হৃদপিন্ড কে ভালো রাখতে হলে যা করতে হবে

0
600
হৃদপিন্ড কে ভালো রাখতে হলে যা করতে হবে
হৃদপিন্ড কে ভালো রাখতে হলে যা করতে হবে

 হৃদপিন্ড কে ভালো রাখতে হলে যা করতে হবে

ফুসফুসের সাহায্যে আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি, আর কার্বন ডাই-অক্সাইড শরীর থেকে বের করে দিই। ফুসফুসে রয়েছে ডালপালার মতো অসংখ্য ছোট নালি। এই নালিগুলো নাকের ভেতর দিয়ে ফুসফুসে ঢুকে যাওয়া বাতাস হৃৎপিণ্ডে পৌঁছে দেয়। তাই ফুসফুস সুস্থ রাখতে যত্ন নিতে হবে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় ১২-১৮ বার। আর একজন শিশুর প্রয়োজন হয় ২০-৩০ বার। তবে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে। প্রশ্বাসের সময় বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকর গ্যাস আমাদের দেহের ভেতরে যেতে পারে, যা শরীরের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই দূষিত পরিবেশ যত পরিহার করা যায়, ততই ভালো।

পুরুষের ফুসফুসের ওজন নারীর ফুসফুসের তুলনায় বেশি হয়। আমাদের শরীরে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের অবস্থান পাশাপাশি। আর এগুলোর কার্যক্রমও পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। তাই হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখার জন্য ফুসফুসেরও সুষ্ঠুভাবে কাজ করাটা ভীষণ জরুরি।

ফুসফুসের কাজ

১. পুরো দেহে বায়ু পাঠায়। অর্থাৎ পুরো শরীরে অক্সিজেন পৌঁছায়।

২. ফুসফুস মস্তিষ্কে অক্সিজেন পাঠাতে পরোক্ষ ভূমিকা রাখে।

ফুসফুস ভালো রাখার জন্য করণীয়

১. শুধু ফুসফুস নয়, পুরো দেহের জন্য যেকোনো মাদকদ্রব্য ও ধূমপান ভীষণ ক্ষতিকর। তাই সব বয়সের মানুষের জন্য ধূমপান ও মাদক বর্জনীয়। ধূমপায়ীদের ফুসফুসে ‘নিকোটিন’ (সিগারেটের ক্ষতিকর উপাদান) নামের ক্ষতিকর একটি উপাদান জমে যায়। বছরের পর বছর এ উপাদান জমে ফুসফুসে। ফলে ফুসফুস বিশুদ্ধ বাতাস দেহে পাঠাতে পারে না। ধূমপায়ী ও মাদকসেবীদের ফুসফুসের অসুখ হয় খুব বেশি। তাই পরিহার করুন মাদক ও ধূমপান।

২. যেখানে ও যখন সম্ভব হয়, গাছ লাগান, সুযোগ পেলেই বুক ভরে নিঃশ্বাস নিন। সবুজ গাছপালার বাতাসে থাকলে দূষণমুক্ত অক্সিজেন পাওয়া সম্ভব। ফুলের টবে গাছ লাগালেও তা উপকার দেবে।

৩. বাসা কলকারখানা, ইটভাটা, ট্যানারি থেকে দূরে হওয়া দরকার। নিয়মিত ঘরবাড়ি পরিষ্কার করুন। বাসার মধ্যে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকাটা ভীষণ জরুরি। এতে রোগ-জীবাণুও দূর হবে।

৪. রান্নাঘর, টয়লেট বা গোয়ালঘর থেকে গ্যাস বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৫. বাড়িঘর থেকে গুমোট অবস্থা দূর করতে হবে। হাঁপানি ও যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীরা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকবেন না।

৬. মাঝে মাঝে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে উঠুন। এতে পুরো দেহে রক্ত সঞ্চালিত হবে, হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে ফুসফুসেরও কার্যক্ষমতা বাড়বে। তবে আগে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেইন স্ট্রোকের ঘটনা ঘটেছে এমন ব্যক্তিরা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা থেকে বিরত থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সিঁড়ি দিয়ে উঠবেন না।

৭. যক্ষ্মা, হাঁপানি বা ফুসফুসের অন্য কোনো সমস্যা থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন।

৮. অবশ্যই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পারিবারিকভাবে ফুসফুসের ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে আগে থেকেই সতর্ক হোন।

Please follow and like us:
20

Comments

comments