পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ভুলে যাওয়ার রোগ দেখা যায়৷

0
10
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ভুলে যাওয়ার রোগ দেখা যায়৷

 ক’দিন আগেই হয়ত দেখা হয়েছিল কোনও একজনের সঙ্গে৷ আলাপও হয়েছিল৷ কিন্তু হঠাৎ মনে করতে চেয়েও কিছুতেই মনে করতে পারছেন না৷ কোনও একটা জিনিস হয়ত খুব যত্ন করে তুলে রেখেছেন কোথাও৷ কিন্তু কাজের সময় কিছুতেই আর মনে করতে পারছেন না যে কোথায় রেখেছেন৷ এরকম হতে থাকলেই অনেকে ভয় পান৷ ভাবেন, এই বুঝি অ্যালঝাইমার্সের পূর্বলক্ষণ৷ কিন্তু সত্যিই কি তাই! এত গুরুতর কিছু, নাকি ছোটখাটো অবহেলার কারণেই এই অবস্থা? ভুলে যাওয়ার রোগ মানেই বড় অসুখ নয়৷ বরং ছোটখাট কিছু জিনিস খেয়াল রাখলেই এর প্রতিকার মেলে৷

                                                     পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ভুলে যাওয়ার রোগ দেখা যায়৷

শব্দ নিয়ে খেলতে থাকলে ভুলে যাওয়ার সম্ভবনা কমে৷ ধরুন মেলের পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে এমন একটা পাসওয়ার্ড দিলেন, যার এক একটা অক্ষর এক একটি শব্দের আদ্যাক্ষর৷ আর সবগুলো মিলিয়ে একটা বাক্য, যা হয়ত আপনার জীবনের খুব প্রিয় কোনও ঘটনাকে বর্ণনা করছে৷ এরকম পাসওয়ার্ড থাকলে ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই৷ এটিএম পিনের ক্ষেত্রেও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সংখ্যা ব্যবহার করা যেতে পারে৷

লিখে ফেলা

কোনও দরকারি জিনিস চট করে কোথাও লিখে রাখুন৷ পরে যদি হাতের কাছে লেখা কাগজটি নাও পান, তবু কী লিখেছেন মনে করতে গিয়ে অনেকসময় আসল জিনিসটা মনে চলে আসে৷ পড়ার পর ছাত্রদের ঠিক যে কারণে লিখতে বলা হয় এখানেও সেই একই যুক্তি কাজ করে৷ লেখার অভ্যেস ভুলে যাওয়ার হাত থেকে আপনাকে বাঁচাবে৷

স্মৃতিকে চ্যালেঞ্জ করুন

আসলে চ্যালেঞ্জ জানান মস্তিষ্ককে৷ ক্রসওয়ার্ড পাজল খেললে এরকম মস্তিষ্কের ব্যায়াম হয়৷ এতে অনেক ভুলে যাওয়া জিনিসও মনে পড়ে যায়৷

বারবার এক জিনিস বলা

ধরা যাক নতুন কোনও নাম বা ঠিকানা আপনাকে মনে রাখতে হবে৷ সেই শব্দটি বারবার করে বলতে থাকুন৷ এক কথা বারবার বললে তা মনে থেকে যেতে বাধ্য৷

লাইফস্টাইল

স্মৃতিভ্রংশের জন্য অনেকাংশেই দায়ী লাইফস্টাইল৷ অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে  কোলেস্টেরল, ব্লাড প্রেসার ও ব্লাড সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়৷ এর ফলে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হয়৷ এবং স্মৃতিশক্তিও কমে যায়৷  চর্বি ও স্নেহপদার্থ জাতীয় খাবার যারা বেশি খান তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যেতে পারে৷ সুতরাং জীবযাপনের ধরন বদলালে কিন্তু সুরাহা মিলতে পারে৷

ধূমপান ও মদ্যপান

ধূমপানে নিকোটিন জমা হওয়ার ফলে রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এতে প্রভাব পড়ে স্মৃতিশক্তিতে৷ অন্যদিকে, যাঁরা মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করেন তাঁদের ক্ষেত্রেও স্মৃতিভ্রংশ রোগ দেখা দেয়৷ ফলে এ দুটো বিষয় যত এড়ানো যায় ততই মঙ্গল৷ এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হলেও ভুলে যাওয়ার রোগ দেখা যায়৷

এই কটা জিনিস মনে রাখলেই কিন্তু আপনার আঙ্কেল পজারের দশা হবে না৷ কে আঙ্কেল পজার? ওই যা মনে করতে পারছেন না! নিন, মেমরি গেমটা তাহলে এখান থেকেই শুরু হোক৷

Please follow and like us:
20

Comments

comments