বর্ষায় চুল ও ত্বকের যত্নের জন্য টিপস ও ট্রিক্স

0
54
বর্ষায় চুল ও ত্বকের যত্নের জন্য টিপস ও ট্রিক্স

গরমের তীব্র রোদের তেজকে ঠান্ডা করে বর্ষা নামল অবশেষে। তবে বর্ষা চুল ও ত্বকের জন্য নানান সমস্যাও নিয়ে আসে। এই সমস্যাগুলির হাত থেকে নিজের ত্বক ও চুলকে রক্ষা করা বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কাজের জগৎ সামলে যত্ন নেওয়ার সময় পাই না আমরা অনেকেই। তখনই ত্বক আর চুল ক্রমশ অনুজ্জ্বল হয়ে উঠতে থাকে। তাই এই মরশুমে ত্বক আর চুলের সমস্যা সমাধানের বেশ কিছু উপায়।

বর্ষায় চুল ও ত্বকের যত্নের জন্য টিপস ও ট্রিক্স
বর্ষায় চুল ও ত্বকের যত্নের জন্য টিপস ও ট্রিক্স

 

বর্ষাকালে ত্বকের প্রধানত দু’‌ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। একটি হল ফাঙ্গাল ইনফেকশন, আরেকটি হল ব্যাক্টিরিয়াল ইনফেকশন। বর্ষায় ত্বকের ভেজা ভাব চট করে শুকোতে চায় না। এর ফলে দাদ, হাজার মত ফাঙ্গাল ইনফেকশন দেখা দেয়। অন্যদিকে, শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই ফোঁড়া বা তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে অ্যাকনের সমস্যা দেখা দেয়। তবে এ বছর একটু অন্য ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে ইনফেকশন হলে সাধারণত আমরা যে ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকি, সেগুলির কোনওটিই কাজ করছে না।

ইনফেকশন তৈরি করে যে ধরনের জীবাণু, তাদের এই ওষুধগুলোর প্রভাব সহ্য হয়ে গেছে। অনেক সময় ইনফেকশন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বাজারে চলতি বিভিন্ন ওষুধ কিনে রোগীরা ব্যবহার করেন। টানা একই ওষুধ ব্যবহার করতে করতে এগুলি আর ইনফেকশন সারাতে পারছে না। ইনফেকশন সারাতে যে ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে সেই সব ওষুধগুলির মধ্যে সবচেয়ে দামী ওষুধগুলিই কাজ করছে।

এর ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে চিকিৎসার খরচ চালানো একটু সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। বর্ষায় ত্বক শুকনো রাখতে চেষ্টা করুন। অফিস থেকে বাড়ি ফিরে সাবান ও অ্যান্টিসেপটিক জলে মিশিয়ে স্নান করে ফেলুন। ত্বকের সমস্যা যেহেতু তাড়াতাড়ি একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তাই ত্বকে ইনফেকশন হলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন তা সংক্রামিত হওয়ার আগেই।

মেঘে ঢাকা আকাশ দেখে আমরা একটা ভুল প্রায় সবসময়ই করে থাকি। আমরা ভাবি রোদ নেই তাই সানস্ক্রিন ব্যবহারের কোনও প্রয়োজন নেই। এর ফলে ত্বকে সানস্ক্রিন না লাগিয়েই বেরিয়ে পড়ি। কিন্তু জেনে রাখা দরকার সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি বাতাসে সবসময় থাকে। আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলেও ত্বকের ক্ষতি হয় এই কারণে।

এ ছাড়াও বর্ষায় ত্বক শুকোতে চায় না। ত্বকে র‌্যাশ বা অন্য ক্ষত যাই হোক শুকোতে দেরি হয়। বৃষ্টি হলেও গরম ভালই রয়েছে। তাই ঘামও হচ্ছে। বিশেষত, শরীরের যেসব জায়গা চাপা থাকে এবং ঘাম জমে থাকে। বর্ষায় এই বৃষ্টির জল একদমই গায়ে লাগানো উচিত নয়। এই জলে প্রচুর পলিউশন থাকে। বর্ষায় রাস্তায় জমে থাকা নোংরা জল পায়ে লাগে। এর ফলে পায়ে, আঙ্গুলের ভাঁজে বা
আন্ডারআর্মে ইনফেকশন দেখা দেয়। স্নান করার পর জল ভাল করে মুছে ফেলুন।

