ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা

0
60
ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা

ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনাঃ

ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা
ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা
কেবল মুমুর্ষু রোগীকে রক্ত দেয়ার জন্যই কি ব্লাড গ্রুপ জানা দরকার? মোটেই না। রক্তের ধরন জানা থাকলে আরো অনেক কিছুই জানতে পারবেন শরীর সম্পর্কে। এই ধরুন, কেউ কী করে চট করে ওজন কমাতে পারেন!
আবার কেউ পারেন না! কিংবা কেউ জীবনভর রোগা-ভোগা তো অন্যরা রীতিমতো সুস্থ! কেউ সারা দিন খেয়েও স্লিম থাকছেন, কারো সামান্য খাবারেই ভুঁড়ি বাড়ছে। আসলে শরীরে কোন খাবারের কী প্রতিক্রিয়া বা অবসাদে কেমন আচরণ হবে- সবটাই নিয়ন্ত্রণ করে রক্ত।

আসুন জেনে নেই রক্ত কিভাবে রোগের উপর প্রভাব বিস্তার করে

১. সবার শরীরে অ্যান্টিজেন আছে। এগুলো আমাদের শরীর কোনোকিছুতে কিভাবে সাড়া দেবে সেটা ঠিক করে দেয়। সেটা খাবারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতেই পারে, ‘ল্যাকটিন’ জাতীয় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার কারো শরীরে ক্লান্তি, কারো মাথা ধরা, বিপাক ক্রিয়া, ত্বকের সমস্যা- এমনি হাজার প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

২. একেক ধারার রক্তের মানুষের অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ একেক রকম। সেই হিসেবে একই ধরনের খাবারে ভিন্ন জনের শরীরে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যেমন, ব্লাড টাইপ ‘এ’ শর্করা জাতীয় খাবার দ্রুত রক্তে মিশিয়ে দিতে পারে। সেখানে টাইপ ‘ও’ শর্করা জাতীয় খাবার শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমিয়ে রাখে।

৩. সমীক্ষা বলছে, রক্তের টাইপ জানা থাকলে আপনার হতে পারে এমন কিছু রোগ সম্পর্কে আগাম জানতে পারবেন। যেমন, ব্লাড টাইপ ‘ও’ হলে হৃদরোগের আশঙ্কা কম থাকলেও স্টম্যাক আলসার হওয়ার চান্স বেশি থাকে।

আবার টাইপ ‘এ’ যাদের তারা চট করে জীবাণু সংক্রমণে ভোগেন। আবার একই গ্রুপের নারীদের ফার্টিলিটি বেশি। টাইপ ‘এবি’ ও ‘বি’-এর অধিকারী হলে কিন্তু প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

৪. অবসাদে ভিন্ন প্রকৃতির রক্তের মানুষের আচরণও ভিন্ন। টাইপ ‘এ’ রক্তে স্ট্রেস হরমোন করিস্টল প্রচুর পরিমাণে তৈরি হওয়ায় এরা চূড়ান্ত অবসাদে ভোগেন।

তেমনি শরীরে প্রচুর অ্যাড্রিনালিন তৈরি হওয়ায় টাইপ ‘ও’-রা হয় অবসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, নয় তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবেন। একই সঙ্গে অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে তাদের কিছু বেশি সময় লাগে।

রক্তের প্রকৃতির ভিন্নতার জন্যই সবার শরীরে একই পরিমাণ পুষ্টির দরকার পরে না। তাই নিজের রক্তের টাইপ অনুসারে ডায়েট মানতে পারলে ওজন, সংক্রমণ ও প্রদাহের পরিমাণ কমিয়ে শরীরে এনার্জি বেড়ে যায়।

আসুন জেনে নেই কোন গ্রুপের রক্তবহনকারীকে কোন কোন রোগ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে

এতদিন রক্তের গ্রুপ পজিটিভ না নেগেটিভ, সেই নিয়েই বেশি মাথা ঘামাতো। বিশেষ করে বিয়ের ক্ষেত্রে ও রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সাধারণত একই রক্তের গ্রুপের দুইজন নর নারীর সাথে বা ঘনিস্ট আত্মীয়র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ডাক্তাররা অনুৎসাহিত করেন।  কারণ, রক্তের সঠিক ম্যাচিংয়ের ওপরই নির্ভর করে পরবর্তী প্রজন্মের সুস্থতা।

এছাড়া যদি কারো রক্তের গ্রুপ হয় ‘ও’ নেগেটিভ, তাহলে তো বড় অসুখ সহজেই হামলা করে বসতে পারে। তাই ‌’ও’ নেগেটিভ গ্রুপের মানুষকে আগে থেকেই অতিরিক্ত সচেতন থাকতে হবে। তবে, শুধু নেগেটিভ বা পজেটিভ নয়, ‘এ’, ‘বি’, ‘ও’ এবং ‘এবি’ গ্রুপের ওপরও নির্ভর করে নানা রোগের ধরণ ও প্রবণতা।

‘এ’ গ্রুপ

এই গ্রুপের রক্তের মানুষের ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। যেমন অগ্নাশয়ের ক্যান্সার এবং লিউকোমিয়া। এমনকী গুটি বসন্ত এবং ম্যালেরিয়াতেও আক্রান্ত হতে পারেন।

‘বি’ গ্রুপ

এই গ্রুপের রক্ত যদি আপনার হয় তা হলে সাবধান। কারণ, এই গ্রুপের ক্ষেত্রে ১১% হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা।

‘এবি’ গ্রুপ

এই ক্ষেত্রে হৃদরোগের সম্ভাবনা ২৩%। এই গ্রুপের রক্ত Blood group যাঁদের আছে ভবিষ্যতে তাঁদের বাক্ সমস্যা হতে পারে। মুখের স্নায়ু বা পেশী বিকল হয়ে যেতে পারে। হতে পারে স্বরযন্ত্রের সমস্যা। সমস্যা হতে পারে স্মৃতিতেও।

‘ও’ গ্রুপ

এইগ্রুপের মানুষেরা মিশ্র প্রকৃতির। এঁদের আলসার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। সম্ভাবনা রয়েছে কলেরারও। তবে এই গ্রুপের রক্তের Blood group মানুষের নিশ্চিন্ত হওয়ারও বেশ কিছু কারণ রয়েছে। অগ্নাশয় ক্যান্সার এবং ম্যালেরিয়া হওয়ার সম্ভাবনা এদের প্রায় নেই বললেই চলে।

এখন যে কোন ব্লাড গ্রুপেই নানা রোগের ঝুঁকি থাকে। কাজেই সুস্থ থাকতে শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধার আগেই সচেতন হোন। জেনে নিন কোন ব্লাড গ্রুপে হতে পারে কোন রোগ। আপনিও অনেকদিন সুস্থ জীবন যাপন করতে পারবেন।

Please follow and like us:
20

Comments

comments