নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা “ব্ল্যাক গোল্ড” ডাকেন-কেন?

0
35
নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা
নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা "ব্ল্যাক গোল্ড" ডাকেন-কেন?

 নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা “ব্ল্যাক গোল্ড” ডাকেন-কেন?

নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা "ব্ল্যাক গোল্ড" ডাকেন-কেন?
নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা “ব্ল্যাক গোল্ড” ডাকেন-কেন?
দেবতা বিষ্ণুকে দান করতে নিজের মাথার চুল কামিয়ে ফেলছেন এক ভারতীয় নারী।

দেবতা বিষ্ণুকে খুশি করতে মাথার চুল দান করে ভারতের হাজারো দরিদ্র নারী। কিন্তু বহু পথ পাড়ি দিয়ে সেই চুলের ঠিকানা হয় ব্রিটেনের বিভিন্ন সেলুন ও বিউটি পার্লারে। সেই চুলে অপরূপা হয়ে ওঠেন ব্রিটিশ নারীরা। কিন্তু এ খবর জানা নেই ভারতীয় সেসব ধর্মপরায়ন নারীদের। মাঝখান থেকে দান করা সেসব চুল নিয়ে কোটি টাকা কামিয়ে নেয় একদল মানুষ।

সম্প্রতি মাথার চুল নিয়ে এমন রমরমা ব্যবসার চিত্র তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যের একটি গণমাধ্যম। তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নারীর চুল নিয়ে বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের বিস্ময়কর খবর।

বিশ্বজুড়ে এই চুল কেন্দ্রিক ব্যবসা ঘিরে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় প্রতিদিনই। এর মধ্যে কিছু দেশ আমদানিকারক হিসেবে, কিছু দেশ রপ্তানিকারক হিসেবে ভূমিকা রাখে। ভারত তেমনই একটি শীর্ষস্থানীয় চুল রপ্তানিকারক দেশ। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য হলো চুল আমদানিতে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দেশ। প্রতি বছর ৪৩ মিলিয়ন টন মনুষ্য চুল আমদানি করে দেশটি। যা দিয়ে ২০ লাখ মানুষের মাথা পুরোপুরি ঢেকে দেওয়া সম্ভব কিংবা চুলগুলোকে একসঙ্গে জোড়া দিলে পৃথিবীকে ৩,২০০ বার পেঁচানো সম্ভব। দেশটিতে ভারতীয় চুলের কদর আকাশচুম্বী। আর ভারতীয় চুলগুলোর সিংহভাগই আসে দেবতা বিষ্ণুকে উৎসর্গ করে নারীদের দান করা চুল থেকে।

চুলের এক্সটেনশনচুলের এক্সটেনশন করিয়ে নিজের সৌন্দর্য বাড়ানোর বিষয়টি ব্রিটিশ নারীদের মধ্যে ব্যাপক হারে সাড়া ফেলেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে দেওয়া তথ্যানুসারে, ব্রিটেনের নারীদের মধ্যে হেয়ার এক্সটেনশনের পরিমাণ অতীতের চেয়ে বহুলাংশে বেড়েছে। এই হেয়ার এক্সটেনশন হলো কারো চুলেকে লম্বা, মোটা ও ঘন করার পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নিজের আসল চুলের সঙ্গে অন্যেরে চুল জোড়া দিয়ে নিজেদের রূপ-সৌন্দর্য বাড়ানোর চেষ্টা করেন নারীরা। যুক্তরাজ্যের হাজার হাজার নারী হেয়ার এক্সটেনশনের প্রতি অনুরক্ত। গত ৫ বছরে সেখানে হেয়ার এক্সটেনশনের পরিমাণ ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যুক্তরাজ্য জুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হেয়ার এক্সটেনশন সার্ভিস দানকারী সেলুন ও বিউটি পারলার। আর এসন সেলুন ও পারলারে ব্যবহৃত চুলের মূল উৎসই হচ্ছে ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে দেবতা বিষ্ণুকে উৎসর্গ করা দরিদ্র নারীদের চুল।

