কোরিয়ান পুলিশ

0
5

13179459_10205905951667904_5730159019019415574_n

রাত ১১.৩০, হোমপ্লাস শপিংমল। জিনিসপত্র ঝুড়িতে নিয়ে ক্যাশ কাউন্টারের কাছে পকেটে হাত দিয়ে “ধাক্কা” খেলাম। নাহ…নাই। ডান পকেট, বাম পকেট, বুক পকেট- কোথাও নেই। স্পষ্ট মনে আছে, রুম থেকে নিয়ে বের হয়েছি। তাহলে… গেছে, আমার সব গেছে!!

সাপ্তাহিক ছুটি শনিবার (৩০ এপ্রিল’১৬) দিবাগত রাত রাস্তায় লোকজন কম। নিশ্চয় রাস্তায় পরে আছে! তাড়াহুড়া করে জিনিসপত্রগুলো স্ব স্ব স্থানে রেখে মল থেকে বেড়িয়ে পরলাম। যে সাইড দিয়ে এসেছি- পুরো রাস্তা স্লো্মোশান স্ক্যান করছি, আর মুখে বিড়বিড় করে দোয়া পড়ে চলেছি। বাসা পর্যন্ত চলে আসলাম, কিন্তু পেলাম না। এখন কি হবে আমার…। পুলিশ, হাঁ পুলিশকে জানাতে হবে- আমি তো অবৈধ হয়ে গেছি!!

রাত ১২টা প্রায়। ছুটলাম পাশের পুলিশ ফাঁড়ীর দিকে। একি, এতো বন্ধ- কেউ নেই! দরজার পাশেই SOS (Save Our Souls) টেলিফোন। কোন কিছু না ভেবেই- রিসিভার তুলতেই, একবার টূ…, তারপর ওপাশ থেকে–
(কোরিয়ান কন্ঠ) : ইয়োবশেও……
—– (কিছু না বুঝেই, ইংলিশে) আমি মাহাবুব, আমার সব শেষ!
—– (কোংলিশে) where?
—– কিইয়ংডে-রো।

লাইন কেটে গেল। কিছুই বুঝলাম না, কি হল! অস্থিরতায় ফাঁড়ীর সামনে কিছুক্ষণ, ৫ মিনিট মত, দাঁড়িয়ে থাকলাম। দেখলাম, পুলিশকার হাজির- সাথে দুজন পুলিশ।
একজন নেমেই আমাকে কি যেন জিজ্ঞাসা করল, কিছু বুঝতে পারলাম না। আমি ইংলিশ বলতেই একটা মুচকি হাসি দিয়ে ২য় জনকে দেখিয়ে দিয়ে সাইডে দাঁড়িয়ে গেল। সেও (২য় জন) মুচকি হাসি দিল। বুঝলাম, আজ এদের বোঝাতে অনেক ঘাম ঝরবে!!
ফাঁড়ীর ভিতরে বসে, তাঁদের কোন কথা না শুনেই ইংলিশ, কোংলিশ, কোরিয়ানে, কখনও কখনও গুগল ট্রান্সেলেটরে বলা শুরু করলাম।
—– মানিব্যাগ হারিয়েছি, সাথে গেছে ইমিগ্রেশন কার্ড, মাস্টার কার্ড, স্টুডেন্ট কার্ড, বাস কার্ড ও আরো কিছু কার্ড এবং ক্যাশ টাকা ৫১০০০ ওন।

এই আধামিনিটের কয়েকটা শব্দগুচ্ছ বোঝাতে ও বুঝতে ১০ মিনিট সময় লেগে গেল। কতবার যে পুনরাবৃত্তি, আর কত যে হাত নড়ানো- তাঁদের বুঝে উঠার কষ্ট দেখে, তাঁদেরকে ‘বেচারা বেচারা’ লাগল!!!

এর মধ্যে একজন মাস্টার কার্ড অকার্যকর(disable) করতে ব্যাংক হেল্পলাইনে ফোন দিল, আর অন্যজন সেন্ট্রাল রিপোর্ট করতে কম্পিউটারে বসে পড়ল।
এই পর্যায়ে নিজেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছিল!!

কিন্তু, কি বুঝল না বুঝল -সঠিক বুঝতে পেরেছে কিনা, এই ভেবে স্বস্তি পাচ্ছিলাম না! যদিও এই রাতের বেলা বিরক্ত করতে চাইনি তা সত্বেও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফোনে বাংগালী-কোরিয়ান( গায়ের রঙে) দোভাষী Md Iqbal Hossain Milon ভাইয়ের শরণাপন্ন হলাম। কথা বলার পর…স্বস্তি পেলাম!!

জিডি কপি আমার হাতে, ১৪ দিনের মধ্যে ইমিগ্রেশনে রিপোর্ট করতে হবে। এর মধ্যে পুলিশ মানি-ব্যাগের কোন খোঁজ পেলে জানাবে। পুলিশ ফাঁড়ী থেকে বিদায়, তখন রাত প্রায় ১টা।

আজ ১২তম দিন। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দুপুর ৩টা নাগাদ পুলিশ থেকে রেজিস্ট্রার-ডাকযোগে একটা পার্শেল এসেছে। খুলে দেখি- আমার মানি ব্যাগ, ঠিক যেভাবে হারিয়েছি তেমনই আছে। এমনকি ক্যাশ টাকাও ঠিক আছে- সততায় মুগ্ধ হলাম।

///পার্শেলটা নেওয়ার সময় পুলিশের কাউকে পাই নি, ফলে পোস্টম্যানকে “কামসা হাবনিদা (ধন্যবাদ)” – বলতে পারার মধ্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশবোধ সীমাবদ্ধ রেখে আমাকে সন্তুষ্ট থাকতে হল।

 

লিখেছেনঃ
মাহাবুব হোসেন
কিওংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
দেগু, কোরিয়া

Please follow and like us:
20

Comments

comments