একটি হাসিখুশী উচ্ছল সম্পর্কের জন্য

0
27

ভালোবাসার মানুষটির কাছে আপনার অনেক রকম চাওয়া-পাওয়াই নিশ্চয়ই আছে। সেই চাওয়া-পাওয়ার সকল হিসেব মিলিয়ে আপনি নিশ্চয়ই একবাক্যে বলতে চান- ‘ভাল আছি’? একা একা ভালো থাকার চেয়ে একসাথে ভাল থাকা কঠিন। হাসি-খুশী, উচ্ছল একটি সম্পর্ক যা সবসময় আপনাকে দেয় জীবনীশক্তি সেই সম্পর্কই তো আদর্শ সম্পর্ক, তাই না? একসাথে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচার নাম প্রেম নয়, এমন জীবনের জন্য কেউ সম্পর্কে জড়ায় না। আসুন জেনে কীভাবে সর্বদা ধরে রাখবেন সম্পর্কের সজীবতা –

পারস্পরিক শ্রদ্ধা:

ছোটখাট অনেক অশ্রদ্ধাশীল ঘটনাকে আমরা ঠিক গুণতে চাই না। ভাবি, ছোট্ট একটা ঘটনা, ছোট্ট একটা কথাই তো বলেছি, সেটা কী আর মনে রাখবে? কিন্তু দেখা গেল বড় কোন ঝগড়াও ভুলে গেছেন বা ক্ষমা করে দিয়েছেন আপনার প্রিয় মানুষটি কিন্তু ছোট ঘটনাটি ভুলতে পারেন নি। অশ্রদ্ধাশীল যে কোন আচরণ, কথা বলা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকুন। যদি কিছু করেও ফেলেন ক্ষমা চান। অপর মানুষটির আবেগের দিকে খেয়াল রাখুন। একজন মানুষ একাই বেঁচে থাকতে পারেন। তবু তিনি যৌথ জীবনে আসেন কারণ শ্রদ্ধা, ভালবাসা মানুষের মানসিক চাহিদা। আপনার সাথে থেকেও যদি এই চাহিদা পূরণ না হয় তাহলে সম্পর্ক তার অর্থ হারাবে।

মনোযোগ দিন:

আপনার সম্পর্কের প্রতি সবসময়ই মনোযোগী হতে হবে আপনাকে। উদাসীনতা সম্পর্ককে ধ্বংস করে। আপনি হয়ত ভাবছেন, সব তো ঠিকই আছে। কিন্তু আপনার অসচেতনতা অপরপক্ষে তৈরি করছে অভিযোগের পাহাড়। মনে করে দেখুন, আপনার একজন বন্ধুকে অনেকদিন পরে দেখলেন। দেখেই বুঝতে পারবেন তিনি শুকিয়ে গেছেন নাকি তার স্বাস্থ্য ভাল হয়েছে। কিন্তু একসাথে থাকা মানুষটি হয়ত চোখের সামনেই নির্জীব হয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে, আপনার চোখেই পড়েনি। এমনই হয়। সম্পর্কের প্রতি সচেতন হোন। একে ভালবাসা দিন, যত্ন দিন প্রতিনিয়ত।

অভিযোগকে গুরুত্ব দিন:

আপনার সঙ্গীটি প্রায়ই এটা সেটা নিয়ে অভিযোগ করছেন? কেন? তার অভিযোগের পেছনে হয়ত বড় কোন কারণ আছে। কঠিন কোন অসন্তোষ মনে চেপে রেখে তিনি হয়ত সারাক্ষণোই হাসিমুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর ছোটখাট বিষয় নিয়ে অভিযোগ করে যাচ্ছেন। বড় কারণটি খুঁজুন। একইসাথে ছোট অভিযোগগুলো এড়িয়ে যাবেন না। সেগুলো যত্নের সাথে পূরণ করুন। সম্পর্কের প্রতি, ভালোবাসার মানুষটির প্রতি যত্নশীল হোন।

