অজান্তে নীরবে নিজেরই কোন ক্ষতি করছি না তো?

0
11
অজান্তে নীরবে নিজেরই কোন ক্ষতি করছি না তো?

অজান্তে নীরবে নিজেরই কোন ক্ষতি করছি না তো?

একটু খেয়াল করে বলুন তো, প্রতিদিন আপনি কত ঘণ্টা বসে থাকেন? অফিসের কাজে, পড়ার টেবিলে, বাসে বা গাড়িতে, খাবার টেবিলে, টিভির সামনে, ফেসবুক বা কম্পিউটারের সামনে? যোগ করুন।

দীর্ঘ দিন, দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে আমাদের স্থুলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হজমে সমস্যা, ব্যাকপেইনসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে হার্ট এ্যাটাক হতে পারে, এমন কি হতে পারে মৃত্যুও।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে আমেরিকানদের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে। যদি সারাদিন গড়ে ৩ ঘণ্টা বা এর কম সময় বসে থাকেন, তবে গড়ে তাদের আয়ু ২ বছর বেড়ে যাবে। আর এর মধ্যে টিভি দেখার সময়টা যদি ২ ঘণ্টার থেকে কমিয়ে আনে তবে ১ দশমিক ৪ বছর বাড়তি জীবন বোনাস পাবে।

গড়ে প্রতি আধাঘণ্টায় (বসার পরে) এক থেকে তিন মিনিট উঠে দাঁড়ান বা হাঁটুন। আপনার চেয়ারকে ট্রেডমিল বা হাটার যন্ত্র দিয়ে রিপ্লেস করার প্রয়োজন নেই।

দ্রুত হাঁটুন এতে ক্যালরি দ্রুত পুড়বে, পায়ের পেশী শক্তিশালী হবে-যা আপনার ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী। আমরা সবাই জানি দ্রুত হাঁটা জীবনী শক্তি বাড়ায়।

সিঁড়ি ভাঙুন, আপনি হয়তো হাজার বার এ কথা শুনেছেন। কিন্তু এটা কি জানেন, শুধু মাত্র ২ তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করলে বছরে এমনি এমনিই আপনার ৬ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমে যাবে?

আরও মজার কথা হলো, দিনে ২ মিনিট করে সপ্তাহে ৫ দিন সিঁড়ি বেয়ে ওঠা হলো ৩৬ মিনিট হাঁটার সমান। নিজেকে একটা সহজ টার্গেট দিন।

ধরুন-প্রথম সাতদিনে ১ তলা সিড়ি বেয়ে উঠে লিফট নেবেন। তারপরের সপ্তাহে ২ তলা উঠে লিফট নিন। এর ৭ দিন পরে ৩ তলা উঠে লিফট নিন।

এভাবে প্রতিদিন ৬ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি ভাঙার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করুন। (সিঁড়ির ধাপ প্রতি তলায় ১০টি যেখানে, ৩ তলা = ৬০ ধাপ) ধাপ কম-বেশি নিজে নিজে অ্যাডজাস্ট করে নিন। উপরে উঠতে যে পরিমাণ শক্তি লাগে, নিচে নামতে তার আর্ধেক শক্তি ক্ষয় হয়।

প্রতিদিন ১০ হাজার ধাপ হাঁটুন। পেডোমিটার নামে যন্ত্র আপনি কত ধাপ হাঁটছেন তা মেপে দেবে। মোবাইলেও অ্যাপ পাওয়া যায়।

তবে এই ধাপগুলো একবারে হাঁটলে হবে না। প্রতি আধাঘণ্টা পর পর ১ থেকে ৩ মিনিট হাঁটুন।
ফোন এলে দাঁড়িয়ে, বা হেঁটে হেঁটে কথা বলুন।

ফার্নিচার এমনভাবে সাজান যেন বসার জায়গা কমে যায় আর বেশি হাঁটা এবং দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয়। যেমন: খাবার পানিটা দূরে রাখুন, জানালার পাশে।

অফিসে নিজের চা, পানি, নিজেই নিয়ে নিলে একটু বাড়তি হাঁটা হয়ে যাবে।

ছাদে, বারান্দায়, বেসিনের ওপর ছোট ছোট টবে গাছ লাগান। প্রতিদিন পানি দিন। মাটি খুঁচিয়ে দিন। কিছু কিছু গাছ আছে যেগুলো ছায়ায় রাখা যায়। সেগুলো ঘরে রাখুন। এতে ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ হবে। সেই সঙ্গে আপনার নড়াচড়াও হয়ে যাবে।

নিয়ম করে ঘরের ধূলো ঝাড়ার কাজ করুন। স্বাস্থ্যকর পরিবেশের পাশাপাশি আপনার আরও একটু ব্যায়াম হয়ে যাবে।

এভাবে ছোট ছোট কাজগুলো একটু বেশি করলে অনেক দিন আমরা সুস্থ ও ফিট থাকতে পারবো। বেশি অরাম আসলে আমাদের নিজেদের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Please follow and like us:
20

Comments

comments

SHARE
Previous articleঅন্ধকারের পাঠ- যোশেফ হাবিবের লেখা
Next articleচায়নার সাথে ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে
আমি শারমিন আক্তার মুক্তা। আমি বাংলাদেশে বাস করি এবং জন্ম সূত্রে বাংলাদেশি। আমি খুব সাধারন একটা মেয়ে, ন্যায়বান, বন্ধুভাবাপন্ন, স্বাধীন মতাবলম্বী। আমি জটিলতা, অসততা, মিথ্যাবাদিতা পছন্দ করিনা। আমি সব কিছুর ভাল দিকটা চিন্তা করি। আমার দুর্বলতা হল আমি অন্য মানুষকে খুব সহজেই বিশ্বাস করি। আমার শখ বই পড়া ওগান শোনা ।