ফাস্ট ফুডে শিশুদের অপরিণত বয়সেই ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি

0
19
ফাস্ট ফুডে শিশুদের অপরিণত বয়সেই ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি

ফাস্ট ফুডে শিশুদের অপরিণত বয়সেই ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা খুবই যান্ত্রিক হয়ে পড়েছি। মানুষ এখন চায় খুব সহজেই হাতের নাগালেই যেন সব কিছু পাওয়া যায়। এই ‘শর্টকাট’ জীবন পাওয়ার জন্য মানুষ এখন নিজেদের আরো শর্টকাট করে ফেলছে। বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং এই ধরণের অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করার জন্য তাদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু এর মাঝে লুকিয়ে আছে এক নির্মম ভয়ঙ্কর সত্য।

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একটি গবেষণার মাধ্যমে। তারা ছোট ছোট শিশুদের ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করবার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু এখন তারা হাল ছেড়ে দিয়েছেন প্রায়,। তারা বলছেন, ‘এটি হচ্ছে এমন একটি যুদ্ধ যেখানে আপনি আস্তে আস্তে হেরে যাচ্ছেন।’ আধুনিক জীবন যাপনের সাথে তাল মেলাতে যেয়ে আমরা এমনভাবে জড়িয়ে যাচ্ছি যে আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা আমরা ভুলে বসে আছি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা দায়ী করেছেন খাদ্যের অপরিমিত গ্রহণ ও ঝুকিযুক্ত খাবার গ্রহণ।
যুক্তরাজ্যের করা এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ১৯৯৮ সালে যে পরিমাণ শিশুদের ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হত, ২০১৬ সালে এসে তা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। তারা বলছেন বাতাসে দূষণ ও অপরিণত বয়সে অস্বাভাবিক অনুপাতে মোটা হয়ে যাওয়া হচ্ছে এর অন্যতম প্রধান কারণ। আর এই মুটিয়ে যাবার প্রধান কারণ হচ্ছে অত্যধিক পরিমাণ স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া।
১৯৯৮ সালের পর থেকে কোলন ক্যান্সারের হার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে এবং থাইরয়েড ক্যান্সার ও লিউকেমিয়ার হারও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে।
ডক্টর হেন্স শ বলেন, ‘এটা বলার কোন অপেক্ষাই রাখে না যে আধুনিক জীবনযাত্রা এর পেছনে অধিকাংশই দায়ী। আমরা এখন এই জীবনের ফলাফল নিয়ে ভয় পাচ্ছি। ফাস্ট ফুড আমাদের জীবনকে ফাস্ট করছে কি না তা জানি না, তবে মৃত্যুর দিকে আমাদের দ্রুতই নিয়ে যাচ্ছে। এটি সত্যই “ফাস্ট”।’
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কথা বিজ্ঞানীরা বলছেন। ডাক্তাররা বলছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নিত্য নতুন চকচকে মোড়কের পসরা সাজিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য আপনাদের সামনে হাজির করবেই। নিজের রসনা লাভের আশায় আপনি চেখে দেখবেনই। এর মাঝে শিশু কিশোরদের সংখ্যাই সবচাইতে বেশি। সময় থাকতে এর বিরুদ্ধে কিছু একটা না করতে পারলে আমরা অচিরেই আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে হারাতে যাচ্ছি।

Please follow and like us:
20

Comments

comments

SHARE
Previous articleমানুষের মতো বিড়ালও কেন ঘামে- আজব কথা
Next articleপোকেমন জ্বরঃ কতটা অসুস্থ আমরা?
আমি শারমিন আক্তার মুক্তা। আমি বাংলাদেশে বাস করি এবং জন্ম সূত্রে বাংলাদেশি। আমি খুব সাধারন একটা মেয়ে, ন্যায়বান, বন্ধুভাবাপন্ন, স্বাধীন মতাবলম্বী। আমি জটিলতা, অসততা, মিথ্যাবাদিতা পছন্দ করিনা। আমি সব কিছুর ভাল দিকটা চিন্তা করি। আমার দুর্বলতা হল আমি অন্য মানুষকে খুব সহজেই বিশ্বাস করি। আমার শখ বই পড়া ওগান শোনা ।