বাংলদেশ বিমান বন্দরে আগমণ/ বহির্গমণকালে দেশী বিদেশী মুদ্রা সীমার তথ্য

0
676
বাংলদেশ বিমান বন্দরে আগমণ/ বহির্গমণকালে দেশী বিদেশী মুদ্রা সীমার তথ্য
বাংলদেশ বিমান বন্দরে আগমণ/ বহির্গমণকালে দেশী বিদেশী মুদ্রা সীমার তথ্য
                                                     

বাংলদেশ বিমান বন্দরে আগমণ/ বহির্গমণকালে দেশী বিদেশী মুদ্রা সীমার তথ্য
বাংলদেশ বিমান বন্দরে আগমণ/ বহির্গমণকালে দেশী বিদেশী মুদ্রা সীমার তথ্য

বাংলদেশ বিমান বন্দরে আগমণ/ বহির্গমণকালে দেশী বিদেশী মুদ্রা সীমার তথ্যঃ

প্রবাস থেকে দেশে যাচ্ছেন।  কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে নিলে বাংলাদেশ বিমানবন্দরে কোন সমস্যা হবে না। কিংবা দেশ থেকে বিদেশে যাচ্ছেন। দেশীয় বা বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে নেয়া সংক্রান্ত তথ্য জানা নেই। নিয়মের অধিক অর্থ সাথে নিলে  বাংলাদেশ বিমান বন্দরে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তাই বাংলাদেশ বিমান বন্দরে আগমণ বা বহির্গমণকালে দেশী বিদেশী মুদ্রা সীমার তথ্য জানা ভ্রমণকারীদের জন্য খুবই জরুরি। চলুন, জেনে নিই সেই তথ্যগুলো।

বাংলাদেশী মুদ্রা: 

আগমণ বা বহির্গমণকালে কোনরূপ ঘোষণা ছাড়া মাথাপিছু বাংলাদেশী মুদ্রায় সবোর্চ্চ ৫,০০০ টাকা সঙ্গে রাখতে পারবেন। বাংলাদেশী মুদ্রা পাসপোর্টে এন্ডডোর্স হয় না। বর্ণিত সীমার অতিরিক্ত টাকা থাকলে, বহির্গমণকালে অবশ্যই ডিপার্টিং বন্দরের যেকোন অথরাইজড ডিলার/ব্যাংক থেকে বিদেশী মুদ্রায় কনভার্ট করে পাসপোর্টে এনডোর্স করে নিতে হবে। কারণ ৫০০০ টাকার অতিরিক্ত বহন করা যাবে না ।

বৈদেশিক মুদ্রা :

আগমনকালে যে কোন অংকের বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে আনতে পারবেন, এনডোর্সমেন্টের দরকার নেই।  তবে ৫,০০০ মার্কিন ডলার বা তার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রার অধিক হলে নির্ধারিত FMJ ফরমে শুল্ক কর্তৃপক্ষের নিকট ঘোষণা দিতে হবে। চিন্তার কারণ নেই। এই  ঘোষণা দিতে কোন খরচ লাগবে না।

বহির্গমণকালে ‘ভ্রমণ কোটা’ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা অবশ্যই পাসপোর্টে এনডোর্স করে নিতে হবে। এনডোর্সমেন্ট ছাড়া সিঙ্গেল পেনিও নেয়া যাবে না। তবে Diplomats/Privileged persons/UN personnel, Govt. officials travelling on official duties- এঁদের ক্ষেত্রে এনডোর্সমেন্ট না হলেও চলবে।

ফরেইনার, এনআরবিগণ আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি মুদ্রা সীমার শর্ত ছাড়া অন্য কোটা শর্ত খাটবেনা। যেই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে দেশে আসবেন, অনধিক সেই পরিমাণ অব্যায়িত মুদ্রা পাসপোর্টে এনডোর্স ছাড়াই নিয়ে যেতে পারবেন। আসার সময় ৫০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের অতিরিক্ত হলে নির্ধারিত এফএমজে ফরমে ডিক্লেয়ার করে আসবেন এবং যাবার সময় সেই ডিক্লেয়ার্ড ফরম সাথে রাখতে হবে।