তবে চুলগুলো সরাসরি ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে যায় না। ভারতের বিভিন্ন মন্দির থেকে এই চুলগুলো সংগ্রহ করে ব্যবসারীয়রা। পরে নানা হাত ঘুরে সেগুলোর ঠিকানা হয় চীনের বিভিন্ন কারকাখানায়। সেখানে চুলগুলোকে হেয়ার এক্সটেনশনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। অবশেষে সেগুলো পৌঁছে যুক্তরাজ্যে। সবশেষে সেই চুল শোভা পায় সেখানকার সৌন্দর্য পিপাসু নারীর মাথায়।

দেবতা বিষ্ণুকে মাথার চুল উৎসর্গ করা ভারতের দরিদ্র শ্রেণীর নারীদের বহুশতকের ধর্মবিশ্বাসের অংশ বিশেষ। সেখানকার বিভিন্ন অঞ্চলের মন্দিরগুলোতে প্রতিদিন হাজারো নারী এই চুল উৎসর্গ করতে ভীড় জমায়। মন্দিরে নাপিতের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। একে একে ক্ষুর বা ব্লেড দিয়ে তাদের মাথার চুল সম্পূর্ণ কামিয়ে ফেলে নাপিত। বিনিময়ে ওই নারীরা কোনো অর্থই পায় না। দেবতাকে খুশি করতে পারার প্রশান্তি নিয়ে বাড়ি ফেরে তারা। সঙ্গে মানবতার সেবা করতে পারছে ভেবেও খুশি হয় তারা। কারণ, তাদের জানে যে তাদের দানকরা চুলগুলো বিক্রি করে মন্দির কর্তৃপক্ষ সেবামুলক কাজ করে। বিভিন্ন স্কুল-হাসপাতালের পিছনে সেই অর্থ খরচ করা হয়। এর বাইরে কিছু জানা নেই তাদের। তারা জানতেও চায় না।

নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা "ব্ল্যাক গোল্ড" ডাকেন-কেন?
নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা “ব্ল্যাক গোল্ড” ডাকেন-কেন?

দেবতার উদ্দেশ্যে নারীদের উৎসর্গ করা চুল বিক্রি করে ভারতের তিরুমালায় একটি মন্দির বছরে ২১৩ কোটি টাকা কামিয়েছে বলেও প্রমাণ রয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে নারীর চুল নিয়ে গড়ে উঠা এই গোপন ব্যবসার কথা প্রথম তুলে ধরেছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অ্যানথ্রোপোলজি বিভাগের অধ্যাপিকা এমা টারলো। এর বিষয়ে ‘এনট্যাঙ্গলমেন্ট : দ্য সিক্রেট লাইভস অফ হেয়ার’ নামে একটি বই লিখেছেন তিনি। বইটি লেখার জন্য দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করেছিলেন এই অধ্যাপিকা।

এমা টারলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে বহু দূর দূরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী ভিড় জমায়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই- দেবতাকে খুশি করতে বহু যত্নে বড় করা মাথার চুলগুলো উৎসর্গ করা। এমা দেখেছেন, বছরের পর বছর চুল না কেটে পরম যত্নে কোমর সমান লম্বা করা চুল খুশি মনেই কামিয়ে ফেলছে নারীরা। এই বিষয়ে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাদের একজনের উত্তর ছিল, ‘চুল হলো নারীর সৌন্দর্য। তাই এই চুল দেবতাকে উপহার হিসেবে দেওয়ার মানে হলো ওই নারী নিজের সৌন্দর্যও দেবতাকে দান করল।’

আরেক নারী এমাকে বলেছেন, ‘দেবতার উদ্দেশ্যে এই চুল দান করি আমরা। এরপর চুলগুলো নিয়ে কি করা হয় তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই আমাদের। এগুলো নিয়ে যদি ব্যবসা করা হয় তাতেও যেমন কিছু যায় আসে না। তেমনি এই চুল দিয়ে ভিনদেশের কোনো নারী যদি সাজতে চায় তো তাতেও কিছু যায় আসে না। বরং চুলগুলো আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেওয়ার চেয়ে তা কারো উপকারে এলে তা চুল দানকারীর জন্য আনন্দের বিষয়।’

নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা "ব্ল্যাক গোল্ড" ডাকেন-কেন?
নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা “ব্ল্যাক গোল্ড” ডাকেন-কেন?

