নেদারল্যান্ডে দূতাবাস উৎসবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রদর্শনী

0
13
নেদারল্যান্ডে দূতাবাস উৎসবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রদর্শনী
নেদারল্যান্ডে দূতাবাস উৎসবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রদর্শনী
নেদারল্যান্ডে দূতাবাস উৎসবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রদর্শনী
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার প্রয়াসে নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস এই প্রথমবারের মতো অংশ গ্রহণ করল দি হেগে অনুষ্ঠিত দূতাবাস উৎসবে।
শনিবার প্রায় ৪২ টি দেশের অংশগ্রহণে দূতাবাস উৎসবে বৈচিত্র্যময় দর্শনার্থীদের নিকট থাইল্যান্ড যেমন উপস্থাপন করল তাদের সমৃদ্ধ রন্ধন প্রণালী, মালয়েশিয়া তুলে ধরল তাদের পর্যটন সম্ভাবনা, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রদর্শন করল তাদের পানীয়, বাংলাদেশ উপস্থাপন করেছে তার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও হস্তশিল্প।
স্থানীয় মিউনিসিপাল কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন দূতাবাসের বছরব্যাপী ব্যাপক প্রচারণার ফলশ্রুতিতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় স্থানীয় অধিবাসী ও দি হেগের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের আত্মীয়, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবসহ উৎসবে অংশ গ্রহণ করেন। সেপ্টেম্বরের প্রথম শনিবার তথা শরতের রৌদ্রকরোজ্জল সুন্দর এই দিনে রঙিন উৎসবে উৎসাহী দর্শনার্থীদের স্রোতের যেন অন্ত ছিল না। আর স্থানীয় বাংলাদেশ কম্যুনিটির গন্তব্য ছিল ঘুরে ফিরে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন, স্বভাবতই এর চারিদিকে দিনভর শোনা গেছে বাংলায় গুঞ্জন। উৎসবে নেদারল্যান্ডে উচ্চ শিক্ষার্থে আগত বাংলাদেশী ছাত্র সমাজের ভিড়ও ছিল লক্ষণীয়। দূতাবাসের মাসব্যাপী প্রচারণার ফলে বাংলাদেশ কম্যুনিটির সদস্যরা আগে থেকেই দিনটি বরাদ্দ রেখেছিলেন এ উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য।
বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি আর হস্তশিল্পকে মূল থিম হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নকে সাজানো হয় নকশীকাঁথা আর রং-বেরং এর ঢাকাই জামদানির সাহায্যে। বাংলাদেশের মুখরোচক খাবারের স্বাদ সকলের নিকট পৌঁছে দিতে আয়োজন ছিল চটপটি, সিঙ্গারা, পিয়াজু, চপ, বিরিয়ানি আর পাটিসাপটা, নারিকেল পুলির। দেশি বিদেশি সকল দর্শনার্থীর নিকট বাংলাদেশি এই খাবারের ছিল ব্যাপক চাহিদা।
প্যাভিলিয়নে উপস্থাপন করা হয় গ্রাম-বাংলার নারীদের তৈরি হস্তশিল্প সামগ্রী যেমন নকশীকাঁথা, মৃৎশিল্প সামগ্রী, ঢাকাই জামদানী, পাটজাত দ্রব্য, পিতলের তৈজসপত্র ইত্যাদি। প্রদর্শিত হস্তশিল্প সামগ্রী সমূহ আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় এবং অনেককেই তাঁদের পছন্দসই হস্তশিল্প সামগ্রী সংগ্রহ করতে দেখা যায়। প্যাভিলিয়নের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল ঢাকাই জামদানীর প্রদর্শনী; বিদেশী দর্শনার্থীদের অনেকের মধ্যেই জামদানীর প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া প্যাভিলিয়নে অন্যান্য পোশাক যেমন পাঞ্জাবী, ফতুয়া ইত্যাদিও প্রদর্শন করা হয়।
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রদর্শনী হিসেবে উৎসবের মূলমঞ্চে বাংলাদেশী শিশু নৃত্যশিল্পীরা উপস্থাপন করে চারটি জনপ্রিয় বাংলা লোকসঙ্গীতের সমন্বয়ে একটি নাচ। বাংলাদেশী শিশু-শিল্পীদের লাল জামদানী শাড়ী, রেশমি চুড়ি, মালা ও ফুলেল গয়না সহ রঙিন বাংলাদেশী সাজ সকলকে আকৃষ্ট করে। অনুষ্ঠানে আগত অনেককেই বাংলাদেশী শিল্পীদের সাথে ছবি তোলার অনুরোধ করতে দেখা যায়।
নেদারল্যান্ডে দূতাবাস উৎসবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রদর্শনী
নেদারল্যান্ডে দূতাবাস উৎসবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রদর্শনী
নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল সস্ত্রীক প্রায় সারাদিন বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্যাভিলিয়নে আগত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান এবং তাদের সাথে সময় অতিবাহিত করেন। উৎসবে অংশগ্রহণের এ অভিজ্ঞতাকে রাষ্ট্রদূত খুবই মূল্যবান ও ফলপ্রসূ হিসেবে অভিহিত করেন।
স্থানীয় ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত বলেন যে এই উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশ সফরের অনন্য সাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে।  আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় শামিল হবার। রাষ্ট্রদূত বেলালকে প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের সাথে সময় কাটাতে দেখা যায় এবং তাঁদের বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা সম্পর্কে অবহিত করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন যে, এধরনের অংশ গ্রহণ শুধু আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের পতাকা সমুন্নত করে শুধু তাই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশকে নিয়ে গর্ব করার একটি উপলক্ষও সৃষ্টি করে বটে।
 সংগৃহীতঃ ইত্তেফাক
Please follow and like us:
20

Comments

comments