অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না বাংলাদেশ

0
8

একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে দোষী সাব্যস্ত জামাতে ইসলামির আমির মতিউর রহমান নিজামিকে মঙ্গলবার ফাঁসি দেওয়ার পরে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। তুরস্ক ঢাকা থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করেছে। ইসলামাবাদে মোতায়েন বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে ডেকে পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকও ঢাকায় মোতায়েন পাক হাই কমিশনারকে পাল্টা তলব করে জানিয়ে দিয়েছে, অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না।

একাত্তরে পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবে স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের হত্যা করার জন্য তৈরি ‘আল বদর’ বাহিনীর প্রধান ছিলেন মতিউর রহমান নিজামি। ঢাকা ছাড়ার আগে একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পাক বাহিনী স্বাধীনতাপন্থী বিশিষ্ট বাঙালিদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। নিজামি সেই হত্যাকাণ্ডের প্রধান চক্রান্তকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। খালেদা জিয়া সরকারের সাবেক এই মন্ত্রীর প্রাণদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরে পাকিস্তানে বিক্ষোভ মিছিল করে কয়েকটি কট্টর ইসলামি সংগঠন। কাশ্মীরের হুরিয়ত কনফারেন্সের কয়েকটি গোষ্ঠীও নিজামিকে ‘শহিদ’ মর্যাদা দিয়ে শ্রীনগরে বিক্ষোভ দেখায়।

পাকিস্তান বুধবার জাতীয় পরিষদে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাশ করায়। পাক বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে নিজামির ফাঁসির নিন্দা করে বলে, ‘নিজামির একমাত্র অপরাধ ছিল, তিনি পাকিস্তানি সংবিধান ও আইন সমুন্নত রাখতে চেয়েছিলেন।’ এর পরে আজ দুপুরে ইসলামাবাদে বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাজমুল হুদাকে তলব করে নিজামির ফাঁসির প্রতিবাদ জানায় পাক বিদেশ মন্ত্রক। তার আধ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকায় পাক হাই কমিশনার সুজা আলমকে পাল্টা তলব করে বাংলাদেশ জানায়, একাত্তরে গণহত্যার নায়ক হিসেবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিজামির বিচার করে শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এই বিষয়টিতে পাকিস্তানের কিছু বলার থাকতে পারে না। সুজার হাতে একটি কূটনৈতিক পত্র তুলে দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে ঢাকা আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে তৈরি।

ক্ষুব্ধ তুরস্কও। নিজামির ফাঁসির বিরোধিতায় ঢাকা থেকে রাষ্ট্রদূত ডেব্রিম ওজটার্ককে ফিরিয়ে নিয়েছে তুরস্ক সরকার। এর আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ড রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান নিজামিকে প্রাণদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, ‘নিজামি কোনও জাগতিক পাপ করেননি’। ঢাকায় তুরস্ক দূতাবাস সূত্রে খবর, রাষ্ট্রদূত ওজটার্ক তাঁদের সরকারের নির্দেশে ইতিমধ্যেই আঙ্কারা রওয়ানা হয়েছেন।

এর আগে আব্দুল কাদের মোল্লা, মীর কাসেম ও আলি আহসান মুজাহিদের মতো জামাত নেতা ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করার সময়েও পাকিস্তান তাদের আইনসভায় নিন্দা প্রস্তাব পাশ করেছিল। পাক বিদেশ মন্ত্রক প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিও দেয়। কিন্তু প্রতিবারই তার পাল্টা জবাব দিয়েছে ঢাকা। আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি রদের জন্য মার্কিন বিদেশসচিব স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে সওয়াল করেছিলেন। কিন্তু হাসিনা তাঁকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটা বাংলাদেশের কোটি কোটি স্বাধীনতাপন্থী মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিষয়। গণহত্যাকারীকে শাস্তি দেওয়াটা সরকারেরও দায়িত্ব।

Please follow and like us:
20

Comments

comments

%d bloggers like this: