কর্মজীবী নারীর যে সাত বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন!!

0
19
কর্মজীবী নারীর যে সাত বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন!!

কর্মজীবী নারীর যে সাত বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন!!

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজে নারীর ভূমিকা পাল্টাচ্ছে। এখন নারী আর ঘরে বসে থাকে না, বাস্তবতার প্রয়োজনে তারা এখন ঘরে ও বাইরে উভয় স্থানেই বিচরণ করে। নারীর পদচারণায় কর্মক্ষেত্রে বাড়তি মেধা ও শ্রম যুক্ত হচ্ছে। তবে নারীর এ পদচারণা অনেকেই ভালো চোখে দেখে না। এ কারণে কর্মক্ষেত্রে নানা ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তির শিকার হয় নারী। এ লেখায় রয়েছে তেমন কিছু বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

পরিবারকে সর্বাগ্রে রাখে নারী?:

বহু প্রতিষ্ঠানেই ধারণা রয়েছে যে, নারী কর্মীরা তাদের পরিবারকে সর্বাগ্রে রাখে এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নতির কথা চিন্তা করে না। বাস্তবে যদিও অনেক নারী এমনটা করেন তবে তার মানে এটা নয় যে, নারী কর্মক্ষেত্রে কম দক্ষ। পরিবার বা অন্য যে দায়িত্বই থাকনা কেন, ক্যারিয়ারের জন্যও নারী যথেষ্ট যত্নশীল।

কর্মজীবন-ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য সমস্যা?

অনেকেরই ধারণা কর্মজীবনে নারীর সময় নির্ধারণে সমস্যা হয়। তাদের পারিবারিক কাজ করতে গিয়ে কর্মস্থলে সময়ের ঘাটতি দেখা যায়। যদিও বাস্তবে এ বিষয়টি পুরুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। জরিপের তথ্যে দেখা যায়, নমনীয় সময়ের অভাবে ৪৫ শতাংশ পুরুষ ও ৩৯ শতাংশ নারী কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি ত্যাগ করে। এক্ষেত্রে নারীর তুলনায় পুরুষেরই এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

নারীরা কর্মক্ষেত্রে নতুন বিষয় শিখতে অনাগ্রহী?

বহু মানুষেরই ধারণা রয়েছে নারী কর্মক্ষেত্রে নতুন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে বা নিত্যনতুন বিষয় আয়ত্ব করতে অনাগ্রহী। যদিও এ বিষয়টি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। এক জরিপে দেখা যায়, ৫৯ শতাংশ পুরুষ কর্মক্ষেত্রে নতুন বিষয় শিখতে আগ্রহী হলেও ৬৫ শতাংশ নারী এক্ষেত্রে আগ্রহী। এছাড়া নতুন বিষয় না শিখেই প্রমোশনের জন্য আগ্রহী থাকেন এমন মানুষের মধ্যে নারীর তুলনায় পুরুষের হার বেশি।

চাপের মাঝে কাজ করতে নারী কি আনাড়ি?

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে নারী নিয়োগ দেওয়া নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানই বিভ্রান্তিতে থাকে। এক্ষেত্রে তাদের ধারণা থাকে পারিবারিক নানা কারণ সামলাতে গিয়ে উচ্চ পদে নারী ভালো ফলাফল করে না। যদিও বিষয়টি ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে বহু নারী নিয়োজিত রয়েছেন।

নেতৃত্বে পুরুষের তুলনায় নারীর আগ্রহ কম?

বহু প্রতিষ্ঠানেই পুরুষ কর্মীদের ধারণা নারীরা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে অন্যের সঙ্গে নিজের কর্মদক্ষতা তুলনা করে উচ্চপদে আরোহণ করতে আগ্রহী হন না।

নারীরা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলেন না?

অনেকেরই ধারণা রয়েছে নারীরা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলেন না। যদিও এর পেছনে দীর্ঘদিন পরিচিত পুরুষতান্ত্রিকতার ছায়া রয়ে গেছে। নারী সাংস্কৃতিক নানা বাধার কারণে নিজেকে অন্যদের তুলনায় কম যোগ্য মনে করেন বা হীনমন্যতায় ভোগেন। আর এ কারণেই ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। তবে এ পরিস্থিতি দ্রুত কাটছে।

নারীর সাফল্যে উৎসাহ দেওয়া কি জরুরি?

বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। এখানে কোনো মানুষকেই পিছিয়ে রাখার উপায় নেই। তাই যতটা সম্ভব উৎসাহ যুগিয়ে নারীকে মূল ধারায় সম্পৃক্ত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Please follow and like us:
20

Comments

comments