জাকির নায়িকের একটি অসাধারণ বক্তব্য

0
33
জাকির নায়িকের একটি অসাধারণ বক্তব্য

জাকির নায়িকের একটি অসাধারণ বক্তব্য

জাকির নায়িকের একটি অসাধারণ বক্তব্য
জাকির নায়িকের একটি অসাধারণ বক্তব্য
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবীদ ডা. জাকির নায়েক
একজন নারীর ‘পাপের উৎস’ বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবীদ ডা. জাকির নায়েক বলেন, ইসলামে পাপের উৎস বলতে কিছু নেই। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সব শিশুই নিষ্পাপ হয়ে জন্মায়। পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘কোনো মানুষ অন্যের ভার বহন করবে না।’ তবে পাপের উৎস সম্পর্কে খ্রিস্টানদের চার্চের বক্তব্য হলো বিবি হাওয়া এবং আদম ‘গন্ধম’ ফল খেয়ে ছিলেন, আর গন্ধম ফল খেতে আদমকে বিবি হাওয়া-ই প্রলোব্ধ করেছিলেন। সে জন্য মানুষ পাপের ভেতর বা পাপী হয়ে জন্মায়।
পবিত্র কোরআনে এই ঘটনার বিবরণ রয়েছে কিন্তু কোথাও এ কথা উল্লেখ নেই যে, নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে দোষ শুধু বিবি হাওয়ার ছিল। কোরআনে সুরা আরাফের ১৯ থেকে ২৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- আদম আ. ও বিবি হাওয়া আ. কে অনেক বার সাবধান করা হয়েছিল, কিন্তু তারা দুজনই আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছিলেন, তারা দুজনই অনুতপ্ত হয়েছিলেন। আর তাদের দুজনকেই ক্ষমা করা হয়েছিল। এ অপরাধে তারা দুজনই সমান অপরাধী।
পবিত্র কোরআনে এমন একটি আয়াতও নেই যেখানে শুধু বিবি হাওয়াকে দোষী বলা হয়েছে। অবশ্য সুরা ত্বহার ১২১ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, আদম আ. আল্লাহ তায়ালার আদেশ অমান্য করেছিলেন। এ আয়াতে শুধু আদমকে দোষ দেয়া হয়েছে। তবে পুরো কোরআন পড়লে দেখবেন আদম এবং হাওয়া দুজনকেই সমান অপরাধী বলা হচ্ছে। আর পবিত্র বাইবেলে এ দোষটি শুধু মাত্র বিবি হাওয়াকে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে- তিনি আদমকে নিষিদ্ধ ফল খেতে প্রলোব্ধ করেছিলেন।
এরই প্রেক্ষিতে বাইবেলে বলা হয়েছে- ‘তোমরা নারী, তোমরা এখন থেকে গর্ভধারণ করবে আর প্রসব বেদনা ভোগ করবে।’ তার মানে বাইবেল অনুযায়ী গর্ভধারণের যে কষ্ট হয়, তা বিবি হাওয়ার গন্ধম ফল খাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। এর সঙ্গে কোরআনকে তুলনা করলে দেখতে পাবেন, কোরআন বলছে- ‘মাতৃগর্ভকে শ্রদ্ধা করো।’ [সুরা নিসা : আয়াত ১]
আর পাপের উৎস সম্পর্কে তাদের (খ্রিস্টান) কথা হলো- ‘যেহেতু বিবি হাওয়া আদম আ. কে ফল খেতে প্রলোব্ধ করেছিলেন, তাই মানবজাতি পাপের ভেতর জন্মায়। প্রত্যেক শিশু পাপের মধ্যে জন্মায়।’ আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি, বিবি হাওয়া আ. ও আদম আ. গন্ধম ফল খাওয়ার সময় আমাকে কি জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তারা এ ফল খাবেন কি না? তাহলে আমি কেন তাদের পাপের দায়ভার নিবো? এটা অযৌক্তিক। যদি তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন আর আমি অনুমতি দিতাম, তাহলে বলা যেত যে আমি দায়ি। তাই বলছি, এটার জন্য আমি দায়ি নই।
আর চার্চ শিখায়- ‘যেহেতু হাওয়া ঈশ্বরকে মানেননি, আর আদম হাওয়ার কারণে মানেননি, তাই মানবজাতি পাপের ভেতর জন্মায়।’ চার্চ আমাদের আরও শিখায়- ‘যে আত্মা পাপ করে, সে মারা যাবে।’ আর বাইবেলে আছে, ‘যে আত্মা পাপ করে সে মারা যাবে। তবে ভালো লোকের ভালো কাজ তার সঙ্গে থাকবে, খারাপ লোকের খারাপ কাজ তার সঙ্গে থাকবে। পিতা তার পুত্রের অপরাধের ভার বহন করবেন না, আর পুত্র তার পিতার অপরাধের ভার বহন করবেন না।
তবে খারাপ লোক ঘুরে দাঁড়ালে সে মারা যাবে না।’ তার মানে বাইবেলের কথা অনুযায়ী পাপ জন্ম থেকে আসে না। অথচ চার্চ বলছে পাপ জন্ম থেকে আসে। তাই খ্রিস্টান ধর্মের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বাইবেল থেকে পড়তে হবে। আর ইসলাম নারীদের যে বড় এবং সম্মানের চোখে দেখে তা জানতে কোরআন পড়ুন। ইসলাম অনুযায়ী প্রত্যেক শিশুই নিষ্পাপ-মাসুম বাচ্চা হয়ে জন্মায়। সেই শিশু চাই মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি বা হিন্দু ধর্মে জন্মাক, সে নিষ্পা হয়েই জন্মাবে। তার মানে মানুষ পাপী হয়ে জন্মায় না।   সূএ-  বেঙ্গলি টাইমস
Please follow and like us:
20

Comments

comments