প্রযুক্তির বেড়াজালে কি থেমে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন?

0
349
প্রযুক্তির বেড়াজালে কি থেমে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন?
প্রযুক্তির বেড়াজালে কি থেমে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন?

প্রযুক্তির বেড়াজালে কি থেমে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন?

প্রযুক্তির বেড়াজালে কি থেমে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন?
প্রযুক্তির বেড়াজালে কি থেমে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন?

 

ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমিয়ে পড়া অবধি জীবনটা প্রযুক্তিকে সাথে নিয়েই চলছে। অথবা আপনি প্রযুক্তিময় জীবনটাই বেশ পছন্দ করেন। সেটা মন্দ নয়, কিন্তু বিষয়টা কি আসক্তির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে? কখনো কি মনে হচ্ছে খুব বেশি আটকে আছেন যন্ত্রের কলকব্জায়? এসব আপনাকে জীবনের মূলধারা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসছে অনেকটাই? তাতে কোন আপত্তি নেই আপনার, এই জীবনই উপভোগ্য, তবে তো চলেই যাবে, যাক। কিন্তু যদি সেটা পাল্টাতে চান তো সচেতন হোন এখনই। অল্প কিছু অভ্যাস একটু একটু করে পাল্টে নিন।

সারাদিনে সামাজিক সাইটগুলোতে ঘোরাঘুরি এবার কমিয়ে আনুন অল্প অল্প করে। দিন জুড়ে স্ট্যাটাস আপডেট করার চাইতে বরং রাতের বেলা প্রিয় ডায়রিতে নিজের দিনটাকে বন্দী করে রাখবেন। এমনটাও হয়, আমরা খুব একটা উপভোগ করছি না কিন্তু তাও ফেসবুকেই সময় কাটাচ্ছি। বিষয়টা এমন যে অন্য কিছু করার ইচ্ছেটাই কাজ করছে না তখন আর তাই ফেসবুক ওই মুহূর্তে ভালো না লাগলেও সেটাই আমাদের সঙ্গী। এই অভ্যাসটা বাড়তে দেয়া কখনোই ভালো কিছু নয়!

বন্ধু-পরিজনদের সাথে দেখা করুন বেশি। সময়ের এতোটাও অভাব হয় না যে মাসে দুই/একবার আপনি প্রিয়মুখগুলোর জন্য সময় করতে পারবেন না। মূল সমস্যা অনাগ্রহ, আলসেমি যা আপনাকে প্রিয় মানুষদের থেকেই দূরে নিয়ে যাচ্ছে। এক শহরে আছেন যারা, যতোটা পারা যায় একসাথে সময় কাটান। প্রত্যক্ষ সাক্ষাতে সম্পর্কের সজীবতা অটুট থাকে। মেসেজে-স্কাইপে খোঁজ নিয়ে কাজ সারার চল এবার বন্ধ দিন।

ই-বুক, পিডিএফ পারতপক্ষে এড়িয়ে চলুন। কাগজের বই যে নির্মল আনন্দ দিতে পারে তার বিকল্প আর কিছুতে নেই। দরকারের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্যই করবেন, বই পড়ার ক্ষেত্রেও তেমন হতেই পারে কিন্তু ই-বুকের কারণে কাগুজে বই ভুলে যাবেন, এটা শুভ কিছু নয়।

সময় পেলে ঘুরতে বেরিয়ে যান। দলবল নিয়ে বা কখনো একা, ঘুরে বেড়ান কাছের-দূরের জায়গাগুলোতে। আপনি নিজে ঘরকুনো হতেই পারেন, আপনার ঘুরে বেড়াতে ভালো নাই লাগতে পারে কিন্তু সাথের মানুষটা হয়তো ঘুরতে চাচ্ছে, বন্ধুরা আনন্দ নিয়ে প্ল্যান করেছে বেড়ানোর, তাদের সাথে বেরিয়ে পড়ুন। অন্তত বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগবে না, এমনটা তো বলতে পারবেন না।

নিজের শহরটাকে পুরো ঘুরে দেখার পরিকল্পনা নিন, শুরু করুন, আপনার সময় যে দারুণ কাটবে তাতে কোন সন্দেহ নেই! ভ্রমণপ্রিয় হলে তো কথাই নেই, একা ঘুরতেও দিব্যি লাগবে তখন। সারাদিন মুভি দেখা, রেস্টুরেন্টে চেক-ইন দেয়া ইত্যাদি পরিকল্পনায় ভরা ছুটির দিনটা পাল্টে নিন পুরোপুরি। না দেখা কোন জায়গাকে জানার জন্য বেরিয়ে পড়ুন। দিন খারাপ যাবে না আপনার। প্রতিদিন রাতে খাবারের পর পরিবারের সাথে ছোট একটা আড্ডা জমান। সবাই নিজেদের গল্প ভাগাভাগি করুন। কিছু অসাধারণ সময় জমা হবে আপনার ঝুলিতে। এই সময়গুলিই বহু বছর বাদে মনে পড়বে, মুখে হাসি এনে দেবে।

Please follow and like us:
20

Comments

comments

SHARE
Previous articleকোরিয়ান টেকনোলজিকে যেসব সেক্টরে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ
Next articleঅনলাইন শপিং করুন নিরাপদে ঘরে বসেই
আমি শারমিন আক্তার মুক্তা। আমি বাংলাদেশে বাস করি এবং জন্ম সূত্রে বাংলাদেশি। আমি খুব সাধারন একটা মেয়ে, ন্যায়বান, বন্ধুভাবাপন্ন, স্বাধীন মতাবলম্বী। আমি জটিলতা, অসততা, মিথ্যাবাদিতা পছন্দ করিনা। আমি সব কিছুর ভাল দিকটা চিন্তা করি। আমার দুর্বলতা হল আমি অন্য মানুষকে খুব সহজেই বিশ্বাস করি। আমার শখ বই পড়া ওগান শোনা ।