ঠান্ডা হাওয়ায় রূপ রুটিন কেমন হবে?

0
11
ঠান্ডা হাওয়ায় রূপ রুটিন কেমন হবে?
ঠান্ডা হাওয়ায় রূপ রুটিন কেমন হবে?
ঠান্ডা হাওয়ায় রূপ রুটিন কেমন হবে?
ঠান্ডা হাওয়ায় রূপ রুটিন কেমন হবে?

গরম কমে গেছে, বাতাসে বইতে শুরু করেছে হালকা শীতলতা।আসছে শীত। আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রূপ-রুটিনও পাল্টানো চাই।কারণ, এ সময় থেকেই বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমতে শুরু করে। তাই ত্বক হয়ে ওঠে শুষ্ক, কিছুটা খড়খড়ে। সৃষ্টি হয় নানা সমস্যা।
পর্যাপ্ত পানি পান

ত্বকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা চাই। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি আমরা সাধারণভাবে গ্রহণ করি, এ সময় তার পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দেয়া উচিত।

তাতে ভেতর থেকে ভালো থাকবে ত্বক, উজ্জ্বলতাও বাড়বে। হালকা ঠান্ডার কারণে এ সময় তেমন একটা পিপাসা পায় না। ফলে পানি কম খাওয়া হয়।

দেহের ভেতর থেকে নানা সমস্যা দেখা দেয় সে কারণেই। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে, ত্বক যেন কখনোই শুকনো না থাকে। ভ্যাসলিন, পেট্রোলিয়াম জেলি কিংবা অলিভ অয়েলের আবরণ ত্বকের পানিশূন্যতা রোধে সাহায্য করে। তাই শুরু থেকেই এগুলোর ব্যবহার জরুরি।
শুষ্ক ঠোঁট

ঠোঁটে মাত্র পাঁচটি স্তর। শুষ্কতায় ঠোঁট তাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো তেলগ্রন্থি ও ঘর্মগ্রন্থি নেই বলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষায় ঠোঁট অক্ষম।

এ সময় তাই বিশেষ যত্ন নেয়ার প্রয়োজন। ঠোঁটের শুষ্কতারোধে লিপজেল, চ্যাপস্টিক, ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে হবে। শীতের শুরু থেকেই। ভালো হয় শিয়া বাটারযুক্ত কোনো লিপবাম বেছে নিলে।

এতে ঠোঁট নরম থাকবে। অয়েল বেসড লিপস্টিক উপযুক্ত, ম্যাট নয়। গ্লসি লিপস্টিকেও ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
খুশকিপ্রবণ চুল

প্রকৃতির শুষ্কতা মাথার ত্বকেও প্রভাব ফেলে। ফলে ভীষণ চুলকায়, দেখা দেয় খুশকি। নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করতে হবে। অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু হলে ভালো হয়।

মাথার ত্বক নরম রাখতে তেলও কাজ করে। রাতে তেল হালকা গরম করে মাথার তালুতে ঘষে ঘষে ম্যাসাজ করুন। সকালে ধুয়ে ফেলুন। যারা বাইরে বের হন, তাদের চুলে প্রচুর ধুলোময়লা জমে বলেও চুল নিয়মিত ধোয়া উচিত।

গোসলের পর কোনো অবস্থাতেই চুল ভেজা রাখবেন না বা ভেজা চুল বাঁধবেন না। বড় দাঁড়ওয়ালা চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে চুল শুকান। তাতে চুল যেমন কম পড়বে, তেমনি খুশকির হাত থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।

রুক্ষ হাত

শরীরের অন্যান্য অংশ ঢাকা থাকলেও হাত বেশির ভাগ সময়ই খোলা থাকে। তা ছাড়া বারবার হাত ধোয়ার ফলে পানির সংস্পর্শেও তা বেশি আসে। তেলগ্রন্থি খুব কম থাকে বলে শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় এটি বেশি দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়।

হাতে তাই এ সময় অয়েল বেসড ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা খুব জরুরি। শুষ্কতার জন্য অনেক সময় হাত চুলকায়, চামড়া উঠতে শুরু করে। বাতাসে এ সময় ধুলোময়লাও কিছুটা বেড়ে যায়।