 

নতুন কিছু করুন:

প্রতিদিন অফিস, মাসে একবার বাইরে খাওয়া, সিনেমা দেখা, শপিং করা, বন্ধুদের বাসায় মাঝে মাঝে দাওয়াতে যাওয়া এইসবই যেন হয়ে ওঠে আমাদের রোজকার রুটিন। একঘেয়েমিতা সম্পর্কের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এভাবে চলতে থাকলে একসময় আপনারা পরস্পরের সাথে সম্পর্কটাকে আর উপভোগ করতে পারবেন না। মূলত এমন সময়েই আমরা ‘বিয়ের আগে এবং বিয়ের পরে’ জাতীয় অভিযোগগুলো করতে শুরু করি। নতুন কিছু করুন একসাথে। আপনার সঙ্গী হয়ত এমন অনেক কিছু করছেন যা আপনি কখনো করেন নি। তার সাথে যোগ দিন। আপনি নিজে যখন করছেন তখন তাকে যুক্ত করুন। তার আগ্রহের দিকেও খেয়াল রাখুন। দু’জনেরই আগ্রহ আছে এমন মজার কোন কাজ একসাথে করুন।

শারীরিক সম্পর্ক:

নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক সুখী দাম্পত্যের চাবিকাঠি। শুধু অভ্যাসমত একজন আরেকজনের সাথে মিলিত না হয়ে আকর্ষণ ধরে রাখুন। যৌন সম্পর্ক নিয়মিত না হয়ে থাকলে সেটা নিয়ে ভাবুন, পদক্ষেপ নিন। প্রয়োজনে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হোন। আপনার সমস্যা শারীরিক না হয়ে মানসিকও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সেক্স থেরাপিস্টের কাছে যান।

সন্তান গ্রহণের ব্যাপারে ঐক্যমতে আসুন:

আপনারা কবে সন্তান নেবেন, কতদিন সময় নেবেন নাকি নেবেন না এই প্রতিটি বিষয়ে আপনাদের দুজনেরই একমত হওয়া খুবই জরুরি। এখানে কোন সমঝোতা করবেন না। আপনার একক সিদ্ধান্ত আপনার সঙ্গীর উপর চাপিয়ে দেবেন না। নিজেও ইমোশনাল ব্লাকমেইলের শিকার হয়ে সন্তান গ্রহণ করবেন না। মনে রাখবেন, এটি কেবল আপনাদের দুজনের জীবনের প্রসংগ নয়। আমরা মনে করি, শিশুরা কিছুই বোঝে না। প্রকৃতপক্ষে, ঘটনা স্মরণে না থাকলেও তাদের মস্তিস্কে ভালোবাসা এবং অবজ্ঞার বার্তা ঠিকই পৌছে যায়। তাই যা করবেন নিজেরা কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে করবেন।

অর্থ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত:

কথায় আছে, অর্থ অনর্থের মূল। আপনাদের মাঝে প্রবল ভালবাসা থাকা স্বত্বেও অর্থনৈতিক সংকট বা রোজগারের বৈষম্য কেড়ে নিতে পারে সম্পর্কের মাধুর্য্য। দুজনের মাঝে একজন যদি এখনো প্রতিষ্ঠিত না হয়ে থাকেন, এখনো লক্ষ্য অর্জনের সংগ্রামে নিয়োজিত থাকেন তাহলে তার উপর অপর সঙ্গীর ভাল অবস্থানে থাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই নেতিবাচকতা ঈর্ষাত্নক হতে পারে আবার হীনমন্যতাজনিতও হতে পারে। আপনাদের দুজনেরই দায়িত্ব পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন আপনারা পরস্পরের পাশে প্রেরণা হয়ে অবশ্যই থাকবেন এই আস্থা দুজনেই দুজনকে দিন। সচেতন থাকুন, ভাল থাকুন।

Please follow and like us:
20

Comments

comments