সফল ইন্টার্নশিপে করণীয় কাজ গুলো জেনে রাখুন

0
17
সফল ইন্টার্নশিপে করণীয় কাজ গুলো জেনে রাখুন
সফল ইন্টার্নশিপে করণীয় কাজ গুলো জেনে রাখুন

আমরা ইন্টার্নশিপ কথাটার সাথে কমবেশি অনেকেই পরিচিত। মধ্যবিত্ত আয়ের দেশের তুলনায় উন্নত দেশগুলোতে ইন্টার্শিপের প্রচলনটা বেশি। কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তারা ইন্টার্নশিপকে অপরিহার্য একটি বিষয় বলে মনে করেন।

কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শেষ করে কিংবা কোনো টেকনিক্যাল কোর্স করে প্র্যাক্টিক্যাল লাইফের কাজের ধারণাটা পাওয়া কঠিন। তাই ইন্টার্ভিউগুলোতে গিয়ে কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রশ্ন করলে দেখা যায় ক্যান্ডিডেট যত ভালো স্টুডেন্ট বা উচ্চ ডিগ্রীধারী হোক না কেন সেসব প্রশ্নের সামনে হিমশিম খেয়ে যায়। কারণ থিওরি সে অনেক ভালো জানলেও বাস্তব অভিজ্ঞতা তার নেই। তাই ইন্টার্নশিপ করাটাকে বলা চলে চাকরি জীবনে প্রবেশের আগে নিজেকে প্রস্তুত করে নেবার একটা চমৎকার শিক্ষানবিশকাল।

তাই শর্ট আর লং যা-ই হোক, ভালো দক্ষকর্মী হয়ে প্রফেশনে প্রবেশ করার জন্য ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম করাটা জরুরি।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে পাওয়া ইন্টার্নশিপকে কীভাবে আপনি কাজে লাগাতে পারেন, আসুন জেনে নেওয়া যাক।
একজন ইন্টার্নকে কখনই অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবেনা। ইন্টার্নশিপের কাজ মূলত তার সিনিয়রদের কাজে সহযোগিতা করা। এটি প্রক্রিয়ার একটি অংশ এবং এভাবেই কাজের বিস্তারিত শেখা হয়।

ইন্টার্নশিপ চলাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত শিক্ষানবিশদের দিয়ে কিছু বাড়তি কাজ করিয়ে নেন। এগুলো পালন করা শিক্ষানবিশদের কর্তব্য। এতে বিরক্ত না হয়ে শেখার মানসিকতা নিয়েই কাজগুলো করতে হবে। যেকোনো কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করুন। আপনি যদি কাজগুলো একঘেয়ে, বিরক্তিকর মনে না করে, আনন্দের সাথে শেষ করেন তবে পরবর্তীতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

ইন্টার্নশিপ নির্দিষ্ট একজনের অধীনে বা তত্ত্বাবধানে করতে হয়। সেই তত্ত্বাবধায়ক বা সুপারভাইজারের সঙ্গে ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। যেকোনো আইডিয়া এই তত্ত্বাবধায়ক বা সুপারভাইজারের সঙ্গে আলোচনা করুন। এতে আপনি অনেক বেশি শিখতেও পারবেন।
ইন্টার্ন করতে গিয়ে আপনি কার অধীনে কাজ করছেন, কাজের দায়িত্ব কী কী, একটি শেষ করে পরের কাজটি কী ইত্যাদি নোট আকারে লিখে রাখুন। দিনের শেষে বসকে যখন কাজ বুঝিয়ে দিতে যাবেন তখন সেই নোটটি আপনার কাজে দেবে।

ইন্টার্নশিপ মূলত একটি নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট, সুপারভাইজার ও শিক্ষানবিশদের চক্রে আবদ্ধ। কিন্তু আপনি তাতে আবদ্ধ না থেকে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য মিটিং, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্স, ইভেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে চেষ্টা করুন। এতে প্রতিষ্ঠানের খুঁটিনাটি বিষয়ে জানতে পারবেন। অন্য ডিপার্টমেন্টের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের সোস্যাল ইভেন্টে অংশগ্রহণ করুন। আর সব জায়গায় নিজের আইডিয়া শেয়ার করুন। যত বেশি অন্যদের সঙ্গে আইডিয়া শেয়ার করবেন ততই শিখতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যে ধরনের কাজ আপনার কাছ থেকে আশা করছে, সে-বিষয়ে আপনার কোনো ধারণা না থাকাটাই স্বাভাবিক। ফলে কাজটা ভালো করে বুঝে নিন। আর এ-নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিঃসংকোচে জিজ্ঞেস করুন।

প্রতিষ্ঠান সেই কর্মীকেই পছন্দ করে, যে বা যারা যে কোনো অবস্থায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে। তাই আপনাকেও প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি যে কোনো সময় যে কোনো পরিস্থিতিতে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য এফোর্ট দেবেন।।

চাকরি খোঁজার সবচেয়ে বড় উপায় হল যোগাযোগ। যার যোগাযোগ যত বেশি তার চাকরিও মেলে তত দ্রুত। তাই ইন্টার্নশিপের সময় সুপারভাইজারসহ সবার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

এছাড়া অভিযোগ, অশুভ আচরণ, সহযোগীদের সঙ্গে অশালীন কথাবার্তা, দেরিতে অফিসে আসা এবং অন্যদের আগে অফিস ত্যাগ করা, ডেডলাইন মিস ও অফিস পলিসি না মানা কিন্তু নিজের জন্যই ক্ষতিকর। তাই এসব এড়িয়ে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করুন।

Please follow and like us:
20

Comments

comments