অ্যান্টিসেপটিক লোশন ব্যবহার করুন স্নানের জলে। নিমপাতা খুব ভাল জীবাণুনাশক। নিম পাতা ফোটানো জলে স্নান করুন, সপ্তাহে তিনবার স্ক্রাব করুন। এমন স্ক্রাবার ব্যবহার করুন যা ত্বক থেকে বেরনো অয়েলকে কন্ট্রোল করতে পারবে। এ ছাড়াও স্ক্রাবের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত প্যাক লাগান। চন্দনের প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

শুষ্ক ত্বক :‌

যাঁদের শুষ্ক ত্বক তাঁদের ত্বক এই সময় অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে। কারণ ত্বককে ইনফেকশন মুক্ত করে তোলে এ রকম ভিটামিনের অভাব দেখা যায়। ক্ষারমুক্ত সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যাবহার করুন। দু’‌চামচ দুধে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে নিন। এটি ত্বকে লাগান। এই মিশ্রণ ত্বককে টোনড করে, তার সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঘরেই তৈরি করে নিন শুষ্ক ত্বকের উপযুক্ত প্যাক। দু’‌চামচ বেদানার বীজ নিয়ে পেস্ট করে নিন। তারপর এককাপ ওটমিলের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। কয়েক মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। বেদানার বীজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। এ ছাড়া এটি বয়সের ছাপকে দূর করে। এটি ত্বকের মৃতকোষকে দূর করে।

তৈলাক্ত ত্বক:‌

যাঁদের তৈলাক্ত ত্বক, তাঁদেরও বেশ কিছু সমস্যা দেখা যায়। ত্বক থেকে তেল বেশি করে বেরোতে থাকে। সেই কারণে ত্বকে ব্যাক্টিরিয়াল ইনফেকশন ও ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডস বা অ্যাকনের সমস্যা দেখা যায়। ত্বকের তৈলাক্তভাব কমায় এ রকম ক্লিনজার ব্যবহার করুন। অ্যালকোহল ফ্রি টোনার ব্যবহার করুন। জেল বেস সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। খেয়াল রাখুন এস পি এফ ৩০ এর কম যেন না হয়। ঘরে তৈরি করে নিন তৈলাক্ত ত্বকের উপযুক্ত প্যাক। কাঁচা পেপে বাটা ২ চামচ এবং এক চামচ অ্যালোভেরা জেল ও এক চামচ দই মিশিয়ে নিন। তার সঙ্গে দু’‌ফোটা  ‌ল্যাভেন্ডার অয়েল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। পেঁপে ত্বকের ট্যান দূর করতে সাহায্য করে। দই ত্বকের র‌্যাশ সারিয়ে তোলে। ল্যাভেন্ডার অয়েল ত্বককে সতেজ করে তোলে।
সাধারণ ত্বক :‌ সাধারণ ত্বকের ক্ষেত্রে খুব একটা সমস্যা দেখা যায় না। তবে বর্ষায় ত্বক অনুজ্জ্বল দেখাতে পারে। তাই এ সময় ত্বকে ব্যবহার করুন ক্ষারহীন অ্যান্টি– ব্যক্টিরিয়াল ফেস ওয়াশ। একটা আপেল বাটার সঙ্গে এক চামচ চিনি ও ৪ কাপ দুধ ভাল করে মিশিয়ে নিন। এরপর দু – চার ফোটা ক্যামোমিল অয়েল মিশিয়ে নিন। মুখে ভাল করে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ । তারপর ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে জেল্লা ফিরিয়ে আনে এই মিশ্রণ।

মিশ্র ত্বক:‌

এই ধরনের ত্বকের ক্ষেত্রে সাধারণত মুখের টি জোনে তৈলাক্তভাব লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ নাক এবং কপালে তেলাভাব বেশি থাকে। ঠান্ডা জলে দু’‌ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে দিন। এই জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই জল ত্বককে টোনিং করবে, তার সঙ্গে পরিষ্কারও করবে। এই ধরনের ত্বকের ক্ষেত্রে স্ট্রবেরি প্যাক খুব ভাল কাজ করে। আধ কাপ স্ট্রবেরি পেস্ট, এককাপ দই, দেড় চামচ মধু মিশিয়ে নিন। ত্বকে এই মিশ্রণ ব্যবহার করলে ত্বক কোমল হয়।‌

Please follow and like us:
20

Comments

comments