আমাদের জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ ঘুম আর ঘুম

0
35
আমাদের জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ ঘুম

হিসেব করে দেখা গেছে আমাদের জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় আমরা ঘুমিয়েই কাটাই! ‘ঘুম’ বিষয়টাকে যে তলিয়ে দেখা ভাল, তা বুঝতে কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা অজস্র কাজ করেছেন ও করে চলেছেন। আর তার ফলে, আমরা এখন একটু একটু করে জানতে ও বুঝতে পারছি, ঘুম কেন আমাদের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। জানতে পারছি, যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি, আমাদের মস্তিষ্ক তখন কী করে। ঘুম না আসার কারণটাই বা কী? ঘুমের সময় আপাতদৃষ্টিতে কাউকে অজ্ঞান বলে মনে হলেও, তাঁর মস্তিষ্কের ইন্দ্রিয়-অনুভূতির ‘জানলা’টি যে বেশ খানিকটা খোলা থাকে, তা আমরা এই সব কাজ থেকে জানতে পেরেছি।

স্বপ্ন: কী ও কেন, দেখুন ভিডিও।

 

তা হলে, ‘ঘুম’-এর সঠিক সংজ্ঞাটি কী? 

বিজ্ঞানীদের মতে, ‘ঘুম’ হল একটি পর্যাবৃত্ত (পিরিয়ডিক)। তা একেবারেই প্রাকৃতিক। আর তা একেবারেই সাময়িক ভাবে হারিয়ে যাওয়া চেতনার ক্ষণ। পৃথিবীর সব প্রাণীর ক্ষেত্রেই ঘুম একটি জরুরি প্রক্রিয়া। যা কি না মানুষের ক্ষেত্রে সঠিক শ্বাসক্রিয়া, রক্ত সঞ্চালন, শারীরিক বৃদ্ধি ও সংক্রমণ রোধ করতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এই সময় আমাদের শরীরের পাঁচ শতাংশ বেশি রক্ত মস্তিষ্কের দিকে সঞ্চালিত হয়। যখন আমরা ঘুমোই, তখন আমাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন ‘কেন্দ্র’ এক টানা কাজ করে। নিদ্রা আর জাগরণের প্রক্রিয়াটি সঠিক ভাবে চালু রাখার জন্য। প্রতি দিন ২৪ ঘণ্টায় আমরা ১৬ ঘণ্টা জেগে কাটাই আর ৮ ঘণ্টা থাকি ঘুমিয়ে। আর তার জন্য যে ‘কেন্দ্র’টির ভুমিকা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, সেটি হল- আমাদের মস্তিষ্কের নীচের দিকে থাকা ছোট্ট বাদামের মতো একটি অংশ। যার নাম-‘হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus)’। আমরা জেগে থাকব নাকি ঘুমিয়ে পড়ব, তার অনেকটাই নির্ভর করে ‘হাইপোথ্যালামাস’ আর ‘ব্রেন স্টেম’ নামে দু’টি বিশেষ  অংশের ওপরে। মস্তিষ্কের যে দু’টি অংশের কথা বললাম, তার কিছু নিউরন বা স্নায়ুকোষই এই কাজটার জন্য দায়ী। এদের দু’ভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে যে স্নায়ুকোষগুলি উত্তেজিত থাকলে আমরা এক টানা ১৬ ঘণ্টা জেগে থাকতে পারি, তারাই তখন ক্রমাগত ‘ঘুম আনার জন্য দায়ী’ স্নায়ুকোষগুলিকে দাবিয়ে রাখে।
ঘুমের সময় বিভিন্ন অবস্থা বা পর্যায়।

নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মস্তিষ্কের ‘হাইপোথ্যালামাস’ আর ‘ব্রেন স্টেম’-এর বিশেষ কিছু স্নায়ুকোষ উত্তেজনার সঙ্কেত (সিগন্যাল) মস্তিষ্কের ‘হায়ার সেন্টার’ বা ‘কর্টেক্সে’ (মস্তিষ্কের ওপরের অংশটিকে) পাঠাতে থাকে যতক্ষণ আমরা জেগে থাকি বিশেষ ‘রাসায়নিক সংবাদদাতা’ বা ‘কেমিক্যাল নিউরো-ট্রান্সমিটার’-এর মাধ্যমে। মস্তিষ্ককে উত্তেজিত রাখতে গিয়ে ‘হিস্টামিন’ নামে এক ধরনের নিউরো-ট্রান্সমিটার নিঃসরণ করে ‘হাইপোথ্যালামাস’-এর ‘টিউবারো-ম্যামালিয়ারি নিউক্লিয়াস’ বা ‘TMN’ নামে স্নায়ুগুলি থেকে। ঘুমের সময়, ‘হাইপোথ্যালামাস’-এর ‘ঘুমের জন্য দায়ী’ ‘ভেনট্রোল্যাটেরাল প্রি-অপটিক নি‌উক্লিয়াস’ বা, ‘VLPO’ স্নায়ুকোষগুলো উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এই সময়টিতে তারা ক্রমাগত ‘জাগিয়ে রাখার’ স্নায়ুকোষগুলোকে পুরোপুরি দাবিয়ে রাখার চেষ্টা চালায়। এ ভাবে ‘রাসায়নিক বার্তা’র (রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে যে বার্তা পাঠানো হয়) মাধ্যমে ‘হাইপোথ্যালামাসে’র ‘TMN’ স্নায়ুকোষগুলোকে ‘জাগ্রত অবস্থা’থেকে ‘নিদ্রা’য় রুপান্তরিত করার সঙ্কেত পাঠায়। এ যেন জোয়ার আর ভাঁটার খেলা! মস্তিষ্কের এই ‘সুইচ’টিই আমাদের ‘নিদ্রা’ আর ‘জাগরণে’র জন্য দায়ী।

Please follow and like us:
20

Comments

comments