৪৩৮০০ বার ধর্ষিত হয়েছি আম‌ি, যাবতীয় অপমানের ঊর্ধ্বে উঠেও জীবনযুদ্ধ অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারি।

0
7
৪৩৮০০ বার ধর্ষিত হয়েছি আম‌ি, যাবতীয় অপমানের ঊর্ধ্বে উঠেও জীবনযুদ্ধ অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারি।
৪৩৮০০ বার ধর্ষিত হয়েছি আম‌ি, যাবতীয় অপমানের ঊর্ধ্বে উঠেও  জীবনযুদ্ধ অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারি।
৪৩৮০০ বার ধর্ষিত হয়েছি আম‌ি, যাবতীয় অপমানের ঊর্ধ্বে উঠেও জীবনযুদ্ধ অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারি।
‘আমার ঘরে সেই সময় প্রতিদিন ৩০ জন করে পুরুষ আসত। বছরে ৩৬৫ দিন এইভাবে কেটেছে টানা ৪ বছর। সেই হিসেবে মোট ৪৩৮০০ বার ধর্ষিত হয়েছি আম‌ি।’ বললেন মেক্সিকোর কার্লা জাকিন্তো। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর অনেক মেয়েই মনে করে তার জীবনের পথ চলা শেষ।
কিন্ত কার্লা জাকিন্তো প্রমাণ করেছেন যাবতীয় অপমানের ঊর্ধ্বে উঠেও জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করা সম্ভব। তিনি নিজের জীবনের লড়াইয়ের গল্প সবার সামনে তুলে ধরেছেন সবার সামনে, যাতে তার জীবনযুদ্ধ অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
কার্লার শৈশব খুব সুখে কাটেনি। মাত্র ৫ বছর বয়সেই এক পারিবারিক সদস্যের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হন কার্লা। তার বয়স যখন ১২ সেই সময় একটি ২২ বছরের যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় কার্লার। পৃথিবীর সমস্ত সুখ জীবনে এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সেই ছেলে। একদিন কার্লাকে পুয়েবলা নামের শহরে দেখা করতে বলে সে।
তিনি গিয়ে দেখেন, যুবকটি একটি লাল রঙের  বিলাসবহুল পন্টিয়াক ফায়ারবার্ড-ট্রানস-আম গাড়ি চালিয়ে এসেছে। গাড়িটির চাকচিক্য আর একটা রঙিন সুখী জীবনের স্বপ্ন চোখ ধাঁধিয়ে দেয় কার্লার। সেই যুবককে ভর করে কার্লা ভেসে পড়েন নতুন জীবনের খোঁজে। ঘর বাঁধেন কার্লা।
বিয়ের পর প্রথম তিন মাস স্বর্গসুখে কাটে কার্লার। তারপর তাকে নিয়ে আলাদা একটি ফ্ল্যাটে উঠে যায় সেই যুবক। যুবকটি সারাদিন কাজের কথা বলে বাইরে বাইরে কাটাতো। আর তার অনুপস্থিতিতে কিছু যুবক-যুবতী কার্লাদের ফ্ল্যাটে আসত একান্তে সময় কাটাতে। যুবকটিকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে বলতো, ছেলেগুলি তার কাজিন, নিজেদের বান্ধবীদের নিয়ে তারা তার ফ্ল্যাটে আসে নিভৃতে সময় কাটাবে বলে। কিন্তু কিছুদিন পরে বিষয়টি অসহ্য হয়ে উঠল কার্লার কাছে।
তিনি সরাসরি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘ব্যাপারটা কী বল তো?’’ যুবকটি কোনও রাখঢাক না করেই জানাল যে, সে আসলে বেশ্যাদের দালাল। নারী পাচারচক্রের সঙ্গেও সে জড়িত। পাশাপাশি এটাও সে স্পষ্ট করে দিল যে, কার্লাকেও এবার নামতে হবে যৌন পেশায়। কীভাবে ‘খদ্দের’দের খুশি করতে হবে, কীভাবে কথা বলতে হবে তাদের সঙ্গে, কত টাকা ‘দাম’ চাইতে হবে তাদের কাছ থেকে- সবকিছু সে বুঝিয়ে বলে কার্লাকে। কার্লার স্বপ্ন মু‌হূর্তের মধ্যে ভেঙে যায়। গুয়াদলাজারার বেশ্যাপল্লীতে সেই যুবকটি কার্লাকে নিয়ে গিয়ে তোলে। তারপর শু‌রু হয় কার্লার নরকযন্ত্রণা ভোগ।
