মালয়েশিয়ায় অপহব়নের শিকার বাংলাদেশিরা

1
7
Kidnap in malaysia

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর হামলা ও অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে এ রকম কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। অর্থ না পেলে হত্যা করছে অপহরণকারী চক্র। শনিবার মালয়েশিয়ায় কয়েকটি গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর হামলা ও অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে এ রকম কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। অর্থ না পেলে হত্যা করছে অপহরণকারী চক্র। শনিবার মালয়েশিয়ায় কয়েকটি গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।

দেশটির জনপ্রিয় পত্রিকা স্টার জানিয়েছে, সুবাং জায়া শহরের একটি স্টোরে ২২ জানুয়ারি কাজ করার সময় ৩৯ বছর বয়সি এক বাংলাদেশিকে অপহরণ করা হয়। তার মুক্তির জন্য চার লাখ রিঙ্গিত দাবি করে অপহরণকারী চক্রটি। এই বাংলাদেশি অল্প বেতনে ওই স্টোরে কাজ করতেন।

সুবাং জায়া পুলিশের সহকারী কমিশনার ইয়াহায়া রামলি জানান, ২২ জানুয়ারি রাত সাড়ে নয়টায় ইউএসজে-১৪ নামের ওই স্টোরে কাজ করার সময় তাকে অপহরণ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুইজন মালয়েশীয় অজ্ঞাত একটি সাদা গাড়িতে এসে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনে তার আত্মীয়ের কাছে চার লাখ রিঙ্গিত দাবি করে মুক্তিপণ হিসেবে। হুমকি দেওয়া হয়,এ অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে তাকে হত্যা করা হবে।

ইয়াহায়া রামলি জানান, এ অবস্থায় শুক্রবার বাংলাদেশে থাকা অপহৃতের স্ত্রী মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত তার এক আত্মীয়কে ফোন করে সব ঘটনা খুলে বলেন। মালয়েশিয়ায় থাকা ওই ব্যক্তি সরাসরি মালয়েশীয় পুলিশে অভিযোগ দেন। পুলিশও নেমে পড়ে অভিযানে। বাংলাদেশে থাকা অপহৃতের আত্মীয়রা অপহরণকারীদের সঙ্গে ৩০ হাজার রিঙ্গিতের একটি সমঝোতায় পৌঁছান। বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে এই অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

স্টারের খবরে বলা হয়, ওই অপহরণে জড়িত থাকার সন্দেহে ২৫শে জানুয়ারি সেমেনিয়ে এলাকার একটি রেস্তোরাঁ থেকে মিয়ানমারের দুই শ্রমিককে আটক করে পুলিশ।

সুবাং জায়া পুলিশের সহকারী কমিশনার বলেন, তাদের দেওয়া তথ্যমতে- আমরা বাতু কেভসের এক হোটেল রুম থেকে ৪২ বছর বয়সি এক মালয়েশিয়ানকে গ্রেফতার করি। আমাদের ধারণা এ ব্যক্তিই অপরাধের মূলহোতা। তিনি মালয়েশিয়ায় ছয়টি বাণিজ্যিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

তিনি বলেন, তার কাছ থেকে পুলিশ তিনটি মোবাইল ফোন ও অপহৃত বাংলাদেশির মানিব্যাগ উদ্ধার করে। মানিব্যাগে ছিল দুই হাজার রিঙ্গিত। এছাড়া ওই ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ভুয়া অথরিটি কার্ড, প্রধানমন্ত্রীর ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একটি ব্যাজ।

ইয়াহায়া রামলি জানান, তার গ্রেফতারের দুই দিন পর শুক্রবার ওই বাংলাদেশিকে সাঙ্গাই রিক্রিয়েশনাল ফরেস্ট এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সেখান থেকে ১৯ বছর বয়সি মিয়ানমারের এক শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় এক বাংলাদেশি ও এক মিয়ানমারের নাগরিক পালিয়ে যায়। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো সাত হাজার রিঙ্গিতও উদ্ধার করা হয় এ সময়।

এদিকে এশিয়ান অনলাইন নামের একটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত মাসে দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে অপহরণ করে ৫০ হাজার রিঙ্গিত মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তার পরিবারটি চক্রটিকে ২৭ হাজার রিঙ্গিতও দিয়েছিল। এরপরও তাদের মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে জেনটিং হাইল্যান্ডসের কাছে একটি জঙ্গল থেকে অপহৃত দুই বাংলাদেশির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে শনিবার নিউ স্ট্রেটস টাইমস অনলাইনের এক খবরে বলা হয়েছে, আরা দামানসারা শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে গত রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন সাত বাংলাদেশি শ্রমিক। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে একদল ডাকাত তাদের ওপর হামলা চালায় এবং অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় ডাকাত দলের একজনকে আটক করেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা।

জেলা পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার মোহাদ জানি বলেছেন, অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট দেখতে চায় ওই ডাকাত দল। একজন ডাকাত তার সঙ্গে ল্যাপটপ আনে। সে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট এটা দিয়ে পরীক্ষা করতে চায়। এর কিছুক্ষণ পর সে বলে, চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় ল্যাপটপ বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর তাদের ঘর তল্লাশি করতে থাকে ডাকাতরা।

তিনি জানান, একপর্যায়ে বাংলাদেশিদের হাত বেঁধে ফেলে ডাকাত দল। এ সময় বাংলাদেশিদের সাতটি মোবাইল ফোন ও ১৭ শত রিঙ্গিত নিয়ে চলে যেতে চায় তারা। কিন্তু বাংলাদেশিরা তাদের ধাওয়া দিলে একজন ডাকাতকে ধরে ফেলে। বাকিরা পালিয়ে যায়।

দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ার নাগরিকদের দ্বারা গঠিত একটি চক্র এই অপহরণ ও হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তারা বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। চক্রটির সব সদস্যকে ধরার চেষ্টা চলছে।

Please follow and like us:
20

Comments

comments

  • Hasan

    Sad news! 🙁