কেমন ফার্স্ট লেডি হবেন মেলেনিয়া ট্রাম্প?

0
5
কেমন ফার্স্ট লেডি হবেন মেলেনিয়া ট্রাম্প?

কেমন ফার্স্ট লেডি হবেন মেলেনিয়া ট্রাম্প?

কেমন ফার্স্ট লেডি হবেন মেলেনিয়া ট্রাম্প?
কেমন ফার্স্ট লেডি হবেন মেলেনিয়া ট্রাম্প?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলেনিয়া ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে মেলেনিয়া হবেন ফার্স্ট লেডি। তো, ফার্স্ট লেডি হিসেবে তিনি কেমন হবেন, তা নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা চলাটাই স্বাভাবিক। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে ট্রাম্প যেমন আলোচিত-সমালোচিত, তাঁর সঙ্গী মেলেনিয়াও কম যান না!
মেলেনিয়া ট্রাম্প কে, কীভাবে তাঁর উত্থান ঘটল এবং ফার্স্ট লেডি হলে তিনি কেমন হবেন, তা নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি অনলাইন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেলেনিয়ার জন্ম স্লোভেনিয়ার ছোট্ট শহর সেভনিকায়। এটি রাজধানী লুবিয়ানা থেকে তা ঘণ্টা খানেকের পথ। ১৯৭০ সালের এপ্রিলে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা মেয়র দপ্তরে কাজ করতেন, পরে সফল গাড়ি ব্যবসায়ী হন। তাঁর মা পোশাকের নকশাকার হিসেবে কাজ করতেন। এখন অবশ্য এই দম্পতি ট্রাম্প-মেলেনিয়ার ছেলে ব্যারনের দেখভালের জন্য বছরের অনেকটা সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটান।
মেলেনিয়ার পেশাগত ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তিনি লুবিয়ানায় নকশা ও স্থাপত্যবিদ্যা বিষয়ের ওপর ডিগ্রি নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর রটে যে তিনি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করার সময়ই বাদ পড়েন। পরে মেলেনিয়ার এই ওয়েবসাইটটির কিছু তথ্য ঘষামাজা করা হয় এবং ওই ওয়েবসাইটটিকে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

১৮ বছর বয়সে মেলেনিয়া ইতালির মিলানের একটি মডেলিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। তখন থেকে তিনি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে মেলেনিয়ার বয়স যখন ২৮ বছর, তখন নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়। ট্রাম্প তখন মেলেনিয়ার ফোন নম্বর চান। কিন্তু মেলেনিয়া তাঁকে ফোন নম্বর না দিয়ে উল্টো বলেছিলেন, ‘তোমারটা দিয়ে যাও। মন চাইলে আমিই তোমাকে ফোন দেব।’ মেলেনিয়ার মন চেয়েছিল, তিনি ফোন করেছিলেন ট্রাম্পকে। বেশ কয়েক বছর প্রেমের পর ২০০৫ সালে বিয়ে করেন ট্রাম্প-মেলেনিয়া। ২০১১ সালে তাঁদের কোলজুড়ে আসে ছেলে ব্যারন।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের সময় মডেল মেলেনিয়ার কিছু ছবি চরম বিতর্কের জন্ম দেয়। সাময়িকীতে প্রকাশিত তাঁর নগ্ন ছবিগুলো প্রচার করে প্রশ্ন তোলা হয়, ‘আপনারা কি এমন ফার্স্ট লেডি চান?’ বলা হয়, ‘আপনারা যদি ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেন, তবে প্রথমবারের মতো এমন একজন ফার্স্ট লেডিকে পাবেন, যিনি সাময়িকীতে নিজের নগ্ন ছবি প্রকাশ করেছেন।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী মেলেনিয়া ট্রাম্প যে বক্তব্য দেন, তা বর্তমান ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার বক্তব্য থেকে চুরি করা বলে খবর রটে। মূলধারার গণমাধ্যমগুলো, অনুচ্ছেদ ধরে ধরে দুজনের বক্তব্যের মিলগুলো তুলে ধরে খবর প্রকাশ করে।

তবে বিতর্ক এখানেই থেমে থাকেনি। ট্রাম্পের সঙ্গে বিয়ের আগে মেলেনিয়া যৌনকর্মী ছিলেন—ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি মেইল ও মার্কিন ব্লগার ওয়েবস্টার টারপ্লি এমন তথ্য প্রকাশ করেন। এরপর ভীষণ চটে যান তিনি। ‘মিথ্যা খবর ও মন্তব্য’ প্রকাশ করার জন্য ডেইলি মেইল ও ওই ব্লগারের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেন ট্রাম্প-পত্নী। তবে ডেইলি মেইল ও ওই ব্লগার তাঁকে নিয়ে লেখা প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

স্লোভেনিয়ান, ফরাসি, জার্মান ও ইংরেজিতে কথা বলায় দক্ষ মেলেনিয়ার নিজস্ব ব্র্যান্ডের গয়নার ব্যবসার আছে। তিনি নিজেরটা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তিনি থাকতে চান না। এই কাজ তাঁর স্বামী করুক, সেটাই তিনি চান। তবে তাঁর ইচ্ছা, তিনি বেটি ফোর্ড বা জ্যাকি কেনেডির মতো ফার্স্ট লেডি হবেন। এই সাবেক দুই ফার্স্ট লেডি তাদের ফ্যাশন সচেতনতার জন্য বেশ পরিচিত ছিলেন।

মেলেনিয়াকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি অন্য ফার্স্ট লেডিদের মতো স্বামীকে পরামর্শ দেওয়ার কাজ করবেন কি না? জবাবে তিনি বলেন, তিনি তাঁর স্বামীকে নানা বিষয়ে পরামর্শ দেন। তবে কী পরামর্শ দেন, তা তিনি প্রকাশ্যে বলতে চান না। কারণ, তিনি চান সেগুলো তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই থাকুক। অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের জন্য ট্রাম্প বেশ সমালোচিত। অথচ তাঁর তৃতীয় স্ত্রী মেলেনিয়ার জন্মভূমি স্লোভেনিয়া। একজন অভিবাসী হিসেবে মেলেনিয়া ট্রাম্পের এই ভূমিকাকে কীভাবে দেখেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে তিনি ঠিকঠাক সব কাগজপত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেছেন। আইন মেনে চলেছেন। নিয়মিত ভিসা হালনাগাদ করেছেন। ২০০৬ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। তাঁর স্বামী অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বলেছেন, বৈধদের বিরুদ্ধে নয়—এমনটাই তাঁর ভাষ্য।

সংগৃহীতঃ  প্রথম আলো ।

Please follow and like us:
20

Comments

comments