সংবাদমাধ্যমকে কার্লা জানিয়েছেন, ‘‘সকাল ১০টা থেকে শুরু হত আমার ঘরে খদ্দের আসা। চলত মাঝরাত পর্যন্ত।’’  বিচিত্র সেইসব মানুষ, উদ্ভট তাদের চাহিদা। একবার এক চাষাভুষো মানুষ এল কার্লার ঘরে। সে ঘরে ঢুকেই লোহার চেন দিয়ে পেটাতে শুরু করে কার্লাকে। চুলের মুঠি ধরে মারে যথেচ্ছ কিল, চড়, ঘুষিও। লোহার রড গরম করে ছ্যাঁকাও দেয় কার্লার গায়ে। এমন পাশবিক আচরণে কী সুখ পেয়েছিল সেই মানুষটি, তা আজও বুঝতে পারেন না কার্লা।
কিন্তু কেন কার্লা এমন নরকযন্ত্রণা মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছিলেন? আসলে ১৫ বছর বয়সেই সেই যুবক সঙ্গীটির সন্তানের মা হন কার্লা। সন্তানের জন্মের পরেই বাচ্চাটিকে কার্লার কাছ থেকে কেড়ে নেয় বাচ্চাটির বাবা। লুকিয়ে রাখে কোনও গোপন আস্তানায়। এই নারকীয় জীবন থেকে যখনই মুক্তির কথা তুলতেন কার্লা, তখনই তাঁকে ভয় দেখানো হত- ওই যুবক ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোদের কথা না শুনলেই মেরে ফেলা হবে শিশুটিকে।
সিএনএন-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কার্লা জানিয়েছেন, একবার গুয়াদলাজারার লালবাতি এলাকায় পুলিশী অভিযান হল। কার্লাসহ অন্যান্য মেয়েদের সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হল অন্য একটি আস্তানায়। কিন্তু, কী আশ্চর্য, মেয়েগুলিকে মুক্তি দেওয়ার বদলে পুলিশ জোর করে তাদের অশালীন ভিডিও তুলে নিল!  তারপর শুরু হল ব্ল্যাক মেইল। বলা হল, টাকাপয়সা দিয়ে পুলিশকে সন্তুষ্ট করতে না পারলে এই ভিডিওগুলি পাঠিয়ে দেওয়া হবে ওইসব মেয়েদের পরিবারের সদস্যদের কাছে। নাবালিকা মেয়েগুলির কান্না সেদিন পুলিশের মন গলাতে পারেনি।
১৬ বছর বয়সে নিষিদ্ধপল্লী থেকে পালাতে সক্ষম হন কার্লা। আজ কার্লার বয়স ২৩। আজ তিনি দিকে দিকে সভাসমিতিতে বলে বেড়ান নিজের অভিশপ্ত জীবনের কাহিনি। উদ্দেশ্য একটাই- নারী পাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। নিজের ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘আমার ঘরে সেই সময় প্রতিদিন ৩০ জন করে পুরুষ আসত। বছরে ৩৬৫ দিন এইভাবে কেটেছে টানা ৪ বছর। সেই হিসেবে মোট ৪৩৮০০ বার ধর্ষিত হয়েছি আম‌ি।’’ একটি মেয়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার সঙ্গে যৌন মিলনকে ‘ধর্ষণ’ ছাড়া আর কিছু বলতে রাজি নন কার্লা। তিনি জোরের সঙ্গে বলছেন, ‘‘আমি নাবালিকা মেয়েদের সতর্ক করে দিতে চাই যে, তারা যেন তাদের অল্প বয়সে কোনওরকম প্রলোভনে পা না দেয়। অর্থের লোভ যেন তারা না করে। না হলে আমি যে নরকযন্ত্রণা ভোগ করেছি, তা ভোগ করতে হবে তাদেরও।’’ সূত্র: এবেলা। 
Please follow and like us:
20

Comments

comments