জার্মানিতে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির ভাগ্য

0
3
জার্মানিতে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির ভাগ্য
জার্মানিতে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির ভাগ্য

জার্মানিতে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির ভাগ্য

জার্মানিতে ৫০০ বাংলাদেশির ভাগ্য অনিশ্চিত
জার্মানিতে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির ভাগ্য

জার্মানিতে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির ভাগ্য অনেকটাই অনিশ্চিত! দেশটিতে বৈধতা পাওয়ার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে পরাস্ত হয়ে তারা এখন ঘোর অন্ধকারে। চলতি বছরের মধ্যে তাদের দেশে ফেরানোর তাগিদ দিচ্ছে বার্লিন। যদিও ঢাকার তরফে ‘অবৈধ’দের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এখনও শেষ করা যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৪ দিনের সফরে জার্মানি গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পেশাদার কূটনীতিক থেকে রাজনীতিক, পরবর্তীতে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সামলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মাহমুদ আলী তার জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় জার্মানির সঙ্গে দূতিয়ালিতে কাটিয়েছেন। বলা হয়ে থাকে তার সময় থেকেই বার্লিনের সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করে, যা ধারাবাহিভাবে আরও পরিণত এবং উষ্ণ হয়েছে।

সেগুনবাগিচার কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চলতি সফরকে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত থেকে উন্নতর করার সোপান হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, জার্মান ভূখণ্ড ছাড়ার আদেশ পাওয়া (আদালত থেকে) ৫০০ বাংলাদেশির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সফর আশার আলো হতে পারে। আদালতের রায়ের পর কূটনৈতিক উদ্যোগই একমাত্র বিকল্প। সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সফর হলে তো প্রত্যাশার পারদ ওপরে উঠে যায়। কর্মকর্তাদের সরবরাহ করা তথ্য মতে, আগামীকাল (শুক্রবার) জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমেয়ারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হবেন মন্ত্রী মাহমুদ আলী। সেখানে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আলী সরকারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও যোগ দেবেন। আগামী ৮ই অক্টোবর পর্যন্ত জার্মান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে সিরিজ আলোচনায় দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রায় সব বিষয়ই আসবে। বিশেষত: দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রী কথা বলবেন।

জার্মানিতে বিপদের মুখে থাকা বাংলাদেশীদের নাগরিত্ব যাছাই’র প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সরকারের এক কর্মকর্তা গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, জার্মানিতে অবৈধ হয়ে পড়া ১২১ এবং পরবর্তীতে ৪০ জন বাংলাদেশির পৃথক দু’টি তালিকা (জীবন বৃত্তান্ত, নাম, ঠিকানা, পাসপোর্ট নম্বর) সরবরাহ করে তাদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চেয়েছে বার্লিন। ঢাকাকে এ নিয়ে তারা চিঠিও দিয়েছে। দুই তালিকার মোট ১৬১ জনের মধ্যে অর্ধেকের নাগরিত্ব যাছাই (ভেরিফিকেশন)’র কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তার মতে, অবৈধ নাগরিকদের ফেরানোর প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে অন্য ইস্যুগুলোর সঙ্গে এটিও আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা। কূটনৈতিক সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, অবৈধ অভিবাসী প্রশ্নে জার্মানিসহ ইইউভুক্ত দেশগুলো বেশ কয়েক বছর ধরে সরব। ওই জোটে থাকা ২৮ রাষ্ট্রের প্রত্যেকে একক এবং জোটগতভাবে অবৈধদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। জার্মানিতে বৈধতা পাওয়ার আইনি লড়াই করছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশি। চলতি বছরের শুরুতে চূড়ান্ত লড়াইয়ে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি হেরে যান। দেশটির আদালতের আদেশে অবিলম্বে তাদের জার্মানি ছাড়তে বলা হয়েছে।

অবৈধ বাংলাদেশিদের সর্বশেষ অবস্থানের (স্ট্যাটাস) বিষয়ে বার্লিনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি কূটনৈতিক পত্র (নোটভারবাল) পাঠায় জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তর। বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আলী সরকার বরাবর পাঠানো ওই পত্রে ৫০০ বাংলাদেশির অবৈধ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তাদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার তাগিদ দেয়া হয় ওই কূটনৈতিক পত্রে।  বার্লিনে অনুষ্ঠিত স্টেট সেক্রেটারি লেভেল বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি উল্লেখ করে ওই পত্রে বলা হয়- অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিবের অঙ্গীকারে বার্লিন অত্যন্ত খুশি। কূটনৈতিক পত্রের শুরুতে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ বৈঠক এবং সেই সময়ে রাষ্ট্রদূতের বাসায় আয়োজিত ডিনারের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। সেখানে চলতি বছরজুড়ে বাংলাদেশের সভাপতিত্বে গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা জিএফএমডি’র যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তাতে জার্মানির ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেয়া হয়। পত্রে বলা হয়, অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে বৈধ অভিবাসন সরাসরি যুক্ত।

অবৈধ বাংলাদেশির বিষয়টি অনেকদিন ধরে ঝুলে আছে উল্লেখ করে পত্রে বলা হয়, তাদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন)’র প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে বিয়েলফেল্ড ফরেনার্স অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা তালিকাভুক্ত অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়মিতভাবে সাক্ষাৎকার নেয়াসহ ভেরিফিকেশনের একটি  মেকানিজমের প্রস্তাব করে জার্মানি। বার্লিনের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনার বিষয়টি জানতে চাইলে সেই সময়ে পররাষ্ট্র সচিব এম. শহীদুল হক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জোটের বিভিন্ন দেশে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নাগরিকত্ব নিশ্চিত হলেই তাদের ফেরত আনা হবে।

একই সঙ্গে বৈধভাবে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি  প্রেরণের জন্য সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ বিষয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

Save

Please follow and like us:
20

Comments

comments