ফলে চুলকানি থেকে শুরু করে নানা রকম প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ধুলোময়লা রোধে বাইরে থেকে এসেই ভালো করে হাত-পা-মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। হালকা গরম পানিতে গোসল করে নিলে আরও ভালো। তারপর ত্বক ভেজা থাকতে থাকতেই লাগাতে হবে লোশন, ভ্যাসলিন কিংবা অলিভ অয়েল।
সানস্ক্রিন

রোদের তীব্রতা এ সময় খুব একটা টের পাওয়া যায় না। কিন্তু অতিবেগুনি রশ্মি অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে বলে এ রোদ ত্বকের অনেক ক্ষতিকর। বিশেষ করে ভিটামিন ‘ডি’ যুক্ত এ রোদের প্রভাবে ত্বক কালো হয়ে যায়, পুড়ে যায়।

তাই যথাসম্ভব সূর্যরশ্মি এড়িয়ে চলা জরুরি। বাইরে বের হবার সময় অবশ্যই সানস্ক্রিন মাখতে হবে। তাতে ত্বক রেহাই পাবে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে। ছাতাও ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রয়োজনীয় ময়শ্চারাইজার

সাধারণ বা তৈলাক্ত ত্বকের চেয়ে শুষ্ক হলে সমস্যা বেড়ে যায়। এ ধরনের ত্বকে সাবান একেবারেই জুতসই নয়। এতে শুষ্কতা আরও বাড়ে। সাবানের পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে অয়েল বেসড ক্লিনজার।

তারপর ময়শ্চারাইজার। গ্রীষ্মে যে ধরনের সাধারণ ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়, এ সময়ের জন্য সেটি উপযুক্ত নয়। এখানেও প্রয়োজন শিয়া বাটার সমৃদ্ধ অয়েলি ময়শ্চারাইজার। আর মুখের জন্য জেল বেসড ফর্মুলা এড়িয়ে বেছে নিতে হবে ক্রিম বেসড ময়শ্চারাইজার।

সুরক্ষিত পা

যাদের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়, তাদের এ সময় থেকেই সতর্ক হওয়া উচিত। ঠোঁটের মতোই পা যেন কখনো শুষ্ক না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজন ফুটক্রিম বা তেলজাতীয় উপাদান।

অলিভ অয়েল, ভ্যাসলিন, পেট্রোলিয়াম জেলি কিংবা ময়শ্চারাইজিং লোশন নিয়মিত মাখলেও কাজ হবে। এ ধরনের উপাদান সব সময়ই ভেজা অবস্থায় লাগানো ভালো।

লাগানোর আগে সামান্য পানি মিশিয়ে নিন। খুব বেশি সমস্যা হলে এ সময় থেকেই মোজা পরার অভ্যাস করা জরুরি। শীত অনুভূত হলে, বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়।
কালচে ভাব দূর

এ আবহাওয়ায় অনেকেই কালো হতে শুরু করেন। খুব সহজে তা দূর করা যায়। নারকেল কুরে তাতে একটি আলু থেতো করে দিন। সঙ্গে একটি লেবুর রস ও দু-চামচ মুলতানি মাটি মেশান।

সামান্য দুধ দিয়ে মসৃণ ও পেস্ট করে মুখে এবং রোদে পোড়া খোলা জায়গায় লাগিয়ে পনেরো মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে কালচে ভাব কেটে যাবে।

Please follow and like us:
20

Comments

comments

SHARE
Previous articleযে চলে যায় তাকে যেতে দিন-ভালোবাসার গল্প
Next articleডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পেছনে পাঁচটি কারণ
আমি শারমিন আক্তার মুক্তা। আমি বাংলাদেশে বাস করি এবং জন্ম সূত্রে বাংলাদেশি। আমি খুব সাধারন একটা মেয়ে, ন্যায়বান, বন্ধুভাবাপন্ন, স্বাধীন মতাবলম্বী। আমি জটিলতা, অসততা, মিথ্যাবাদিতা পছন্দ করিনা। আমি সব কিছুর ভাল দিকটা চিন্তা করি। আমার দুর্বলতা হল আমি অন্য মানুষকে খুব সহজেই বিশ্বাস করি। আমার শখ বই পড়া ওগান শোনা ।