বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও মনস্তত্ত্ব অনুসারে সমস্যার সমাধান!!

0
14
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও মনস্তত্ত্ব
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও মনস্তত্ত্ব

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও মনস্তত্ত্ব

বাস্তব জীবনে আমরা অনেক সময়েই নানান রকম সমস্যার সম্মুখীন হই। কিন্তু সেগুলো কাটিয়ে উঠবার ক্ষমতা আমাদের মধ্যে থাকে না, কারন সমস্যার সঠিক সমাধান আমাদের কাছে থাকে না। আমরা বাস্তব জীবনে অত্যাধিক স্বাথ‌‍পর হওয়ার জন্যই হয়ত এই সমস্যা গুলো দেখা দেয়। কিন্তু আমার কাছে বাক্তিগত ভাবে সমস্ত সমস্যা সমাধান করার একটা সহজ পদ্ধতি রয়েছে। আর এই পদ্ধতি ব্যবহার করে গত এক শতকেরও বেশি সময় ধরে মানুষ কঠিন থেকে কঠিনতর সমস্যা গুলোকে এত সহজে সমাধান করে দিচ্ছে, যে সেগুলোর নমুনা থেকেই স্পষ্ট এই পদ্ধতি কতটা সাফল্য অর্জন করেছে।

আমি বলছি গান্ধিবাদের ব্যাপারে। শুধু আমি নই আমার মত হাজার হজার মানুষ এই মতবাদে বিশ্বাসী। আজকের যুবসমাজ যে ভাবে হিংসাত্মক খেলায় মত্ত হয়েছে,তাদের সঠিক পথে ফেরাবার একটাই পথ- তাদের মনে চেতনা জাগ্রত করা,তাদের বোঝানো কোনটা সঠিক,কোনটা ভুল। আর এটা কখনই হিংসাত্মক ভাবে হবে না। তাদের মনে এই ভাবটা জাগাতে হবে, মানুষের ক্ষতি করে কখনই মহৎ জীবনের স্পর্শ লাভ করা সম্ভব নয়। হতে পারে কাজটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়।একমাত্র জাগ্রত চেতনাই পারে বিশ্ব জুড়ে চলা এই মরনখেলা থামাতে।

আমি বাক্তিগত ভাবে মনে করি, কেউ যদি আমাকে একটা চড় মারে,আমি তাকে পাল্টা চড় মারব না। তার মনে এই ভাবটা জাগ্রত করাবার চেষ্টা করব,যে মুখে বললেও কাজটা হত।আর যেদিন তার মনে এই ভাবটার প্রকাশ হবে, সে আর কারুর উপর হিংসা প্রয়োগ করবে না। সে বুঝবে সে আমার সাথে ভুল করেছিল,আর সেটাই আমার কাছে জয়। চড় মারার মধ্যে কোন বীরত্ব নেই,কিন্তু কাউকে শুধরে দেবার মধ্যে অবশ্যই বীরত্ব আছে। হয়ত সময় লাগবে,কিন্তু এই পদ্ধতি যার উপর প্রয়োগ করা হবে,তার মনের পরিবর্তন ঘটবেই।সময় লাগবে,ধৈর্য লাগবে আর গান্ধিবাদে বিশ্বাসী হতে হবে তাহলেই কিন্তু এই অস্ত্র সফল হবে।

আজকের দিনে মানুষের যা পরিস্থিতি তাতে নিজের অস্তিত্বই রক্ষা করা কঠিন ব্যাপার। চাপের মুখে পরে প্রতিদিন যে কত মানুষ নিজের সত্তার সাথে compromise করছে,তার ইয়ত্তা নেই। সঠিক ভাবে কাজ পরিচালনা করতে গেলে,আইন মেনে আইনের পথে চলতে গেলেও আসে একগুচ্ছ বাঁধা। সাধারন মানুষের কাছে এই বাঁধা উত্তরনের কোন পথ না থাকায়, তারা এগুলোকে মেনে নিতে বাধ্য হয় আর এরই সুযোগ নিয়ে একদল মানুষ যুগে যুগে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে আসছে।  কিন্তু যদি তাদের এই স্বার্থসিদ্ধিকে বন্ধ করা আমাদের পক্ষে একরকম অসম্ভবই। কারন শাক্তি বা ক্ষমতা কোন কিছুর দ্বারাই আমরা বাধাগুলকে অতিক্রান্ত করতে পারব না। কিন্তু যদি আমরা এদের স্বার্থের মূলে আঘাত হানতে পারি, তাহলে এটা সম্ভব। আর এর একমাত্র উপায় অহিংসতা,অসহযোগ। দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষটি আমাদের থেকে যেটা ছায়,সেটা যদি আমরা তাকে বুঝতে না দিয়ে বন্ধ করে দিই, তাহলে সে প্রাথমিক ভাবে একটা ধাক্কা খাবে, আর এই বারবার ধাক্কার মাধ্যমেই একমাত্র সম্ভব কাউকে সঠিক পথে আনা। যেমন থাপ্পর মারা লোকটি ধাক্কা খেয়েছে, যখন সে দেখল, অহিংস লোকটি লোকটি থাপ্পরটির কোন জবাব না দেওয়ায়, পার্শ্ববর্তী লোকজন এর কাছে সে ছোট হয়ে গেল,আর এই ধাক্কাটাই তাকে চিন্তা করতে বাধ্য করিয়েছে, হিংসা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর এর পর থেকে তাই সে এমন কাজ করবে না। এখানেই অহিংস লোকটির জয়। কিন্তু সে যদি লোকটিকে পাল্টা একটা থাপ্পর মারত, তাহলে লোকটির একটা রাগ তার উপর চাপা থাকতে পারে এবং লোকটির দ্বারা সে ক্ষতিগ্রস্ত হতেও পারে। কিন্তু অহিস ভাবে একই কাজ করেও সে লোকটির কাছে বন্ধু বলে বিবেচিত হল আর জয় তার ই হল। সময়সাপেক্ষ হলেও আস্থা লোকটিকে জয় এনে দিয়েছে। জীবনের সব ক্ষেত্রে এই মতবাদ না খাটলেও অনেক ক্ষেত্রে কিন্তু এতাই সঠিক উপায়। আর এটা এত সহজ পদ্ধতি যেখানে না লাগে জর,না লাগে ক্ষমতা; শুধু লাগে মানসিক জোর আর ধৈর্য। যে যে ক্ষেত্রে এই মতবাদ প্রয়োগ করা যায়, সেখানে এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ মতবাদ। it’s my challenge .কারন গান্ধিবাদের মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব কে Analise করা যায়। আর এভাবেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও মনস্তত্ত্ব অনুসারে সমস্যার সমাধান করা যায় কারন  মনস্তত্ত্ব কে Analise করাও এক প্রকারের বিজ্ঞান।

Please follow and like us:
20

Comments

comments