চুলের এক্সটেনশনচীনের একটি কারখানায় চুল বাছাই করছেন শ্রমিকরা।

বিভিন্ন মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এমা জানতে পেরেছেন, এই চুলগুলো বিক্রি করেন তারা। সেই অর্থ দিয়ে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ, যেমন- গরিব শিশুদের পড়ালেখার জন্য স্কুল চালানো কিংবা, গরিবদের সেবায় হাসপাতাল চালানো হয়। তবে এমা বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছেন তাদের সেই দাবি সত্যি কিনা। কিন্তু এই বিষয়ে কোথাও কোনো প্রমাণপত্র পাননি তিনি।

এমা আরো জানতে পেরেছেন, এই চুলগুলো দিয়ে প্রতিবছর একেকটি মন্দির কোটি কোটি টাকা কামায়। যেমন অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালায় একটি মন্দির এই চুল বিক্রি করে বছরে ২১৩ কোটি টাকা আয় করেছে বলে প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু সেই টাকার কোনো হদিশ নেই, নেই অর্থ ব্যয়ের কোনো নথিপত্র।

এমা টারলোর বইতে উল্লেখ করা তথ্যের সূত্র ধরেই বিট্রিশ গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, কেবল দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা চুল সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত নয় ব্যবসায়ীরা। চুলের আড়ালে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের হাতছানি রয়েছে তার লোভে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘরে ঘরে ধন্যা দেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। এমনকি নারী চুল সংগ্রহে ঘরের কর্তা পুরুষটিকে অর্থের লোভও দেখানো হয়। সেই অর্থের লোভে অনেক পুরুষ তার স্ত্রীকে কিংবা কন্যাদের মাথা ন্যাড়া করতে বলেন। কথা না শুনলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীদের নিযাতনও করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন বস্তির ছোট ছোট মেয়েদেরও জোরপূর্বক ন্যাড়া করে তাদের মাথার চুল সংগ্রহ করা হয়। তেমনি এক গরীব নারী তার অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়েছে এমা টারলোকে।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, একদিন হঠাৎ করে কিছু যুবক রাস্তায় তাকে আটকে জোরপূর্বক মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর তার চুল নিয়ে তারা চলে যায়। তার জানামতে আরো অনেক গরীব নারীকে এমন অবস্থার শিকার হতে হয়েছে।


রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করার পর ঘন কালো চুলও এমনরূপ ধারণ করে। এই রংয়ের চুল পশ্চিমা দেশের নারীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।

এর বাইরেও প্রতিদিন নারীদের মাথা থেকে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে যে চুল পড়ে সেগুলো সংগ্রহ করতেও দ্বারে দ্বারে ঘুরেন ফেরীওয়ালারা। বিজ্ঞানীদের হিসেব মতে, গড়ে একজন নারীর মাথা থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে পড়ে। ফেরীওয়ালারা সেই চুলগুলো সংগ্রহে করে বিক্রি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে সেখানকার নারীদের। এ জন্য সাধারাণত আকর্ষণীয় চিরুনী বা এই ধরনের সস্তা কিছু উপহার হিসেবে ওই নারীদের দেয় তারা।

ভারতের বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাংশের নারীদের চুলের কদর বেশি হওয়ার কারণ হলো-তারা প্রাকৃতিকভাবে চুলের যত্ন নেয়। ফলে তাদের চুলগুলো যেমন স্বাস্থ্যবান হয়, তেমনি সুন্দরও হয়। এগুলো মোটা তাজা ও সিল্কি হয়। কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করার পরও চুলগুলো সুন্দর থাকে। প্রক্রিয়াজাত করে এগুলোকে খুব সহজেই হালকা বাদামি কিংবা সোনালী রংয়ের করা যায়। এই রংয়ের চুলের কদর পশ্চিমা বিশ্বে বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে আকাশচুম্বী।

