেতরে জমা হয়। অতি অল্প সংখ্যক ভাইরাস কণিকা (১-৩০) সংক্রমণের জন্য যথেষ্ঠ। এরপর ভাইরাস কণিকাগুলো নিজে নিজে নাকের ভিতরের adenoid নামক এলাকায় প্রবেশ করে। ভাইরাস কণিকাগুলো অনুনাসিক কোষ পৃষ্ঠের উপর অবস্থিত রিসেপ্টর (ICAM 1) এর সাথে যুক্ত হয়। এই রিসেপ্টর ভাইরাস পৃষ্ঠের উপর ডকিং পোর্ট নামক অংশের সাথে মিশে যায়। রিসেপ্টর এর সাথে যুক্ত হওয়ার পর ভাইরাস একটি কোষের মধ্যে সংক্রমণ হওয়া শুরু করে। এরপর সংক্রমিত কোষে নতুন ভাইরাস কণিকা উৎপাদন শুরু হয়। তখন সংক্রমিত কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে। এভাবে নতুন কোষে ভাইরাস সংক্রমন ঘটে এবং নতুন নতুন ভাইরাস কণিকা উৎপাদিত হয়। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং এর ফলে আমরা সর্দিতে আক্রান্ত হই।

কিভাবে সর্দি থেকে রক্ষা পাবেনঃ

আমরা একটু সচেতন হলেই কিন্তু সর্দির মতো বিরক্তিকর রোগ থেকে দূরে থাকতে পারি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিচে আলোচনা করা হল-

  • সর্দি কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে অবস্থান করুন। কারণ কাশির জীবাণু খুব সহজেই আপনার চোখ অথবা নাকের ভেতর দিয়ে সংক্রমিত হতে পারে।
  • হাত সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। কারণ হাঁচি বা কাঁশির সাথে নির্গত ঠাণ্ডার জীবাণু যে কোন বস্তুতে লেগে থাকতে পারে। স্পর্শের মাধ্যমে তা হতে সংক্রমণ হতে পারে।
  • দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি গ্রহণ করুন। যথেষ্ট পরিমাণের (কমপক্ষে দৈনিক আট গ্লাস) পানি গ্রহণ শরীর বিশুদ্ধ রাখে এবং দেহ থেকে জীবাণু নির্গমনে সাহায্য করে।
  • হাতের আঙ্গুল দিয়ে ঘন ঘন নাক অথবা চোখ খুটবেন না।
  • বিছানায় শুয়ে না থেকে হাঁটাহাঁটি বা মৃদু ব্যায়াম করুন।
  • রাতে যথেষ্ট পরিমাণে ঘুমান।
  • কম চর্বিযুক্ত চিকেন স্যুপ খান। কারণ গরম গরম চিকেন স্যুপ প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান সরবরাহ করে দেহকে ঠাণ্ডা-সর্দির জীবানুর সাথে যুদ্ধে সাহায্য করে।

সর্দি হলে আপনার করণীয় কি?

সর্দির যে উপসর্গ গুলা আছে যেমন, ঘন ঘন কাশি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া,  গলা ব্যথা,  জ্বর ইত্যাদি। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব রেজিস্ট্যার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে ঔষধ গ্রহণ করুন। তবে আমি আগেই বলেছি সাধারণত সর্দি ১ সপ্তাহের ভেররেই ঠিক হয়ে যায়। আমার মতে যদি ১ সপ্তাহের মদ্ধে আপনার সর্দি ঠিক না হয় তবেই ডাক্তারের কাছে যাবেন।

Please follow and like us:
20

Comments

comments