কাউন্সেলিং বা থেরাপি নেয়ার জন্য আপনাকে মানসিক রোগী হতে হবে না

0
3
কাউন্সেলিং বা থেরাপি নেয়ার জন্য আপনাকে মানসিক রোগী হতে হবে না
কাউন্সেলিং বা থেরাপি নেয়ার জন্য আপনাকে মানসিক রোগী হতে হবে না

কাউন্সেলিং বা থেরাপি নেয়ার জন্য আপনাকে মানসিক রোগী হতে হবে না

কাউন্সেলিং এর বিষয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা ও সত্যিটা জানুন
কাউন্সেলিং বা থেরাপি নেয়ার জন্য আপনাকে মানসিক রোগী হতে হবে না

আমাদের সমাজে কাউন্সেলিং এর বিষয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে। আমরা মনে করি যারা মানসিক রোগী শুধু তাদেরই কাউন্সেলিং এর সাহায্যের প্রয়োজন হয়। স্বাভাবিক মানুষদের এই ধরণের সাহায্যের প্রয়োজন হয়না। তারা (স্বাভাবিক মানুষ) অনেকটা সুপার হিরোদের মত। তারা যে কোন সময়, যে কোন স্থানে, যে কোন বিষয় মোকাবেলা করতে পারে। যদি এটা সত্যি হত তাহলে থেরাপির ধারণাটির কোন অস্তিত্বই থাকতো না।

বর্তমান যুগের মানুষদের মধ্যে বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা, নিদ্রাহীনতা, মেজাজের পরিবর্তন, ব্যথা বেদনায় ভোগা ইত্যাদি মানসিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা যায়। অজানা কারণে আমরা এই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য ঔষধের উপরই নির্ভর করি বেশি। কিন্তু শারীরিক বা মানসিক সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে কাউন্সেলিং। কাউন্সেলিং এর বিষয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা ও সত্যি কথাগুলোই জেনে নিব এই ফিচারে।

১। আমাদের ভালো থাকার জন্য শারীরিক সুস্থতার মত মানসিক সুস্থতাও একান্ত প্রয়োজন
কোন জিনিস যখন আমাদের মন মত না হয় তখন আমারা হতাশ হয়ে পড়ি। সুস্থ মানসিক অবস্থা আমাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সমস্যার সমাধান এবং সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন কোন সমস্যায় ভুগলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, উদ্বিগ্নতা ও অত্যধিক রেগে যাওয়ার মত সমস্যাগুলো হয়। দৈনন্দিন কাজগুলো ঠিকমতো করতে যদি সমস্যা হয় তাহলে বুঝতে হবে যে, আপনার সাহায্য প্রয়োজন। তখনই আপনার কাউন্সেলিং এর সাহায্য নেয়া প্রয়োজন।

২। কাউন্সেলিং বা থেরাপি নেয়ার জন্য আপনাকে মানসিক রোগী হতে হবে না
একজন থেরাপিস্ট আপনার সমস্যাগুলো বা লক্ষণগুলোর বিষয়ে শুনবেন, নিরীক্ষা করবেন এবং সমস্যার উৎসটির সন্ধান করবেন। কিন্তু তিনি ঔষধের পরিবর্তে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টি দেখবেন এবং সম্ভাব্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। আপনি হয়তো চাকরি নিয়ে উদ্বিগ্নতায় ভুগছেন না হয় পারিবারিক বা সম্পর্কজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। একজন প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর আপনাকে এই সমস্যাগুলো থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করবেন। শুধুমাত্র পাগল হলেই থেরাপি নেয়ার দরকার হয় এটা ভুল ধারণা।

৩। আপনি দুর্বল বলেই কাউন্সেলিং প্রয়োজন এমনটা ভাবার কারণ নেই
কাউন্সেলর এর কাছে আপনার সমস্যার কথা এবং আপনার একান্ত অনুভূতির কথা বলা মানেই আপনি দুর্বল চরিত্রের মানুষ হয়ে যাবেন এমনটা ভাবা উচিৎ নয়। কাউন্সেলিং এর ফলে আপনার চিন্তার প্রক্রিয়াটি প্রসারিত হবে এবং আপনি একটি বিশেষ ঘটনাকে বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে আপনার আবেগ প্রকাশ হবে এবং আপনি রিলেক্স অনুভব করবেন। একে ইমোশনাল ক্লিঞ্জিং বা ক্যাথারসিস বলা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এটি আপনার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, যার ফলে আপনি আপনার চিন্তাগুলোকে, আবেগকে এবং আপনার প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

৪। অন্য কেউ যদি জেনে যায়!
পারস্পরিক আস্থা ও গোপনীয়তা রক্ষা করেই কাউন্সেলিং করা হয়। একজন কাউন্সেলর নৈতিক কারণেই তার ক্লায়েন্টের তথ্য অন্য কাউকে দেননা। বিশেষ ক্ষেত্রে যদি ক্লায়েন্টের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয় তাহলেই কেবল একজন কাউন্সেলর সেই ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত মানুষদের সাথে কথা বলেন। তাই আপনি নিশ্চিন্তে আপনার সমস্যাটির কথা বলুন থেরাপিস্টকে। তাহলেই তিনি আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন।

একবার কাউন্সেলিং এর সাহায্য নিলে সারা জীবন তা নিতে হয়, কাউন্সেলিং করাতে অনেক টাকা লাগে, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সাথে কথা বললেই চলে, একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের কাছে কীভাবে মনের কথা বলা যায়, কাউন্সেলর শুধু কথা বলেন ও শুনেন আর কিছুই করেন না  ইত্যাদি ধারণাগুলোও ভুল।

Save

Please follow and like us:
20

Comments

comments