ভারত ছাড়াও অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও স্লোভাকিয়া থেকে চুল যায় যুক্তরাজ্যে। তবে ভারতীয় চুলের পরিমাণ অনেক বেশি। যা সেখানে সরবরাহ করে মূলত চীনের ব্যবসায়ীরা।

চীনের নারীদের চুলের কদর পশ্চিমা বিশ্বে তেমন নেই। কিন্তু এরপরও চীনে গড়ে উঠেছে চুল কেন্দ্রিক অসংখ্য কারখানা। এসব কারখানা ভারতীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মেট্রিক টন চুল সংগ্রহ করে। এক হিসেবে বলা হয়েছে, এই চুল সংগ্রহে এশিয়ায় প্রতিদিন প্র্রায় ৫ লাখ হকার মাঠে নামে। তারা নূন্যতম দামেই চুল কেনে। চীনা ব্যবসায়ীরাও তাদের কাছ থেকে খুব দাম দিয়েই চুল কিনে নেয়। কারখানায় কর্মরত বিভিন্ন নারীদেরও পারিশ্রমিক দেওয়া হয় যৎসামান্যই। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত শেষে সেই চুল চড়া দামে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে বিক্রি করা হয়। যারা সেই চুল কেনে তারাও আবার কয়েকগুণ বেশি দামে ক্লায়েন্ট বা ক্রেতার কাছে সেই চুল বিক্রি করে।

এক হিসেবে দেখা গেছে, হেয়ার এক্সটেনশনের জন্য ৫০টি চুলের একগোছা চুল প্র্রায় ১০ হাজার টাকায় কিনে লন্ডনের বিভিন্ন সেলুন ও পারলার। কিন্তু ক্রেতার কাছে সেই চুলই তারা বিক্রি করে ১ লাখ থেকে সোয়া লাখ টাকায়। অথচ সেই চুল যার মাথার, সেই ব্যক্তিটির ভাগ্যে জোটে মাত্র কয়েকশ টাকা।


হেয়ার এক্সটেনশন করাচ্ছেন এক ব্রিটিশ নারী।

কেবল ভারত নয়, চুল নিয়ে এমন রমরমা ব্যবসা শিকড় গেড়েছে গোটা বিশ্বেই। এশিয়া থেকে লাতিন আমেরিকা-বিশ্বের প্রায় সব জায়গাতেই নারীর চুল নিয়ে তাই হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে প্রতিদিনই। তবে সর্বশেষ যাদের মাথায় এই চুলগুলো শোভা পায় তারা এসব জানেন না, জানতেও চান না। তারা চুলগুলো প্রকৃতই মানুষের কীনা কিংবা সেগুলো জীবাণুমক্ত কিনা তা নিশ্চিত হতে পারলেই খুশি। এসব সৌন্দর্য পিপাসু নারীদের মধ্যে সাধারণ নারী থেকে শুরু করে লিজ হার্লির মতো খ্যাতনামা অভিনেত্রীও রয়েছেন। তেমনি নোওমি ইস্তেদ নামের এক নারী ওই ব্রিটিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর এক লাখা টাকা খরচ করে হেয়ার এক্সটেনশন করান তিনি। চুলগুলো কোথা এল কিংবা কার মাথার চুল তা নিয়ে সামান্যতম ভাবার ইচ্ছে নেই তার। হেয়ার এক্সটেনশন করায় তার চুলগুলো আকর্ষণীয় দেখায়, তাকে সুন্দর দেখায়, সবাই প্রশংসা করে; এতেই তিনি মহাখুশি।

এই অর্থকরী দিকটির জন্য মানুষের বিশেষ করে নারীর চুলকে চীনা ব্যবসায়ীরা ‘ব্ল্যাক গোল্ড’ বা ‘কালো সোনা’ ডাকেন

Save

Please follow and like us:
20

Comments

comments