বাংলদেশ বিমান বন্দরে আগমণ/ বহির্গমণকালে দেশী বিদেশী মুদ্রা সীমার তথ্য
বাংলদেশ বিমান বন্দরে আগমণ/ বহির্গমণকালে দেশী বিদেশী মুদ্রা সীমার তথ্য

ভ্রমণ কোটা

ব্যক্তিগতঃ

* বার্ষিক ১২,০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রাসার্কভুক্ত দেশ এবং মিয়ানমার = ৫,০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা
* বাংলাদেশ কর্তৃক স্বীকৃত অন্যান্য দেশ = ৭,০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা
একসাথে উপর্যুক্ত দু’প্রকারের দেশ ভ্রমণ করলে ১২,০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা। চিকিৎসাজনিতঃ
ডাক্তারি কাগজপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে ১০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। তার অতিরিক্ত দরকার হলে যেকোন অথরাইজড ব্যাংককে প্রয়োজনীয় কাজগপত্র দেখালেই হবে। প্রয়োজন সাপেক্ষে অতিরিক্ত মুদ্রার অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাঁরাই নিয়ে নেবে।

শিক্ষাজনিতঃ

ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার সমান। তো টিউশন ফি, হোস্টেল ফি.. এগুলো নিয়ে টেনশনের কিছু নেই। ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিমাণ মুদ্রা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগেভাগেই জমা/পাঠিয়ে দিন।
মাইগ্রেশনজনিত প্রথমবারঃ  ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার সমান।
১২ বছরের কম শিশু কিশোরদের জন্য  উপরে বর্ণিত মুদ্রাসীমার অর্ধেক নিতে পারবেন।

 

কী পরিমাণ মুদ্রা আছে, তা জানতে নিরাপত্তা কর্মীরা তল্লাশী করতে পারবেন না:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশী কেন্দ্রে যাত্রীদের দেহ তল্লাশীর সময় যাত্রিদের কাছে কি পরিমাণ দেশী/বিদেশী মুদ্রা আছে তা নিরাপত্তা কর্মীদের তল্লাশী করার এখতিয়ার নেই। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ, এমনকি যাত্রীদের মানিব্যাগ তল্লাশীর অভিযোগ পাওয়ায়  গত ৪ অক্টোবর (২০১৫ইং)  নিরাপত্তা কর্মীদের প্রতি এমনটি না করার আদেশ জারী করেন। জারীকৃত আদেশের মুল অংশ

…“এতদ্বারা সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশী কেন্দ্রে সম্মানীত যাত্রী সাধারনের দেহ তল্লাশীর সময় যাত্রিদের কাছে কি পরিমাণ দেশী/বিদেশী মুদ্রা আছে তা সিএএবি’র কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মীর জানার কথা নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কাস্টমস প্রতিনিধির। Pax & Cabin Bag SOP অনুযায়ী মানিব্যাগসহ পকেটের ভিতর যে কোন আইটেম স্ক্যানিং মেশিনে দেয়ার বিধান রয়েছে।

এমতাবস্থায় বিমানবন্দরে নিয়োজিত সকল সিএএবি নিরাপত্তা কর্মচারীকে এই মর্মে নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে যে, কোন সম্মানীত যাত্রিকে তাঁর নিকট কি পরিমাণ দেশী/বিদেশী মুদ্রা আছে এই ব্যাপারে কোন ধরণের জিজ্ঞাসাবাদ বা প্রশ্ন করতে পারবে না। যদি এই ধরনের কোন প্রকার অভিযোগ সিএএবি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে তাহলে উক্ত নিরাপত্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই আদেশ যথাযথভাবে সকলকে পালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল।”

সূত্র: ম্যাজিস্ট্রেট্স, অল এয়ারপোর্টস অব বাংলদেশ।

Please follow and like us:
20

Comments

comments