দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শত্রুকে বাঁচাতে জীবন বাজী রেখেছিলেন যে মানুষগুলো

0
3
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শত্রুকে বাঁচাতে জীবন বাজী রেখেছিলেন যে মানুষগুলো

 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শত্রুকে বাঁচাতে জীবন বাজী রেখেছিলেন যে মানুষগুলো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শত্রুকে বাঁচাতে জীবন বাজী রেখেছিলেন যে মানুষগুলো
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শত্রুকে বাঁচাতে জীবন বাজী রেখেছিলেন যে মানুষগুলো

যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের প্রাণ আর সম্পদ বাঁচাতে ব্যস্ত থাকে মানুষ। বিশেষ করে সেই মানুষটি যদি হয় যুদ্ধের সাথে সরাসরিভাবে যুক্ত তাহলেতো আর কোন কথাই নেই। প্রতিপক্ষ তখন আর মানুষ নয়, তার সামনে আসে একজন শত্রু হিসেবেই। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে, ইতিহাসে সংঘটিত হওয়া দুইটি বড় রকমের যুদ্ধের ভেতরে একটি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, এমনটা হয়নি। নিজেকে তুচ্ছ করে, নিজের জীবনের বাজী রেখে শত্রুপক্ষকে সাহায্য করেছেন এমন সামরিক ও রাজ ব্যাক্তিত্বের অভাব ছিলনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। চলুন দেখে আসি সেসময় যুদ্ধকে তুচ্ছ করে মানবতার ইতিহাসে ঘটে যাওয়া এমন কিছু পরোপকারের ঘটনাকে।

১. রোমানিয়ার রাজকন্যার অভূতপূর্ব সাহায্য
জার্মানি ও হিটলারের সাথে রোমানিয়া হাত মেলালেও শিশুকালে লন্ডনে বেড়ে ওঠা রোমানিয়ার রাজকন্যা ক্যাথেরিন কারাডজার পক্ষে বিষয়টি মেনে নেওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। কোনভাবেই নিজের শিশুকালে বেড়ে ওঠার স্থানটির মানুষের ক্ষতি চাইতে পারেননি। আর তাই শত্রুপক্ষ যখন রোমানিয়ার আকাশে বিমান নিয়ে দেশটির তেলক্ষেত্রের ওপর আক্রমণ চালাতে শুরু করে তখন থেকে তীক্ষ্ণ নজর রাখেন তিনি তাদের ওপর। শত্রুপক্ষকে রোমানিয়ার সৈন্যরা আকাশ থেকে গুলি করে মাটিতে ফেলার পরপরই তাদেরকে নিজ দায়িত্বে হাসপাতালে নিয়ে যান এই রাজকন্যা। অত্যন্ত গোপনে নিজের প্রাণ বাজী রেখে সুস্থ হয়ে ওঠা সৈন্যদেরকে এক এক করে স্বাধীন ইতালিতে পাঠিয়ে দেন তিনি। এভাবে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত মোট ১,০০০ জন কে বাঁচাতে সক্ষম হন ক্যাথেরিন কারাডজা।

২. শত্রুকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু
যুদ্ধের সময় জার্মানির পক্ষ থেকে আমেরিকার সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন লেফটেনেন্ট ফ্রেডরিক লেঙ্গফেল্ড। রাইফেল হাতে সৈন্যদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি। হঠাত্ তার কানে ভেসে আসল এক আহত আমেরিকান সৈন্যের আর্তনাদ। যুদ্ধটি হচ্ছিল একটি মাইন ফিল্ডে। কেউ যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলনা আমেরিকান সৈন্যটির কাছে। এমনকি তার আমেরিকান বন্ধুরাওনা। ফ্রেডরিকের সৈন্যরা আমেরিকান সৈন্যটিকে মেরে ফেলতে চাইলে তিনি বাঁধা দেন। বলেন আমেরিকানরা আহত বন্ধুকে নিয়ে যাবে। কিন্তু কয়েক ঘন্টা পরেও যখন কেউ একলোনা তখন ফ্রেডরিক একাই পা বাড়ালেন আমেরিকান মানুষটিকে বাঁচাতে। আর সাথে সাথে বিস্ফোরিত হল পায়ের নীচের মাইন। আমেরিকার সৈন্যটি বেঁচেছিল কিনা জানা যায়নি। তবে ফ্রেডরিক মারা যান এই ঘটনায়। তাকে তার বীরত্বের জন্যে পরবর্তীতে সম্মানিত করা হয়।

৩. শত্রুকে সুরক্ষা
যুদ্ধক্ষেত্রে জার্মানির অন্যতম সেরা বৈমানিক লেফটেনেন্ট ফ্রানজ স্টিগলারকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বি-৭ বোম্বারকে গুলি করে মাটিতে নামিয়ে দিতে। কিন্তু বিমানের কাছে যাওয়ার পরপরই একটু অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে স্টিগলারের। সামনের বিমানটিতে কয়েকটি গুলির ছিদ্র দেখতে পান তিনি। ভেতরের মানুষটিও ছিল আহত। সেসময় মানুষটিকে মারার চাইতে তাকে বাঁচানোর চিন্তা বেশি করে কাজ করে স্টিগলারের মাথায়। তিনি নিজে মানুষটিকে মারেননি তো বটেই, এমনকি অন্য কোন জার্মান বোমারু যাতে কোন ক্ষতি করতে না পারে আহত মানুষটির সেটা মাথায় রেখে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আপ পর্যন্ত বিমানটিকে সুরক্ষা দেন স্টিগলার। তিনি শত্রুকে মারতে চেয়েছিলেন বটে, কিন্তু কোন আহত মানুষকে হত্যা করতে চাননি।

৪. জাপানি বালকের মানবতা
সেসময় যুদ্ধে জাপানিদের হাতে ধরা পড়েন কার্ল রুজ। তাকে ইয়োক্কাইচি-ইশিহারা সাঙ্গিয়ারো ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়। দিনের পর দিন কোনরকম খাবার বা পানি ছাড়াই। মৃত্যুর খুব বেশি দূরে ছিলেননা রুজ। সেসময় হঠাত্ ক্যাম্পে কাজ করা এক জাপনি বালক ফুমিও নিশিওয়াকি দেখতে পায় রুজকে। প্রতিদিন সে কিছু না কিছু খাবার ও পানীয় দিতে থাকে কয়েদি মানুষটিকে। শত্রু জেনেও। শেষ অব্দি এই বালকের জন্যেই ক্যাম্প থেকে বেঁচে ফেরেন রুজ।         লেখিকা –

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

Please follow and like us:
20

Comments

comments