বিদেশ থেকে আনা পণ্যের ট্যাক্স সম্পর্কে জানুন

0
412
বিদেশ থেকে আনা পণ্যের ট্যাক্স সম্পর্কে জানুন

 বিদেশ থেকে আনা পণ্যের ট্যাক্স সম্পর্কে জানুন

বিদেশ থেকে আনা পণ্যের ট্যাক্স সম্পর্কে জানুন
বিদেশ থেকে আনা পণ্যের ট্যাক্স সম্পর্কে জানুন

পরম করুনাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় probashijibon সম্মানিত পাঠক বৃন্দ আশা করি মহান সৃষ্টি কর্তার অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালোই আছেন। বরাবরের মতো আমি নোবেল আপনাদের কাছে প্রয়োজনীয় একটি টিপস নিয়ে হাজির। আমাদের আজকের বিষয় কিভাবে আপনি বিদেশ থেকে ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য নিয়ে যাওয়ার পর সেই পণ্য বাবদ ট্যাক্স ফেরত পেতে পারেন।

আমাদের সবার প্রথম একটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যেকোনো ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের উপর শুধু মাত্র একবারই ট্যাক্স ধার্য করা হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। আর তাই আমরা আমাদের ন্যায্য হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যেমন ধরুন আপনি কোরিয়া থেকে একটি এলসিডি টিভি ক্রয় করে বাংলাদেশ নিয়ে গেলেন। তো এখানে কিন্তু আপনি একজন সাধারণ জনগন হিসেবে একটি বিষয় কখনো ভেবে দেখেন না? বা জানেন না?

আপনি যে এলসিডি টিভিটি ক্রয় করে দেশে নিয়ে যাচ্ছেন, দেশে নিয়ে যাওয়ার পর আপনাকে কিন্তু বাংলাদেশ এয়ারপোর্টের কাস্টম অফিসে এর জন্য নির্ধারিত ট্যাক্স দিয়েই ছারিয়ে নিতে হচ্ছে। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, যে আপনি কোরিয়াতে যখন সেই এলসিডি টিভিটি ক্রয় করেন, তখন কিন্তু আপনি  সেই টিভির উপর ইতিমধ্যে ধার্য করা ট্যাক্স সহ-ই ক্রয় করেছেন। তার মানে এই দাঁড়ালো যে, আপনার অজ্ঞতার কারনে আপনি একি জিনিসের উপর দুইবার ট্যাক্স পে করলেন।

কি বুঝতে সমস্যা হচ্ছে? আসুন একটু ভালো করে বুঝে নেই

আমরা যখন কোরিয়াতে সামসাং বা এলজি অথবা হতে পারে যেকোনো কম্পানির একটি পণ্য ক্রয় করি, তখন কিন্তু আমরা সেই পণ্যের উপর কোরিয়া সরকারের নির্ধারিত ভেট দিয়েই সেই পণ্যটি ক্রয় করি। কাজেই আপনি ইতিমধ্যে সেই পণ্যটির জন্য নির্দিষ্ট ট্যাক্স পে করেই পণ্যটি ক্রয় করেছেন। তাই আপনাকে আর দ্বিতীয় বার এই পণ্যের জন্য কোন প্রকার ট্যাক্স পে করতে হবে না। তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। আপনি যদি সেই পণ্যটি কোরিয়াতে ব্যবহার না করে আপনার দেশে নিয়ে যান তাহলে কিন্তু আপনাকে সেই পণ্যের উপর দ্বিতীয় বার ট্যাক্স পে করতে হবে না। কিন্তু আপনি যখন এই পণ্যটি দেশে নিয়ে যান, তখন কিন্তু আপনি দেশেও এর জন্য ট্যাক্স পরিশোধ করছেন। তাহলে এখন আপনার প্রশ্নঃ ভাই আপনি এগুলো কি বলছেন আমিতো কিছুই বুঝতে পারছি না।

হাঁ বন্ধুরা না বুঝারই কথা। এবার আসুন ভালো করে জেনে নেই।

আপনি যখন কোরিয়া বা ইউরোপ বিভিন্ন দেশ থেকে কোন ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য ক্রয় করেন তখন সেই পণ্যের উপর নির্দিষ্ট ট্যাক্স সহ ক্রয় করে থাকেন। তাই আপনি যখন সেই পণ্য কোরিয়া অথবা ইউরোপে ব্যবহার না করে দেশে নিয়ে যাবেন। তখন সেই পণ্যের উপর দেশে যে ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন সেই পরিমান টাকা আপনি কোরিয়া/ ইউরোপের যে দোকান থেকে ক্রয় করেছেন। তাদের কাছ থেকে ফেতর পেয়ে যাবেন। কিন্তু কিভাবে?

আপনি যখন দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোন পণ্য ক্রয় করবেন। ক্রয় করার সময় দোকানদারকে জানাতে হবে যে, আপনি পণ্যটি আপনার দেশে নিয়ে যাবেন। এবং এর জন্য তারা আপনাকে আলাদা একটি রিসিত দিয়ে দিবে। এবং সেই রিসিত সহ দেশে যাওয়ার সময় কোরিয়া অথবা ইউরোপের যে দেশ থেকে যাচ্ছেন সেই দেশের এয়ারপোর্টে আপনার চেকইন তথা প্লেন এর বোডিংপাস নেওয়ার সময় আপনি যখন আপনার সেই পণ্যটি বুকিং এ দিবেন দেওয়ার আগে আপনাকে উক্ত এয়ারপোর্টর customs offices এই অফিসে গিয়ে ওদের কাছে জানাতে হবে এবং ওরা আপনার সেই পণ্য ওদের নিজ দায়িত্তে বুকিং দিয়ে দিবে। এবং আপনাকে সেই রিসিতের উপর সিল মেরে দিবে। যার মানে হচ্ছে আপনি সত্যি সত্যি সেই পণ্যটি আপনার দেশে নিয়ে যাচ্ছেন। যার প্রমান আপনার সেই রিসিত। এবং আপনি তিন মাসের মধ্যে সেই রিসিতটি উক্ত দোকানে (যেখান থেকে পণ্যটি ক্রয় করেছেন) গিয়ে জমা দেওয়ার সাথে সাথে ওরা আপনাকে সেই পণ্যের উপর নির্দিষ্ট ট্যাক্স ফেরত দিয়ে দিবে। তবে আপনাকে বাংলাদেশে নিজ পকেট থেকে ট্যাক্স দিতে হবে। কিন্তু দিলেও আপনি কিন্তু তিন মাসের মধ্যে সেই রিসিত নিয়ে কোরিয়া অথবা ইউরোপের উক্ত দোকানে গিয়ে সেই টাকা ফেরত পেয়ে যাচ্ছেন। বন্ধুরা আশা করি আপনাদের বুঝাতে পেরেছি।

ধন্যবাদ।

 *****লেখাটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ!*****
Please follow and like us:
20

Comments

comments