মাইগ্রেন সমস্যা এবং তার প্রতিকার সম্পর্কে জানুন

0
340
মাইগ্রেন সমস্যা এবং তার প্রতিকার সম্পর্কে জানুন
মাইগ্রেন

মাইগ্রেন সমস্যা এবং তার প্রতিকার সম্পর্কে জানুন

মাথাব্যথা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে এক প্রকারের মাথাব্যথা হলো ‘মাইগ্রেন।’ গ্রামদেশে যা সাধারণভাবে ‘আধ কপালি ব্যথা’ বলে পরিচিত। বস্তুত আজ থেকে পনের/বিশ বছর পূর্বে এই রোগের তেমন একটা প্রাদুর্ভাব ছিল না। কিন্তু সময়ের কালস্রোতে প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর ব্যাপকতাও ভীষণভাবে প্রসারিত হয়েছে। ঢাকা শহরের মতো জনবহুল, ধুলাবালি ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশের ন্যায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে মূলত এর প্রকোপ একটু বেশি লক্ষণীয়। যাহোক, এই মাইগ্রেন রোগটি বর্তমানে ধীরে ধীরে এত বেশি বিস্তৃতি লাভ করেছে যে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এর রূপ আরও ভয়াবহ হতে পারে। সুতরাং এর নানাবিধ দিক ও প্রতিকার সম্পর্কে এবং সর্বোপরি এই রোগের বিষয়ে বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা যেসব চিন্তা-ভাবনা করছেন তার উপর বিশদ ধারণা আমাদের জানা প্রয়োজন।

মাইগ্রেনের কারণঃ

বাস্তবিকপক্ষে মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আজও কোনো স্থির সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি। বিজ্ঞানীরা ১৯৬০ সালে মাথাধরা সম্পর্কিত এক গবেষণায় জানান, টেনশনের কারণে অনেক সময় মাথাব্যথা হয় এবং তার চিকিৎসাও সহজ। রক্তবাহী শিরাগুলো যখন মস্তিষ্কে ঠিকমতো রক্ত সরবরাহ করে না, তখন সেটাকে অনেকে মাইগ্রেনের ব্যথা হিসেবে চিহ্নিত করেন। টেনশন বা অন্য কারণেও এটা হতে পারে। তাছাড়া রক্তবাহী শিরাগুলো কখনও কোনো কারণে অতিরিক্ত রক্ত সরবরাহ করলে মাথাব্যথা হতে পারে। এই ব্যথা মাইগ্রেনের ব্যথার চেয়ে তীব্র; তবে তা মাইগ্রেনের ব্যথার সাথে বুঝতে ভুল হতে পারে।

ক) বংশগত প্রভাব : অন্যান্য ব্যথার তুলনায় মাইগ্রেনের ব্যথার উপর বংশগত প্রভাব বেশি- যা মূলত কোষের একক ‘জীন’-এর বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে। প্রমাণ স্বরূপ, নেদারল্যান্ডের লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির একদল নিউরোলজিস্ট একজন মাইগ্রেন রোগীর দেহ থেকে মাইগ্রেনের সাথে সংশ্লিষ্ট জীন পৃথক করেন। পরবর্তীতে ঐ রোগীর মাইগ্রেনের ব্যথা আর দেখা যায়নি। সেই গবেষক দলের নেতা ডা. মাইকেল ফেরি ১০টি পরিবারের ৬০ জন সদস্যের উপর গবেষণা চালিয়ে একই তথ্য প্রকাশ করেন।

খ) টেনশন/ দুশ্চিন্তা/ অস্থিরতা : যারা সবসময় ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে চিন্তাগ্রস্ত থাকেন বা দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাদের মাঝে এর প্রকোপ বেশি। তাছাড়া হঠাৎ করে কোনো বিপজ্জনক খবর বা আবেগপ্রবণ অবস্থা এই মাইগ্রেনের জন্ম দেয়।

গ) পরিবেশের প্রভাব : বর্তমানে আমাদের দেশসহ বিশ্বের বড় বড় শহরে ক্রমাগত জনসংখ্যার বৃদ্ধি পরিবেশকে অসহনীয় করে তুলছে। এরই মাঝে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন কর্তৃক বর্জ্য পদার্থ ও ধোঁয়া পরিবেশকে এমন এক অবস্থায় এনেছে যার প্রভাব আমাদের শরীরের উপর পড়ছে। আর এমনি এক প্রভাবের কারণ হিসাবে সৃষ্টি হয়েছে মাইগ্রেন। সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গ্রাম অঞ্চলের লোকদের চেয়ে শহর অঞ্চলের লোকদের মাঝে এর প্রভাব বেশি।

প্রতিকারঃ

ক) সাধারণ চিকিৎসা
ক.১ যে সব খাবার মাইগ্রেনের ব্যথাকে ত্বরান্বিত করে সেসব খাবার পরিত্যাগ করা। (যা কারণসমূহের সাথে বর্ণনা করা হয়েছে।
ক.২ যদি কোনো মহিলা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেতে থাকেন, তবে তিনি বড়ি খাওয়া বন্ধ রাখবেন এবং অন্য যে কোনো প্রকার বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করবেন।
ক.৩ পরিবেশগত কারণে যদি ধোঁয়া বা ধুলাবালি বা প্রচন্ড গরম বা শীতের বাতাসের মাঝে বের হতে হয় তবে মাস্ক বা রুমাল ব্যবহার করতে হবে।

খ) শাস্ত্রীয় চিকিৎসা
খ.১ সাময়িকভাবে আক্রান্ত সাধারণ মাইগ্রেন রোগীর চিকিৎসা
খ.১.১ ট্যাবলেট অ্যাসপিরিন (৬০০-৯০০ মি.গ্রা.) যা পানিতে দ্রবণীয় অথবা ট্যাবলেট প্যারাসিটামল (১ গ্রাম বা ২টা ট্যাবলেট)
খ.১.২ সাথে বমি বন্ধ করার জন্য ওষুধ, যেমন- Metoclopromide
(মেটোক্লোপ্রোমাইড) বাজারে যা মোটিলন, নিউট্রামিড, অ্যান্টিমেট বা মেটোসিড নামে পরিচিত অথবা প্রোক্লোরপিরাজিন ((prochlorperazine)) বাজারে যা স্টিমিটিল, ভারগন বা প্রম্যাট নামে পাওয়া যায়- এসব দেয়া যেতে পারে।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানষিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এর মাধমে অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগের বার বার আক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, সব মাথা ব্যথা মাইগ্রেন নয়, দৃষ্টি স্বল্পতা, ব্রেইনটিউমার, মাথায় রক্তক্ষরণ ইত্যাদি কারণেও মাথা ব্যথা হতে পারে, সেক্ষেত্রে চোখের ডাক্তারের পাশাপাশি স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন পড়ে।

Please follow and like us:
20

Comments

comments